মিস ইউ || ওমর ফাইয়ায

এবার তোর সাথে দেখা হলে সত্যি আমার কাছে কিল খাবি।
আর আমি কি করবো? ফুস্কা খাওয়াবো?
কি করবো জানিস?
কি করবি?
বুড়িগঙ্গার পাশে সোজা করে দাঁড় করাবো তারপর ব্যাক সাইডে একটা লাত্থি মেরে ময়লা পানিতে ফেলে দিবো।
চুপ হারামি,চুপ কর!
এবার আসল কথায় আস, তুই এই দুইদিন কই ছিলি?ফেসবুকেও নাই আবার একবার কলও দিলিনা,কল দিতে দিতে জ্বালাই মারিস আর দুই দিনে একবারও কল দিলিনা, বল সত্যি করে বল!
আমি খুব বিজি ছিলাম তাই!
এটা তো জানিই বাট কি নিয়ে এত বিজি যে আমাকে দুদিনে একবারও কল দেওয়ার সময় পেলিনা।মানুষের যদি একশ কাজ থাকে একশটাই পূর্ণ করতে পারেনা কিছু পারে, ঐ কাজগুলোই পারে যে গুলো তারকাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।তো কী গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিলো?
পারিবারিক বিষয় বলতে পারবোনা।
তুই তো আমার কাছে কিছুই লুকিয়ে রাখিসনা এখন খুব সতর্ক হয়েছিস! ইট’স ওকে।তো কী করছিস?
ঘুম আসছে!
রাতভর কি গাঞ্জা টানছিস?
বেশি বক বক করবিনা।
আমার তোর লগে বক বক করতে ভালো লাগে!অনেক দিন দেখা হয়না কবে দেখা হবে?
এই তো হবে কয়েকদিন পর।
অনেক ঘুম আসছে রে দোস্ত ঘুমাই।
বাস্তবে ঘুম আসছেনা, নিজের মধ্যে কিছুটা অপরাধবোধ কাজ করছে!রাত বারোটা,ঘড়ির কাটার শব্দ হচ্ছে,এই যুগে দেয়াল ঘড়ির প্রয়োজন নেই তবুও আব্বু প্রত্যেকটা ঘরে একটা করে ঝুলিয়ে রেখেছে,সময় দেখার জন্য নয় এটা নাকি ঘরের সৌন্দর্য। যত রাত বেশি হয় ঘড়ির কাটার শব্দ প্রকট হয় যেন হাতুড়ি দিয়ে কেউ আঘাত করছে,এই হাতুড়ির শব্দে আমার ঘুমের প্রবলেম হচ্ছে ঘরিটা নামিয়ে ব্যাটারী খুলে রাখা দরকার এই দরকারী কাজটা করা আমার পক্ষে এখন অসম্ভব,একবার কম্বলের নিচে চলে গেলে সাধারণ কোন কাজ আমাকে উঠিয়ে আনতে পারেনা।
ঘুমানোর সময় সাধারণত যে চিন্তা করা হয় সেটাই স্বপ্নে এসে হাজির হয় ঘড়ির চিন্তা করে ঘুমালে হয়তো স্বপ্নে ঘড়ি সাপের মত কিছু একটা হয়ে আমাকে ধাওয়া করবে, ধাওয়া খেয়ে আমি দৌড়াতে চাইবো কিন্তু শত চেষ্টা করেও পারবোনা হাত পা অবশ হয়ে যাবে,এমনও হতে পারে আমার পাখা হয়ে যাবে, আমি উড়ে যাবো,কিন্তু একসময় আর উড়তে পারবোনা অনেক চেষ্টা করেও পারবোনা,চিৎকার করার চেষ্টা করলেও মুখ থেকে কোন কথা বের হবেনা, ভয়ে ঘেমে যাবো,হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাবে দেখবো হৃদপিণ্ড লাফাচ্ছে, আর কম্বলের নিচে আমি ভিজে জবজবা!
