পর্দার আড়ালেই থাকছে নকল প্রসাধনীর কারখানা

চকবাজার অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন তুলে দেয়ার দাবি উঠলেও পর্দার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে নকল ও ভেজাল প্রসাধনীর কারখানা।

অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসস্তূপে পরিণত ওয়াহেদ ম্যানশনে সন্ধান মিলেছে এমনই এক ভেজাল প্রসাধনী কারখানার। ওই কারখানায় থাকা লাখ লাখ বোতল পারফিউম ও পারফিউম তৈরির কাঁচামাল আগুনের ধ্বংসযজ্ঞ বাড়িয়েছে বহুগুণ।

চুড়িহাট্টা ট্রাজেডিতে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওয়াহেদ ম্যানশনের দ্বিতীয় তলার এই অংশ। যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পারফিউম, বডি স্প্রেসহ নানা সামগ্রী। এই সামগ্রীগুলোর প্রত্যেকটিতেই যে লেবেল রয়েছে সেগুলোতে উন্নত দেশের নাম রয়েছে। যদিও এলাকাবাসী বলছেন এর একটি সামগ্রীও বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো না।

সবগুলোও এখানে উৎপাদন হতো এবং এখান থেকেই বাজারজাত করা হতো। আর এই সামগ্রীগুলোই কিন্তু আগুনের মাত্রা বাড়িয়েছে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা লাভের আশাই কি কাল হলো চকবাজারবাসীর?

পুরো ফ্লোর জুড়েই লাখ লাখ বোতল। এর অধিকাংশই গলে গেছে আগুনের তাপে। তবে যেকটি এখনো অক্ষত রয়েছে তার কোনটিতে স্পেন, কোনটিতে জার্মানি, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের লেবেল। আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে এভাবে দাহ্য পদার্থের কারখানা গড়ে উঠলেও বিষয়টি জানেন না কেউই। বড় এই প্রশ্নটিই কুঁড়ে খাচ্ছে সবাইকে।

শুধু দ্বিতীয় তলাই নয়, ভবনটির তৃতীয় ও চতুর্থ তলাতেও ছিল এমন দাহ্য পদার্থের মজুত। সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে এসব সামগ্রী। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের লোভের দায় মেটাতেই নিভে গেলে কিছু অসহায় প্রাণ।

চকবাজারের বাইরেও পুরান ঢাকার অধিকাংশ এলাকাতেই ছড়িয়ে পড়ছে এমন অবৈধ-নকল প্রসাধনীর কারখানা। এর পেছনে বাড়িওয়ালাদের বেশি ভাড়া পাওয়ার লোভ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীদের রাতারাতি বড়লোক হওয়ার মানসিকতা।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকাতে কেউ ভাবতে পারবে না যে নকল প্রসাধনীর কারখানা থাকতে পারে। এমটা একটা জায়গা ভাড়া নিয়েছেন। তাই বাড়ির মালিকরা যদি কারখানার জন্য বাসা ভাড়া না দেন তা হলে এই ধরণের দুর্ঘটনা ঘটবে না।

শোক থেকেই শিক্ষা নিয়েই ফের ঘুরে দাঁড়াক পুরান ঢাকাবাসী। বন্ধ হোক আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রতিযোগিতা।