সুন্দরী প্রতিযোগিতা : নারী যেখানে পণ্য, ব্যাপক বিনোদন!

এইচ. এম নুর আলম : বহির্বিশ্বে নারীর সৌন্দর্যের সংজ্ঞা পাল্টেছে অনেক আগেই।আর নারীর সৌন্দর্যের সংজ্ঞায় দৈহিক সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় এই প্রথম বাংলাদেশে শুরু হলো ‘লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-২০১৭।’আয়োজক অন্তর শোবিজ প্রতিষ্ঠান এবং ওমিকন এন্টারটেইনমেন্ট।গত শুক্রবার(২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে গ্রান্ড ফাইনাল প্রতিযোগিতা পর্বে ১০ সুন্দরীর মধ্যে তিনজনকে টপ হিসেবে সিলেক্ট করে বিচারকদের পাঠানো কূপন অনুযায়ী ভারতের উপস্থাপিকা শিনা চৌহান জান্নাতুল সুমাইয়া হিমির নাম ঘোষণা করে ।পরে চেয়ারম্যান নিজে এটি ভুল হয়েছে বলে চট্রগ্রামের মেয়ে জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল এর নাম ঘোষণা করে। এর বিতর্কে ওঠে তার নাম।

সুন্দরী প্রতিযোগিতার মানে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ বা প্রথম হতে হলে অবশ্যই তাকে অবিবাহিত হতে হবে যাকে বলে ‘ভার্জিন’।আর ‘মিস’ মানেও কুমারী-যাদের এখনো বিবাহ হয়নি।

কিন্তু এভ্রিল এর বিবাহ বিভ্রান্তি থাকায় আয়োজকরা তার মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট (শিরোপা) কেড়ে নেয় এবং পরবর্তী অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় রানার আপ জেসিকা ইসলামকে নির্ধারণ করে।গতকাল (৫ অক্টোবর)শুক্রবার রাজধানীর হেটেল ওয়েস্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার মেয়ে জেসিকার নাম ঘোষণা করেন আয়োজনের বিচারক বিবি রাসেল।এখানে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসরীন চৌধুরী।সুন্দরী মার্কিংয়ের বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন বিবি রাসেল ছাড়াও শম্পা রেজা ও চঞ্চল মাহমুদ।

আগামী ১৮ নভেম্বর চীনের সানাইয়া শহরে অনুষ্ঠিত হবে ৬৭ তম ‘মিস ওয়ার্ল্ড’(নারীর সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা)।সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি বা প্রতিযোগী পাঠানোর প্রক্রিয়া হিসেবে এই ‘লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৭’ এর আয়োজন।

জানেন তো কীভাবে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় ভার্জিনদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়? জানলে ভয়ংকরভাবে আঁতকে উঠবেন। যে ১০ জন এই ফাইনাল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে এর আগে দেড়/দুই মাস ভার্জিন নারীদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন আর সাইজ (মাপ)পরখ করা হয়েছে। এর পর ১০ জন ফাইনালে উঠে এসেছে।এদের মধ্যে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাইজ, উচ্চতা আর ওজন দিয়ে প্রথম হয়েছিলেন জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল-৫১ নম্বর; জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি (দ্বিতীয় রানার আপ)৪৭ নম্বর এবং প্রথম রানার আপ জেসিয়া ইসলাম, ৪৮ নম্বর।

দেশে দেশে সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে কী হচ্ছে আর নারীর কী প্রদর্শন করানো হচ্ছে তা সবারই জানা। তবে ‘লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৭’ সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নারীর যে সব স্পর্শকাতর অঙ্গের ব্যাখ্যা আর বিশ্লেষণ করে বা পরখ করে, পর্যবেক্ষণ করে সুন্দরী নির্বাচন করা হয়েছে তা ভয়ংকর যেহেতু আমরা সেটি আমাদের অগোচরে রয়ে গেছে।এটা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটা ফ্রাঞ্চাইজি হলেও এর আগে থেকে চালু রয়েছে ‘তারকা’, মডেল হওয়ার নামে প্রতারণার প্রতিযোগিতা।

