যে কারণে ফের বেড়েছে সবজির দাম

দীর্ঘদিন ধরে সবজির বাজার দরের তাণ্ডব দেখেছেন ক্রেতারা। তবে মাসখানেক আগে সবজির দাম কমে স্বভাবিক হয়। কিন্তু নতুন বছরের শুরুতেই আবারও দাম চড়েছে সবজির। ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ টাকা পর্যন্ত কেজি প্রতি সবজির দাম বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানান।

দাম বাড়ার পেছনে কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ঘন কুয়াশার কারণে সবজি পরিবহন কম হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় তাদের বেশি টাকায় কিনতে হচ্ছে। এ কারণে তারাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার বিভিন্ন বাজারে সবজির দামে হেরফের হচ্ছে অনেক বেশি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, বগুড়া, যশোর ও রাজশাহী থেকে সবচেয়ে বেশি সবজি রাজধানীসহ সারা দেশে সরবরাহ হয়। এর বাইরে প্রতিটি অঞ্চলের আশপাশেও সবজির উৎপাদন হয়। শীত সামনে রেখে সাধারণত শীতের সবজিগুলোর উৎপাদন শুরু হয়। শুরুতে দাম বেশি থাকলেও পরে ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। দেখা যায়, এই সময়টায় দাম কমে যায়। তবে এবার বৃষ্টির কারণে সবজির উৎপাদন শুরু করতেই দেরি হয়েছে। তাই কম দামে সবজি কিনতে ক্রেতাদের অন্তত আরো দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে দাম কমে আসতে পারে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব সবজির দাম গত কয়েক দিনের তুলনায় বেড়েছে। সবজি বিক্রেতা আমিনুল হক বলেন, আকৃতি অনুসারে ফুলকপি প্রতিটি ২০ থেকে ৪০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ফুলকপি ১৫ টাকা করেও বিক্রি করেছেন। গতকাল বাঁধাকপি প্রতিটি ২৫ টাকা, পেঁয়াজপাতা কেজিপ্রতি ২০ টাকা, আলু ৩০ টাকা কেজি, শসা ৩০, ৩৫ ও ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দামের হেরফের হয়েছে শাকের ক্ষেত্রে। গত সপ্তাহের তুলনায় আজ (গতকাল) প্রায় দ্বিগুণ দামে লাল শাক ও পালং শাক বিক্রি হয়। প্রতি আঁটি বিক্রি হয় ১০ টাকা করে।

কারওয়ান বাজারের আবদুস সাত্তারের দোকান থেকে সবজি কিনছিলেন তিতুমীর কলেজের ছাত্র আহনাফ আফজাল ও মো. সুলতান। আহনাফ বলেন, ‘গত কয়েক দিনে বাজারে সবজির দাম অনেক বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে এখান থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে শিম কিনেছিলাম। সেটাই কিনলাম ৬০ টাকা দরে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে মো. সুলতান বলেন, আমার এলাকায় দাম বেশি বলে কারওয়ান বাজার থেকে কিনি। এখানেও দাম বাড়ছে। এক কেজি বেগুন কিনলাম ৫০ টাকা দিয়ে। গত সপ্তাহে কিনেছি ৪০ টাকা কেজি দরে। তবে আমার এলাকায় আরো বেশি দাম। সেখানে ৬০ টাকা কেজি দরে বেগুন বিক্রি হয়েছে।

বিক্রেতা আবদুস সাত্তার জানান, আজ কেজিপ্রতি মটরশুঁটি ১১০ টাকা, শিমের বিচি ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ৫০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ টাকা এবং টমেটো ৫০ টাকা করে বিক্রি করছেন।

শীতের সবজির আরেক আকর্ষণ লাউও অনেক বেশি দামে আজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। দাম বাড়ার কথা স্বীকার করে লাউ বিক্রেতা আবুল হাশেম বলেন, ‘আজ ৯০ টাকা করে একেকটা লাউ বিক্রি করছি। পাইকারি দরে আমি কিনেছি ৭০ টাকা করে। ১০-১২ দিন আগেও এই লাউ ৫০ টাকা করে বিক্রি করেছিলাম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (উপকরণ) কাজী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি হচ্ছে। একদিকে শীতের কারণে মাঠে সবজির সঠিক পরিচর্যা করা যাচ্ছে না, মাঠেই অনেক সবজি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ঘন কুয়াশার কারণে পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় দাম বাড়ার ঘটনা ঘটছে।

এই কর্মকর্তা বলেন, এবার দীর্ঘ সময় ধরে টানা ঘন কুয়াশা পরিস্থিতি চলছে। এটা বেশ অস্বাভাবিক বলা যেতে পারে। সবজি স্থানীয় পর্যায় থেকে সহজে পরিবহন করা যাচ্ছে না। তাই বাজারগুলোয় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে যাচ্ছে। পরিবহনে সমস্যা হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে, অর্থাৎ যেখান থেকে সবজি সরবরাহ হচ্ছে, সেসব জেলায় দাম কম যাওয়ার কথা।