‘খালেদার অসুস্থতার চেয়ে রাজনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি’

বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি না করতে মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির প্রতি আহবান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে নির্মাণাধীন দ্বিতীয় মেঘনা-কাঁচপুর সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি আহবান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার অমানবিক নয়। সরকার বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে বিএনপি বেগম জিয়ার অসুস্থতার চেয়ে রাজনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তার অসুস্থতা নিয়ে এখন তারা রাজনীতি করার পথ বেছে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সেতুমন্ত্রী ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিরোধীদল না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ না হলেও শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিরোধীদল অংশগ্রহণ করলে এই নির্বাচনটি আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো বলে তিনি মনে করেন।

পাক-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা ও অস্থিরতা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। উপমহাদেশের ক্রসবর্ডার টেরোরিজম বা সীমান্ত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়েছে। সীমান্তে যেসব সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু, দ্বিতীয় মেঘনা সেতু ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুটি উদ্বোধন করা হবে। তিনি জানান, আগামী ১০ মার্চ কাঁচপুরের সেতুটি প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। মেঘনা সেতু ও গোমতী সেতু পর্যায়ক্রমে এপ্রিল ও মে মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই তিনটি সেতু চালু হলে ঢাকা-চট্ট্রগাম মহাসড়কে ঈদের সময়ে কোনো ধরনের যানজট সৃষ্টি হবে না এবং সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা করতে পারবে। কাউকে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সেতু পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ প্রশাসন এবং সড়ক-জনপথ ও সেতু বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।