মিস ওয়ার্ল্ডের প্রতিযোগিতার মার্কিং নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে এক ‘মার্কিং ফটো’ নিয়ে ডাউনলোড দেয়া পিকচারে দেখা যায়, এই মার্কিং প্রক্রিয়া। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় কয়েকটি বিষয় পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে বিচারক কমিটি। তা হলো-ভার্জিন মেয়েটির শারীরিক উচ্চতা, তার ওজন (কেজিতে)। এছাড়াও ভয়ংকরভাবে দেখেছে তিনটি স্পর্শকাতর অঙ্গের মাপজোখ। সেটি হলো (১)-ওয়েস্ট বা কোমরের মাপ-কোমর কতটুকু মোটা বা পাতলা; প্রতিযোগিতায় কোমরের সাইজ ঠিক আছে কি না? (২) বাস্ট বা বক্ষ বা ভার্জিনের বুকের অংশের মাপজোখ-অর্থাৎ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী মেয়ের বুকের সাইজ ঠিক আছে কি না বা বক্ষের অংশের সম্পূর্ণ অংশ-ইঞ্চিতে বা ওজনে ঠিক আছে কি না? এবং (৩) হিপস বা কোমরের নিম্নাংশ যা বাংলায় বলে (…) তা সাইজে কত বড় বা ওজনে কতটুকু সে ব্যাপারগুলো।

একজন নারী নয় শুধু তাদের মধ্যে যারা ভার্জিন বা মিস (কুমারী)তাদেরকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় ‘সুন্দরী’ হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করার জন্য। ভারত, মিয়ানমারসহ পশ্চিমা বিশ্বে অনেক আগেই এই নগ্ন দেহের প্রদর্শনী ( বা ভয়ংকরভাবে সুন্দরী নির্বাচনের প্রক্রিয়া) শুরু হলেও এই প্রথম বাংলাদেশের আয়োজন; যাতে দেখাতে পারে আমাদের দেশের মেয়েরা বা মিসরা কত সুন্দরী বা তাদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাইজ বা মাপ কত কত?? এটি জঘন্য বিষয়। আর এই সৌভাগ্যের অধিকারী অন্তর শোবিজ প্রতিষ্ঠান যার চেয়ারম্যান-স্বপন চৌধুরী। তিনি জাতিকে কলংকময় একটি প্রদর্শনী উপহার দিয়ে গেলেন যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ভার্জিনদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরখের দেশে ও বিশ্বে একটা প্রতিযোগিতা থাকে।

এই জঘন্যতম আয়োজনে যারা নারীর স্বাধীনতা চায় বা নারীর ক্ষমতায়ন চায় তারা কিন্তু ‘টু’ শব্দ করেছে বলে জানা নেই।নারীর জন্য মানবতাবাদী সংগঠনগুলো নারীরা সম্ভ্রম হরণকারী এই প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে কোনো মিছিল বা প্রতিবাদও করেনি, দেখিনি বা শুনিনি।

এই প্রতিযোগিতা বা আয়োজন লাভবান করবে একাধারে অন্তর শোবিজ, মিডিয়া জগতে নারীকে বাজারের সস্তা ‘পণ্য’ হিসেবে উপস্থাপণ করে অন্যদিকে প্রতিবছর ব্যাপক বিনোদন দিবে এই মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা।বিভিন্ন গণমাধ্যমে এটা এখন বিশেষ বিনোদন। এর মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে অন্তর শোবিজ প্রতিষ্ঠান আর ব্যবসা বেড়েছে গণমাধ্যম ও বিজ্ঞাপন কোম্পানীর। আসল কথায়, সস্তা ভাষায় ‘ব্যাপক বিনোদন’ দিবে এই প্রতিযোগিতা।

বর্তমান সারা বিশ্বই তাদের দেশের নারীর সৌন্দর্যের জঘন্যতম দিকটি নিয়ে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত।যেহেতু বিশ্বের সব দেশ এগিয়ে আর বাংলাদেশও তো অন্যান্য দিক থেকে এগিয়ে শুধু এটার-ই অভাব ছিলো-যা আজ পূরণ হলো।বাংলাদেশেও নারী যে এখন বিনোদনের প্রধান হাতিয়ার, পণ্য বা ভোগ্যপণ্য তারই একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ- এই মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা।