না এখন বড় হইছি এখন এসব দেখমুনা এখন দেখবো হুট করে আমার পাশে লাবিবা!নীল শাড়ি কালো পাড়,ঠোঁটে টকটকে লিপস্টিক, ওর লিপস্টিক না নিলেও চলে এমনিতেই মনে হয় সামান্য টোকা লাগলেই ঠোঁট ফেটে রক্ত বেরিয়ে যাবে,মেয়েদের চোখে কাজল দেওয়া জরুরী এই জরুরী কাজটা লাবিবা করে নাই,কিন্তু আই ভ্রু লাগিয়েছে, নাকে কোন ফুল না দিয়ে সুতা দিয়ে বেঁধে রেখেছে কিন্তু এতেই অসম্ভব লাগছে,চোখের পাতায় কি যেন লাগিয়েছে রোদে কিছুটা চমক দিচ্ছে, কিছু বলার আগেই হাসছে এক বাক্য বলতে গিয়ে তিনবার হাসছে।
কিরে কেবলা কেমন আছিস?হা হা হা।
লাবিবা তুই এখানে? মানে কিভাবে?
আমি তোর কাছে থাকবোনা তো ভানুমতী থাকবে নাকি হা হা।
আমি তোর কী হইরে আবুল্লা?
দোস্ত!
কেমন দোস্ত?
সারাজীবন কাছে থাকার মত দোস্ত।
আমি যতদিন থাকবো তোকে তো জ্বালিয়ে মারবো।
তোর জ্বালানো তো আমার কাছে ভালো লাগে।
সত্যি? দোস্ত সত্যি?
ভালো না লাগলে তোর এত জ্বালা সইতে পারতাম?
দোস্ত,ঐ দোস্ত আমার হাতটা ধর,অনেক শক্ত করে ধর,ঐ আবুল্লা ধর।
আমি ধরে রেখেছি কঠিন করে ধরে রেখেছি,আশ পাশের লোকজন দেখছে, দেখুক দেখলে আমার কী?সারা পৃথিবীর মানুষ দেখুক, আমি আমার দোস্তের হাত ধরেছি সারাজীবন ধরে রাখবো তাতে কার কী?
ঘুম থেকে উঠে সর্বপ্রথম মোবাইলটা চেক করা আর সম্ভব হলে ফেইসবুকের ঠুস মারা আমার নিত্যদিনের কর্ম।ব্রাশ করার আগেই এই কাজ সারতে হয়।মেসেঞ্জার অন করতেই ত্রিশটা মেসেজ ত্রিশবার গুড মর্নিং।আমি কি রিপ্লে দিবো?নাকি ব্লক দিয়ে বিদায় নিবো?
আমার সাথে দেখা করার জন্য পীড়াপীড়ি করছে কিভাবে দেখা করবো?বার বার কল দিচ্ছে রিসিভ করতে পারছিনা।কম্বলটা নিচে দিয়ে কম্বলের উপর শুয়ে আছি মনে হচ্ছে পশুর চামড়ার উপর আছি, এখন ঘড়ির ঠক ঠক শব্দ শুনছিনা,জানালাটা খুলে দেওয়া যায়, হালকা শীত শীত লাগবে,জানালার পর্দাটা নীল কালারের,নীল কালারটা আমার প্রিয় এজন্য লাবিবাকে স্বপ্নে নীল শাড়িতে দেখেছি,এই জানালা দিয়ে একটা মানুষকে দেখা যেত,নাম অমি,নামটা শুনলেই বমির কথা মনে পরে বিশ্রী ব্যপার,
আমাকে বোধহয় তার ভালো লাগতো, সব সময় জানালা সোজা এসে কোথাও দাঁড়িয়ে বা বসে থাকতো,কিন্তু আমার একদমই ভালো লাগতোনা তাকে,একদিন হুট করে জানালার কাছে এসে বললো ভাইয়া আপনি কি গল্প পড়েন?আমি বললাম পড়ি।
আমার একটা বই আছে আমার খুব ভালো লেগেছে গল্পটা,
পড়বেন?
