‘বেতন যদি না পাই, তাহলে লাশ হয়েই বাড়ি ফিরব’

বেতন না পেলে বাড়ি ফেরার মুখ নেই। বেতন যদি না পাই, তাহলে এখান থেকে লাশ হয়েই বাড়ি ফিরব। কিন্তু, অনশন ভাঙব না, এখানেই বসে থাকব। এভাবেই নিজের ক্ষোভের কথা ব্যক্ত করেন বরগুনা থেকে আসা মাদ্রাসা শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান।আলাপে জানা গেল, বিগত ২৯ বছর ধরে তিনি বরগুনা পাথরঘাটা উপজেলার পশ্চিম বড় টেংরা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

খলিলুর রহমান বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবি না মানলে এখানেই না খেয়ে মরব, বাড়ি ফিরে যাব না।’

তিনি এও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দাবি মেনে নিবেন। বাড়িতে গিয়ে না খেয়ে থাকার চেয়ে এখানেই না খেয়ে মরি।’

শুধু খলিলুর রহমান নন, তার মত মাদ্রাসার কয়েকশ’ শিক্ষক-শিক্ষিকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিগত ১৬ দিন ধরে আন্দোলন করেছেন।

সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে যার কাছেই কিছু জানতে চাওয়া হচ্ছে, কান্নায় তার গলা আটকে আসছে। এক পর্যায়ে তারই বিস্ফোরণে অন্যরা হাউমাউ করে কান্না করছেন।

অনশনকারীর সবার মুখে এখন একটাই প্রশ্ন- আর কত দিন না খেয়ে রাস্তায় ঘুমালে তারা সরকারের নজরে আসবেন, বেতন পাবেন? কবেই বা পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরতে পারবেন?

মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার এমপিওভুক্তির দাবিতে অষ্টম দিনের মত অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।

তীব্র শীত আর অনাহারে আন্দোলনকারীদের মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৮৬ শিক্ষক-শিক্ষিকা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, একই পরিপত্রে ১৯৯৪ সালে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করা হয় ৫০০ টাকা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী পঞ্চম শ্রেণির কার্যক্রম একই হলেও ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে সরকার।

এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি মাসে ২২ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন হলেও ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা সরকারের থেকে কোনো বেতন পান না।

প্রসঙ্গত, জাতীয়করণের দাবিতে গত ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকরা।