ভোটে সেনা মোতায়েনে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী : কাদের

সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বললেও তাতে দ্বিমত করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ ওবায়দুল কাদের। তিনি মনে করেন প্রয়োজন ছাড়া ভোটে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা ঠিক হবে না। আর সেনাবাহিনী যেহেতু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এজন্য এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার সকালে ফেনীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুরে নির্মাণাধীন রেলওয়ে ওভারপাস পরিদর্শনে আসেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন।

চলতি বছরের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করা বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো শুরু থেকেই আগামী নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে সরকারি দল থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে। তবে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার পক্ষে নন ক্ষমতাসীনরা।

সম্প্রতি বরিশালে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। তবে কী প্রক্রিয়ায় সেনা মোতায়েন করা হবে সেটা তিনি পরিষ্কার করেননি। সিইসির এই বক্তব্যের পর আগামী নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।

আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সেনা মোতায়েন হবে পরিস্থিতি অনুযায়ী। সেনাবাহিনী একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন সময় নির্বাচনে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকে। সেনাবাহিনী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রয়োজন না হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে না। সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করা যাবে না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ঈদযাত্রা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। সড়কপথ রেলপথ ও নৌপথে ঘরমুখি মানুষ আনন্দে রওয়ানা হয়েছে। বৃষ্টি বাদল, তুমুল বর্ষণ উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষ বাড়ি পৌঁছেছে। নির্বিঘেœ চলতে পেরে মানুষ দারুণ খুশি।’ এজন্য জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, র‌্যাব ও মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।

শহীদ বুদ্ধিজীবী সেলিনা পারভিনের ছেলে সুমন জাহিদের মৃত্যুর কারণ অধিকতর তদন্ত হচ্ছে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘এটি বড়ই উদ্বেগের বিষয়। কিছুদিন আগে মুন্সীগঞ্জেও এ ধরনের একটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায়, পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকম, ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ঢাকাস্থ ফেনী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ, জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল প্রমূখ।