তুমি তো বই নিয়ে এসেছো।
হুম, আমি জানি যে আপনি গল্পের বই পড়েন তাই এনেছি।
কার লেখা?
হুমায়ুন আহমেদের।
সরি, আমার তার বই ভালো লাগেনা, নিয়ে যাও।
আমার এখনো চোখে ভাসে সেই মন খারাপ করা মুখটা,হাস্যজ্জ্বল মুখটা কিভাবে লাল হয়ে গেলো,মুখ নিচু করে চলে গেলো,আমার মনে হচ্ছিলো তার চোখ থেকে পানি পড়ছিলো,সে পানি আমি দেখি নাই কিন্তু হাত দেখে বুঝেছি সে চোখ মুচ্ছিলো।
শুনো, আমি তোমাকে কাঁদাতে চাইনি। আমি চাচ্ছিলাম সাময়িক কান্না যেন তোমাকে আজীবনের কান্না থেকে মুক্তি দেয়।কারণ আমি কখনোই তোমাকে ভালোবাসতে পারতামনা। আমার কখনো তোমাকে ভালো লাগেনি।
আমার হুমায়ুন আহমেদের বই খুব প্রিয়, হিমু আর মিছির আলী কমপ্লিট করে ফেলেছি।
আম্মু ইতিমধ্যে দুবার ডেকেছেন। প্রথম দুবার স্বাভাবিকভাবেই ডাকেন এই দুই ডাকে যদি আমার মধ্যে কোন পরিবর্তন না আসে ৩য় ডাক থেকে শুরু হয় ভয়ংকার হুংকার। প্রত্যেকদিন এই ভয়াবহ হুংকার শুনে উঠি। আম্মু আমাকে অনেক ভালোবাসে, প্রত্যেক আম্মুই তো তার সন্তানকে অনেক ভালোবাসে এটা বলার মত কিছুনা। কিন্তু আমি এজন্য বললাম যে আম্মু আমাকে অনেক ভালোবাসে এটা বুঝা যায়না।সব সময় শাসনের গুরুদায়িত্ব তার,ছোট কাল থেকে মার খেতে খেতে বড় হচ্ছি, ঘুম থেকে উঠতাম থাপ্পড় খেয়ে, খেতে বসতাম থাপ্পড় খেয়ে,স্কুলে যেতাম কয়েকটা চড় খেয়ে, স্কুল থেকে পালিয়ে বাড়িতে আসার উপায় ছিলোনা, ভয়াবহ কাণ্ড হতো।এই মানুষটা যে আমাকে প্রচন্ড ভালোভাসে কিভাবে বুঝবো?
কয়েকবছর হলো মার খাইনা শুধু হুংকার শুনি।হুংকারটা মনে হয় মারের চেয়ে ভয়ানক, মেজাজ খারাপ হয়,খুব রাগ হয়,রাগ চেপে রাখা অনেক কষ্ট।
আচ্ছা মা কি তার সন্তানকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে? বোধহয় কিছুটা স্বার্থ আর কিছুটা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে, অথবা পুরাটাই নিঃস্বার্থ হতে পারে বা কিছু মা নিঃস্বার্থ আর কিছু মা স্বার্থে ভালোবাসে।কিন্তু প্রত্যেক মায়েরই তার সন্তানের প্রতি অসম্ভব টান থাকে।এই টান থাকা স্বত্বেও কিভাবে মা তার সন্তানকে মেরে ফ্রিজে ভরে রাখে? পরকীয়া করলে কি মানুষ এতটাই অমানুষ বা হিংস্র হয়ে যায়?
অথচ একটা মাকড়সা তার সন্তানের জন্য কী করে?
