মেইন ম্যেনু

স্যাটেলাইটের যুগেও সব কিছু রাজধানী কেন্দ্রিক কেন?

ব্যাল্যান্স বা ভারসাম্য কী? কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? আদৌ সম্ভব কিনা তা নিয়ন্ত্রণ করা? মানবজাতির দৈনন্দিন জীবনের ২৪ ঘণ্টাকে যদি তিন ভাগে ভাগ করি যেমন ৮ ঘণ্টা ঘুম, ৮ ঘণ্টা কাজ, বাকি ৮ ঘণ্টা যা খুশি তাই করা।

ব্যাল্যান্সটি বেশ নিয়ন্ত্রণে। এখন যেহেতু আমরা সামাজিক জীব এবং বাস করছি পৃথিবীতে। যেখানে রয়েছে নানা ধরণের বাঁধাবিঘ্ন বা সুবিধা-অসুবিধা। সব মিলে সম্ভব হয়ে উঠেছে কি ব্যাল্যান্স ঠিক রাখা? উঠছে না।

তখন আমরা হয় এডজাস্ট করে চলি অথবা অনিয়মের মধ্যে দিয়ে চলি। যেমন ৮ ঘণ্টা কাজের জায়গা হয় ১০ ঘণ্টা বা কোন সময় ৬ ঘণ্টা। যার কারণে বাকি যে ১৬ ঘণ্টা ছিল, তাও ছিল ৮ ঘণ্টা করে তা আর ঠিক রাখা সম্ভব হয় না।

ফলে ব্যাল্যান্স যে ভাবে থাকার কথা তা থাকছে না। ব্যাল্যান্স যখন তার গতিতে চলতে পারছে না তখন হচ্ছে ডেভিয়েশন বা চ্যুতি। আর এই ডেভিয়েশন তৈরি করছে উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ বা ঘটছে নতুনত্বের আবির্ভাব।

যা হয় সমাজের জন্য কখনও মঙ্গলজনক বা অমঙ্গলজনক। বাংলাদেশে ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে বয়ে গেল ঝড় সারাদেশ জুড়ে। স্কুলের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা চোখের ভেতর আঙুল দিয়ে ধরিয়ে দিল সবার ভুল ত্রুটি।

দুই তিন সপ্তাহ না যেতেই চলে এলো ঈদুল আযহা। তাই হঠাৎ সবাইকে তার আপনজনের কাছে যেতে হবে তাও একই সময়ে। কি করা! ট্রাফিকের নিয়ম অনুযায়ী সীমিত যানবাহন চলাচলের, ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে পুরোদেশে।

আমরা তা ছোটবড় সবাই জানি। কিন্তু হঠাৎ অকেশনালি বর্তমান চাহিদার তুলনায় দেখা গেল সম্ভব হয়ে উঠছে না নিয়ম মাফিক ও নিরাপদে যানবাহন চালানো। পৃথিবীর কোথাও এমনটি নিয়ম নেই যে গাড়ির বা ট্রেনের ছাদে করে যাত্রী চলাচল করতে পারে।

তবুও সরকার, যানবাহনের মালিক এবং জনগণ হঠাৎ সব নিয়ম কানুনের কোরবানি দিয়ে যার যার খুশি তাই করছে কোন বাধা ছাড়া। সবাই জানে যে একটি অঘটন ঘটলে কী পরিমাণ প্রাণ হারাবে মানুষ। তারপরও হচ্ছে কি ভারসাম্য রক্ষা করা?

হচ্ছে না। কারণ কী? সব সময় যদি “hand to mouth” কনসেপ্ট ব্যবহার করা হয় তখন এমনটিই ঘটে থাকে। যে সমস্যাগুলো আমাদের নিজেদের তৈরি সে সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদেরকে শর্ট এবং লং টার্ম পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এগোতে হবে।

একটি দেশ চালাতে হলে সেই দেশের ভৌগলিক ক্যাপাসিটি বা ক্যাপাবিলিটি সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণ জ্ঞান থাকতে হবে। আছে কি সেটা আমাদের? তাহলে কীভাবে সব কিছুই ঢাকাতে স্থাপন করা হচ্ছে দিনের পর দিন?

