সাজুর ঈদ || ওমর ফাইয়ায

-সাজু এদিকে আয় তোর হাত পায়ে মেহেদী লাগায় দেই। কাল ঈদ না!
-আপু তুমি তো খুব ভালো তুমি আম্মুর মত খারাপ না।
আম্মুকে গত ঈদে মেহেদী লাগিয়ে দিতে বলেছিলাম, আম্মু আমাকে থাপ্পড় দিয়েছিলো!
তুমি তো দেখেছিলা আমি কত কাঁদলাম তবুও আমাকে মেহেদী দিলোনা!
আপু, আমি আম্মুকে একটুও ভালোবাসিনা। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি!
আপু আমি তোমাকে চুমু দেই একটা..!
-দে….।
সাজু তোর আম্মু তোকে চুমু দিতোনা?
-হুম, মাঝে মাঝে।
-এদিকে আস, আমিও তোকে চুমু দেই।
-সাজু, কাল আম্মুর সাথে দেখা করতে যাবিনা?
-আব্বুর সাথে দেখা করতে যাবো আম্মুর সাথে না।
-আপু, আব্বু আম্মু কতদিন পর আসবে?
-বলেছি তো আসবে তুই আরেকটু বড় হ।
ওহ সাজু তোর জন্য একটা নতুন জামা কিনেছি দেখবিনা?
-সত্যি কিনেছো?
-আমি কি তোকে মিথ্যা বলি?
-ওহ আপু আসো তাহলে তোমাকে আরেকটি চুম্মা দেই!
-এখনি দেখবি?
-না এখন দেখলে পুরাণ হয়ে যাবে!

ঈদের দিন দুটা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আছে সাজু মিতু। মিতু একটু দূরে অন্যদিকে ফিরে।
মিতু সাজুর থেকে আট বছরের বড়! মিতুর বয়স বারো। সে বাস্তবতা বুঝতে শিখেছে অনেক আগেই!
গতবছর এদিনেই তারা স্বপরিবারে ঘুরতে বেড়িয়েছিলো! ইচ্ছা ছিলো ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখার।
কিন্তু মাগুরা ও ঝিনাইদহের মাঝামাঝি এসে তাদের গাড়ি এক্সিডেন্ট করে। মিতু সাজুকে নিয়ে পিছে বসেছিলো। তাদের আব্বু আম্মু দুজনেই মারা যায়!

সাজু অনবরত কথা বলছে!

-আম্মু তুমি আমাকে মেরেছিলে মনে আছে? মেহেদী চেয়েছিলাম তাই!
এই দেখো আপু কত সুন্দর করে মেহেদী লাগিয়েছে ফুল ফুল করা!
আরো দেখো নতুন জামা কিনে দিছে!
তোমরা কবে আসবা?
আব্বু তুমি আম্মুকে আনবানা, আম্মু অনেক খারাপ আমাকে শুধু মারে।
হ্যা আসতে পারে তবে বলতে হবে আমাকে আর মারবেনা!

গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পরছে, মিতু সাজুর দিকে তাকাচ্ছেনা! সে চাইনা যে সাজু তার চোখের পানি দেখুক। কবরের পাশে বকুল গাছের দিকে তাকিয়ে আছে সে! বকুল গাছটা দুজনে লাগিয়েছে।
এই গাছ একসময় বড় হবে,বকুল ফুটবে। কবর দুটো বকুল ফুলে সাদা হয়ে যাবে!
সকালে শিশির জমবে, শিশিরধৌত ফুলগুলো চিকচিক করবে সূর্যের স্নিগ্ধ রশ্মিতে! আহ কত সুন্দর লাগবে!!