বাচ্চাদের মায়ায় ঘর থেকে বের হয়না, বাচ্চারা যখন খেতে চাই তখন নিজের শরীর তুলে ধরে, একেবারে নিঃশ্চুপ হয়ে থাকে, বাচ্চারা টের পাইনা তারা কী খাচ্ছে!বুঝতে পারেনা যে তারা কুট কুট মায়ের শরীর খেয়ে ফেলছে, একসময় বাচ্চারা বড় হয়, আর মা নিঃশেষ হয়ে যায়।কত বড় ত্যাগ যে নিজের শরীর খেয়ে ফেলছে তবুও নিঃশ্চুপ, নীথর হয়ে রইছে, এটা সন্তানের জন্য সন্তানের মায়ায়।
মা তুমি আমাকে অনেক মেরেছো, অনেক বকা দিছো, আমাকে অনেক কাঁদিয়েছো তবুও তোমাকে ভালোবাসি, তবুও তোমাকে ভালোবাসবো, তবুও তোমার ব্যাথায় তোমার মায়ায় কাঁদবো! প্রমীজ, তোমাকে সারাজীবন ভালোবাসবো।

নাস্তার টেবিলে রুটি থাকা জরুরী বাট এটা অন্যদের জন্য,আমার রুটি ভালো লাগেনা,ভাত খেতেই মজা লাগে,আমার জন্য চিংড়িশুটকি আর কাচা মরিচ ভর্তা, সাথে প্রত্যেকদিন ডিম ভাজি থাকে আজ নেই। দুএকটা রান্না জোর করে আম্মু আমাদেরকে শিখেছেন, বলেছেন যখন কেউ না থাকবে তখন যেন কিছু রান্না করে খেতে পারিস, আমি বলেছিলাম এত ঝামেলা না করে রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেলেই তো হয়!
আমাকে ধমক দিয়ে বললেন চুপ, একদম কথা বলবিনা রেস্টুরেন্টের খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর নিজে রান্না করবি!সেই সুবাদে বাধ্য হয়ে দুএকটা রান্না শিখতে হয়েছে,শিখানোর ধরণ ভিন্ন, প্রত্যেক আইটেমে এক ধমক।
শোন,প্রথমে নিবি চিংড়িশুটকি ১/২কাপ
তারপর পেয়াজকুঁচি ১/২ কাপ বুঝছিস?ঐ বুঝিসনা?
জি জি বুঝছি।
কাঁচামরিচ দুটা নিবি বেশিওনা কমও না,
রসুনকুচি এক কোয়া,
ধনেপাতাকুচি ১/২ কাপ।
কিরে শুনিসনা তুই? কোন দিকে তাকিয়ে আছিস? ধ্যাত!
আম্মু আমি যেদিকেই তাকিয়ে থাকি আমি সব শুনছি তুমি বলো।
লবন চা চামচে ১/২ চামচ
আর সরিষার তেল এক চামচ।
প্রথমে সবগুলো উপকরণ রুটির তাওয়ায় অল্প আচে ঠেলে নিবি, পরিমাণে অর্ধেক হওয়া পর্যন্ত ভাজতে থাকবি।
আম্মু,আর অর্ধেক পরে শুনবো একসাথে এত শুনলে ভুলে যাবো!
আরে শেষ হয়ে গেছে আরেকটু!
এরপর পানি ছাড়া ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে পাটায় পিষে নিবি ব্যস শেষ।
মাঝে মাঝেই এভাবে ভয়াবহ পদ্ধতিতে শেখানো হয় যতদিন না শিখবো শেখাতেই থাকবে তাই নিরুপায় হয়ে দুএকটা শিখে নিয়েছি,বিশেষ করে চিংড়ি শুটকি ভর্তা,এক্কেবারে মুখস্ত বলে দিতে পারি!
ওহ আম্মু, আমি নাস্তা করে একটু মোহাম্মদপুর যাবো,মোবাইল কিনতে।
কেন মোবাইল নেই তোর?
