কিছু পেলাম না মনের মতন || অনিন্দ্য আসাদ

কিছু পেলাম না মনের মতন
অনিন্দ্য আসাদ


বুকের কষ্টেরা যখন
মিছিলে মিছিলে উম্মত্ততায়
মেতেছে নতুন তান্ডবে,
তখন হৃদয় সমস্ত কষ্টকে
উপেক্ষা করেই খুঁজতে লাগলো
কষ্ট ধরে রাখবার একজন বন্ধু।
তাইতো সে আকাশের দিকে চেয়ে
আকাশকে বলতে লাগলো
“আকাশ আমার বন্ধু হবি?”
“আকাশ তুইকি কষ্ট নিবি?”

এরপর কবি তার সমস্ত কষ্টকে
আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিলো,
সুনীল আকাশ কবির কষ্টকে
সইতে নাপেরে বৃষ্টির জলেই
কবিকে ভিজিয়ে দিলো।

তারপর কবি গেলো
থৈ থৈ করা গভীর নদীর নিকটে
নদীকে জিঞ্জেস করলো
“আমার বন্ধু হবি?”
“আমার কষ্ট নিবি?”
কবি তার সমস্ত কষ্টকে
নদীর বিশাল বুকেই ভাসিয়ে দিলো।
অথৈ নদী কবির কষ্টকে
সইতে না পেরে বানের জলেই
কবিকে তলিয়ে দিলো।

এরপর কবি গেলো
বাগানে ফুটন্ত ফুলের কাছে,
ফুলকে সুধালো
“আমার বন্ধু হবি?”
“আমার কষ্ট নিবি?”
তারপর কবি তার সবটুকু কষ্ট
ফুলের কোমল ববুকে রেখে দিলো,
ফুল কষ্ট সইতে না পেরে
কাঁটার আঘাতে কবিকে করলো রক্তাক্ত।

এরপর কবি গেলো সুন্দর মুখের মানুষের কা্ছে
মানুষকে কবি বললো
“মানুষ আমার কন্ধু হবি? আমার কষ্ট নিবি?”
কবি তার সমস্ত কষ্টকে
মানুষের হাতে তুলে দিলো
মানুষ তা বইতে না পেরে
প্রতিহিংসার আঘাতে আঘাতে
কবিকে করলো ক্ষতবিক্ষত।

সবার আঘাত সহ্যকরে কবি গেলো
কবিতার কাছে, সব শুনে কবিতা কবিকে
আপন করে বুকে তুলে নিলো।
কবি মুখ তুলে বললো –

“কবিতা কখনো ফিরিয়ে দেয়না,
কবিতা কখনো আঘাত করেনা,
কবিতা নতুন করে পথ চলতে শেখায়
কবিতা নতুন করে বাঁচতে শেখায়।”