মেইন ম্যেনু

৪০০ কেজি ওজনের সুমো পালোয়ানরা কী খায়?

সুমো পালোয়ানরা বিশালাকৃতির হয়। তাদের ওজন হয় ২৫০ থেকে ৪০০ কেজির মতো। একজন সুমো কুস্তিগীর হয়ে ওঠা কিন্তু মোটেই সহজ নয়। এই পালোয়ানদের কঠোর শৃঙ্খলা এবং নিয়মানুবর্তিতা অনুসরন করতে হয়। সারাদিন নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট কিছু খাবার খেতে হয় তাদের।

সাধারণ মানুষের থেকে একজন সুমো পালোয়ান আট থেকে দশ গুণ বেশি খাবার খেয়ে থাকেন। তবে তাঁরা কখনো সকালের নাস্তা করেন না। হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য সকালে খালি পেটে অনুশীলন করেন এরা। ফলে ভারী মধ্যাহ্নভোজ করতে পারেন।

সুমো পালোয়ানদের সবচেয়ে পছন্দের খাবার হল ‘চাঙ্কো নাবে’ নামের বিশেষ ধরনের স্ট্যু। নাবে অর্থ পাত্র বা বাটি। আর চাঙ্কো অর্থ নিজেদের হাতে বানানো খাবার। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটা খাচ্ছে তাঁরা। বিশেষ ধরনের এই স্ট্যু-তে সবজি, মাছ, টোফু, ক্যালরি সমৃদ্ধ মোচি, স্টার্চের তৈরি কেক ও মাংস থাকে।

একটা দেশলাই বাক্সের আকারের মোচিতে এক বাটি ভাতের সমান ক্যালরি থাকে। এক বাটি চাঙ্কো নাবেতে এরকম ছয় থেকে সাতটি মোচি থাকে। দিনে প্রায় ২০ হাজার ক্যালরি প্রয়োজন হয় সুমো পালোয়ানদের। যেখানে একজন সাধারণ মানুষের প্রয়োজন হয় মাত্র ২ হাজার ক্যালরি। খাবারের সঙ্গে অনেকে পাঁচ-ছয় বোতল বিয়ারও খেয়ে ফেলেন।

দুপুরের খাবারের পর সুমো পালোয়ানদের একটু ঘুমের দরকার হয়। সেই ঘুমের পরিমাণ হল চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা মাত্র।

প্রশিক্ষণকালীন সময়ে নিজের খাবার নিজেকেই বানাতে শিখতে হয় কুস্তিগীরদের। খাবারে কী পরিমাণ লবণ বা সস দিলে ক্যালরি বেশি পাওয়া যাবে তাও জানতে হয় তাদের। কোন স্যুপ খেলে খিদে বাড়বে এগুলোও শেখানো হয় প্রশিক্ষণার্থীদের।

রাতেও ভারী খাবার খান সুমো কুস্তিগীররা। চিংড়ি, মুরগি এবং গরুর মাংস থাকে তাদের রাতের খাদ্য তালিকায়। ডিনার শেষ করেই ঘুম দেয় এই পালোয়ানরা।

জাপানে প্রায় ২ হাজার বছর ধরে প্রচলিত এই সুমো কুস্তি। এটিই দেশটির জাতীয় খেলা।

সাধারণত ১৫-১৬ বছর বয়সে সুমো প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়। প্রতিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আলাদা ঐতিহ্য আছে। এ কারণে খাদ্য তালিকাতেও সামান্য পরিবর্তন দেখা যায়। জাপানের কিছু নির্দিষ্ট রেস্তোরাতে সুমো কুস্তিগীরদের খাবার বিক্রি হয়। পর্যটকদের মাঝে এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক।



মন্তব্য চালু নেই