আছে!বাট সেকেন্ডহ্যান্ড একটা ভালো মোবাইল পেয়েছি।
তোর যা মন চাই কর।
আমি রিপ্লে না দেওয়ায় অভিমানের সুরে এসএমএস করেছে,
তুই হঠাৎ এমন করছিস কেন?এত এভোয়েড করছিস কেন?আমি কী অপরাধ করেছি?ঘুম থেকে উঠে সর্বপ্রথম তোকে গুড মর্নিং দিয়েছি তুই রিল্পেটা পর্যন্ত দিসনি!একবারও কল রিসিভ করছিসনা!!
তুই বলেছিলি জীবনে যদি কারো হাত ধরি তোর হাতটাই ধরবো,আমরা বন্ধু ঠিকাছে কিন্তু আমরা তো বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারিনা তাই বলেছিলি আমরা কোনদিন বিচ্ছিন্ন হবোনা!
সত্যি,আমি তোকে হারালে কোনদিন বোধহয় ভুলতে পারবোনা!সারাজীবন কাঁদতে হবে”! কারণ একদিন তোর সাথে কথা নাহলে আমি অস্থির হয়ে যায় তুই দুইদিন লাইনে ছিলিনা তুই আমার বাসায় খোঁজ নিয়ে দ্যাখ কি অবস্থা হয়েছিলো ঐদুই দিনে।
সবাই বার বার জিজ্ঞেস করেছে কি হয়েছে? কি হয়েছে?
আমি কেঁদেছি, কোন উত্তর দিতে পারিনি।দোস্ত প্লীজ এমন করিসনা প্লীজ।আমার লাইফের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।তুই আমাকে কোনদিন কাঁদতে দিসনি একটু কষ্ট পেলে বার বার সরি বলেছিস।
সেই তুই কেন এমন করছিস?
প্লীজ বল দোস!
আমি একটু বিজি আছি দোস্ত তাই এমন করছি,ঠিক হয়ে যাবে ধৈর্য ধর,আর কয়েকদিন ধৈর্য ধর,
তাহলে তুই কল রিসিভ করছিস না ক্যান?
একটু প্রবলেম আছে,
আগে কোনদিন এমন প্রবলেম তো হয়নাই,যত প্রবলেমই হয়েছে আমার সাথে কথা বলেছিস,এখন কী এমন প্রবলেম?
ঠিকাছে দেখা করবি কবে?
করবো!
করবো মানে কবে করবি?দিন বল।
আরে করবো তো!
বল কবে করবি? প্লীজ বল।
ঠিকাছে আগামি শুক্রবার, বিকাল চারটা,মিরপুর এক, বড় মসজিদের পাশে।
থ্যাংকু।
ঠিকাছে তাহলে এখন রাখি, একটু বিজি আছি।
ওকে।গুড বাই!
Samsung S7 Edge.4gb ram.32gb internal, নিউ মোবাইল 65 হাজার বিশ হাজার হলে বিক্রি করতে পারি।
ভাই মোবাইল কতদিন ইউজ করেছেন?
তিনমাস, কোন প্রবলেম নেই। আপনি খুলে দেখতে পারেন।
আসলে সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইল জিনিসটা নিশ্চিত ভাবে জেনেবুঝে কেনা যায়না। অনেকটা বিশ্বাসের উপর নির্ভর। ভাই আমার অনুরোধ আপনি প্রয়োজনে কিছুটাকা বেশি নেন কিন্তু ধোকা দিয়েন না।
সরি ভাই এভাবে বলবেননা। আমি ধোকা দিচ্ছিনা। আপনি নিশ্চিত থাকেন।
ঠিকাছে ভাই ওকে, ভালো থাকবেন, দোয়া করবেন।
সেকেন্ডহ্যান্ড নতুন মোবাইল নিয়ে রিক্সায় বসে আছি। মোবাইল টিপছি।
নতুন মোবাইল কিনলে সবাই একটু বেশি বেশি চালাই।
যখনি রিক্সায় বসি অমির কথা মনে পরে,মনে পড়ার কারণ অস্পষ্ট ও খুব রসিক টাইপ,কিন্তু ওর রসিকতা আমার ভালো লাগতোনা।যাকে ভালো লাগেনা তার কিছুই ভালো লাগেনা।
ও রিক্সা থেকে পড়ে যেতে গেলে আমি হুরমুড়িয়ে ধরলাম, পরে বুঝলাম ইচ্ছা করেই ও এমন করেছে।
শুনুন মেয়েরা খুব দুর্বল, তাদেরকে সব সময় আগলে রাখতে হয় যেন কখনো পড়ে না যায় হিহি।
আমাকে লাল কালো শাড়িতে কেমন লাগছে?