পুরো দেশের সব কিছুই হতে হবে ঢাকাতে। তার প্রমাণ নৌ-বাহিনীর হেড কোয়াটার, বনজ সম্পদের হেড কোয়াটার, কবর স্থানের হেড কোয়াটার সব কিছুই ঢাকাতে।

তাহলে শুধু ট্রাফিক নয় সর্বক্ষেত্রে সমস্যা একই হবে বা হচ্ছে। এর থেকে রেহাই পেতে হলে ঢাকাকে ফাঁকা করতে হবে প্রথমে এবং তা সম্ভব ডিসেন্ট্রালাইজেশনের মধ্যে দিয়ে। ৬৪টি জেলার ভূমি ও অবকাঠামোকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করা খুবিই প্রয়োজন।

হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করে স্যাটেলাইট পাঠান হয়েছে মহাকাশে। সেই স্যাটেলাইটের যুগে আছে কি দরকার সব কিছু এক জাগায় থাকা? রাজধানীকে দুষণমুক্ত এবং বসবাসের উপযুক্ত করতে হলে সত্ত্বর সরাতে হবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে।

যা কোন অবস্থাতেই ঢাকাতে থাকার কথা নয়। এতে করে উন্নত হবে পুরো দেশ এবং দেশের জনসংখ্যার ডিস্টিবিউশন ও লজিস্টিকের ভারসাম্যতা থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

মানবজাতির অধঃপতন তখনই ঘটে যখন তারা শুধু নিজেকে নিয়ে এবং ক্ষণিকের সময়টুকু নিয়ে ভাবে। তারা যখন নতুন প্রজন্মদের ভুলে যায় তখনই হিসাবের গড়মিলটা বড় আকারে দেখা দেয়।

ধরা যাক, বর্তমান সরকারের পতন ঘটিয়ে নতুন সরকার যদি কালই গঠন করা হয়, কি মনে হয়? আগামী রমজান মাসে কেউ কি ছাদে করে নিয়ম ভেঙ্গে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাবে না? নিয়মের বাইরে কিছু করবে না? না তা হবে না।

কিছু লোক পাল্টাবে, তাদের ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধার জন্য তারা কিছু নিয়মকে অনিয়মের আওতায় আনবে। সঙ্গে নতুন সমস্যা এবং আগের পুরনো সমস্যার বোঝা বাড়াতে থাকবে।

সহজ ভাষাতে বলতে হয় ব্যাংকে ঋণ রয়েছে, নতুন ঋণ নিয়ে কিছু পুরনো ঋণ শোধ দেওয়া। সঙ্গে সুদে মূলে নতুন ঋণের বোঝা বাড়ানো। উদাহরণ, গ্রামীণ ব্যাংকের ধার শোধ করতে ব্র্যাক ব্যাংকে যেতে হবে তারপর আশা ব্যাংকে এবং সর্বশেষে হতে হবে সর্বহারা!

এমনটি যদি জাতির ম্যানেজমেন্ট স্টাইল হয়, তাহলে বাংলাকে সোনার বাংলা করা হবে কি? হবে না। বাংলা হবে কোটি কোটি মানুষের অভিশাপের বাংলা, দুর্নীতির বাংলা, অন্যায় অত্যাচারের বাংলা।

ঋণমুক্ত, অভাবমুক্ত ও সুন্দর সোনার বাংলা পেতে হলে মানবতা ও মনুষ্যত্বের ভারসাম্য রক্ষা করা দরকার আগে এবং এর জন্য দরকার সবার মাইন্ডসেট পরিবর্তন। তা না হলে সম্ভব হবে না বাংলাদেশের ভারসাম্য বা ব্যাল্যান্স নিয়ন্ত্রণ করা।

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে



মন্তব্য চালু নেই