অসাধারণ!
আন্দাজে, না দেখেই অসাধারণ।আপনি কখনোই আমার দিকে ভালো করে তাকাননা।
অমি, কথা কম বলো,আমি বেশি কথা ভালোবাসিনা।
আপনার যা ভালো লাগবে আমার কি তাই করতে হবে? আমি আপনার কি হই?
উফ, আমার সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো আমার মন মতই হতে হবে।
উষ্ণ বায়ু বইছে, মাঝে মাঝে অমির চুল আমার মুখে এসে লাগছে,মেয়ে মানুষ চুল ঢেকে রাখতে পারে- তা না ফুরফুরিয়ে উড়াচ্ছে, ঠোঁটে কি এত গাঢ় করে লিপস্টিক দিতে হয়? ঠোঁটই দেখা যাচ্ছেনা। মনে হচ্ছে বিএফএর সাথে বসে আছে। মেজাজটা গরম হচ্ছে, কিছু বলতে পারছিনা, আম্মুর আদেশ পালনার্থে আমাকে এই যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে।
ভাইয়া কোথায় নামবেন যেন!
সাতাশ।
রিক্সা উড়িয়ে চালাচ্ছে,যেন হেলিকপ্টার চালাচ্ছে,
ভাইয়া রিক্সার হুডটা কি উঠিয়ে দিবো?
কেন উঠাবা? আমি কি উঠাতে বলেছি?
না সবাই গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে রিক্সায় উঠে হুড উঠিয়ে দিতে বলে তাই আরকি জিজ্ঞেস করিলাম।
আমার পাশে যে আছে সে যে আমার গার্লফ্রেন্ড কে তোমাকে বললো?
রিক্সাচালক চুপ হয়ে গেলো! মন চাচ্ছিলো রিক্সা থেকে নেমে দুইগালে চড় বসাই।মুডটাই নষ্ট হয়ে গেলো।
অমিকে দেখলাম রীতিমত হাসছে! কখনো ওর হাসি ভালো লাগেনা। এখন ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে লিপস্টিক ভেদ ফিনকি দিয়ে হাসি বেরুচ্ছে।হাসি দমিয়ে রাখার ভান করছে তবুও হাসি বিরুচ্ছে, অসাধারণ লাগছে!খুবই অসাধারণ!!

ইচ্ছাকৃতভাবেই তাহসিনের আব্বুর কথা গল্পে আনছিনা।কারণ তার আব্বুকে ভালো মানুষ বলা যায়না।
মানুষের নেগেটিভ দিকটা অজানা থাকা ভালো। এটা তাহসিনের নেগেটিভ দিক।তার আব্বু রাত বেরাত নেশা করে বাড়ি ফিরে যে গালাগালি করে তা শুনে শয়তানও লজ্জা পায়।মাঝে মাঝে মাতাল হয়ে ওয়াজ নছিহত করেন, সাহিত্য পুরাটাই ঢেলে দিতে চান তার ওয়াজে।
ধরন কিছুটা এমন,
আপনারা যারা আমার সম্মুখে উপবিষ্ট আছেন প্রথমেই আমার পক্ষ থেকে হৃদয় নিঙড়ানো শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।(অথচ সামনে কেউ নেই)
কিঞ্চিৎ কথা আলোকপাত করবো আপনাদের সম্মুখে,আশা করি মনোযোগে প্রদানে আপনাদের কোন ঘাটতি আমার দৃষ্টিগোচর হবেনা।
খালি জাগয়াগুলি পূরণ করে বসি।
আলহামদুলিল্লাহ নাহমাদুহু অনুছল্লিয়ালা।
(প্রথমে কেউ শুনলে বিখ্যাত ইসলামিক গবেষক ভাববে কিন্তু কিছুক্ষণ বসলেই শুরু হবে শব্দবোমা অর্থাৎ গালাগালি)
নতুন মোবাইল দিয়ে সর্বপ্রথম কাকে কল দেওয়া যায়? লাবিবাকে?
না ওকে দেওয়া যাবেনা। তাহলে কাকে? আম্মুকে দেওয়া যায়।
আম্মু মোবাইল কিনেছি, প্রথমেই তোমাকে কল দিলাম।কথা স্পষ্ট শুনছো?
হুম শুনছি, তুই তাড়াতাড়ি বাড়ি আস, কাজ আছে।
হুম আসছি।
শুক্রবার,
পাঁচটার সময় লাবিবার ফোন।
কই তুই?
আমি বড় মসজিদের সামনে।
আমিও বাট তোর কথা এমন শোনা যাচ্ছে কেন?
তোকে দেখছিনা তো!
সামনে তাকিয়ে দ্যাখ, নীল কালারের টিশার্ট।
হুম একজন দাঁড়িয়ে আছে নীল টিশার্ট। সে তো তুই না।
হুম এই দুদিন আমিই কথা বলেছি।
মানে? মানে? প্লীজ একটু কাছে আসুন।
আপনি আমার সাথে কথা বলেছেন মানে? আবির কই?
সরি আমি আন্তরিকভাবে সরি, গত চারদিন আগে রাত প্রায় সাড়ে বারোটার সময় যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান মাঝামাঝি ফ্লাইওভারে একটা প্রাইভেটকার ও বাসের এক্সিডেন্ট হয়। আমি সেখানে হাটছিলাম এক্সিডেন্ট দেখে দৌঁড়ে গেলাম।গিয়ে দেখি ড্রাইভার সহ প্রাইভেটকারে বসে থাকা লোকটি মারা গেছে। একটি হ্যান্ডসেট পরে আছে। ফোনটি আমার খুব ভালো লাগলো, আমি ফোনটি আস্তে করে নিয়ে ভেগে গেলাম।
দুদিন পর চালু করে দেখি তোমার অনেক এসএমএস। তোমাকে দেখে আমার খুব ভালো লাগলো তাই…..৷
তার মানে আবির…..???
আপনি এটা কী বলছেন? মিথ্যা বলছেন আপনি! প্লীজ সত্য বলুন কী হইছে? আবির কই আছে? কি হয়েছে তার?
লাবিবা রিক্সায় উঠে গেলো, চোখের পানি মুছার কোন চেষ্টা করছেনা। চোখের পানি মাঝে মাঝে ঠোঁটের কিনারায় এসে ঠেকছে, কিছুটা নুনতা লাগছে। পাশ দিয়ে যারা যাচ্ছে তার দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। লাবিবার চোখ ঝাপসা, কিছু দেখছেনা, আবিরের স্মৃতিগুলো সে যেন কোন পর্দায় স্পষ্টভাবে দেখছে। আবির বলতে এখন তার কোন দোস্ত নেই এটা পর্দায় দেখা যাচ্ছেনা। বার বার একই কাহিনী দেখাচ্ছে যে আবির নামে কেউ লাবিবার হাত ধরে রেখেছে, খুব শক্ত করে ধরে রেখেছে যেন কোনদিন ছাড়বেনা।