এটা নারীর অধিকার দেয়ার নামে প্রতারণা।নারীকে ব্যবসার বা বাজারের সস্তা ভোগ্য পণ্য বানানোর একটি নোংরা প্রতিযোগিতা।

এই মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার কারণ ও ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে অন্তর শোবিজ এর চেয়ারম্যান জানোলেন ভয়ংকর তথ্য। ‘দেশে বিদেশে ডট কম’ নামের এক নিউজ পোর্টাল পয়লা আগষ্ট এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে।

এক. তাকে যখন মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় তখন তার মতে- এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে নারী দেহের প্রদর্শনীটা একটা আন্তর্জাতিক ইভেন্ট (দুর্দান্ত খেলা)। তাঁর মতে মিস ওয়ার্ল্ড একটি জনপ্রিয় প্লাটফর্ম। এই প্লাটফর্মে নিজ দেশের পোশাক ও সংস্কৃতি নিয়ে অংশ নেওয়া যায়।তাঁর মতে, বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার এটাই সুযোগ। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করবে গোটা বিশ্বের।

ব্যাখ্যা: মিস ওয়ার্ল্ড বর্তমানে একটি জনপ্রিয় প্লাটফর্ম হয়ে গেছে এটা হয়তো কেমন সত্য সেটা জানিনা। তবে পশ্চিমা বিশ্বে স্বয়ং আমাদের পাশের দেশ ভারতে সুন্দরী বানানোর জন্য মিসদের খুবই ধরপাকড় সহ্য করতে হয়,ভয়ংকরভাবে কঠিন যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় । বিশ্বের এই প্লাটফর্মে নিজের দেশের পোশাক ও সংস্কৃতির অংশগ্রহণ এবং ঐতিহ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকরণ বিষয়টি কতটুকু সত্য তা আমার জানা নেই।যেভাবে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় মিসদের নির্ধারণ করা হয় সুন্দরী হিসেবে সেটা কি দেশের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য??? হ্যাঁ, বাঙালির একটা ঐতিহ্য আছে, আছে নিজস্ব সংস্কৃতি কিন্তু মিস ওয়ার্ল্ডের নামে বাংলাদেশের নারীদের বিশ্বে দৈহিক প্রদর্শনী কীভাবে ঐতিহ্য বা সংস্কৃতির অংশ হয় বুঝে আসে না।

দুই. মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার মটো বা থিম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন চলছে। নারীদের নানা কাজে অংশগ্রহণ করার জন্য সরকার উৎসাহিত করছে।’ দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য পদে নারীরা থাকায় দেশের ভাবমূর্ত উজ্জ্বল হয়েছে। তাই তার ধারণা, দেশের মিস ওয়ার্ল্ডরাও বিশ্বে এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজের দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।মনে হচ্ছে, তিনি দেশকে নিয়ে অনেক ভাবছেন-এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে।এই হলো তাঁর থিম বা দৈহিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার থিম বা মটো।

তিন. বাংলাদেশ থেকে একজন নারী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। এই নারীকে যেভাবে বাছাই করা হয়েছে সে সম্পর্কে স্বপন চৌধুরী বলেন, এই প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ করার জন্য আমরা নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করেছি।১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী যে কোনো নারী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন।’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিবন্ধন করতে হয় মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।নিবন্ধনকৃতদের মধ্য থেকে ৩০ জনকে প্রথম অবস্থায় বাছাই করা হয়েছে।এর পর ১০ জন এসেছে। পরে তিনজনকে বাছাই করে চূড়ান্ত বিজয়ী ও দু’জন রানার আপ নির্ধারণ করা হয়েছে এই প্রতিযোগিতায়।

উইকিপিডিয়ায় এর ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের এররিক মোর্লে ১৯৫১ সালে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার গোড়াপত্তন করেন। ২০০০ সালে তিনি মারা গেলে তাঁর স্ত্রী জুলিয়া মোর্লে প্রতিযোগিতার প্রধান হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।এর সদর দপ্তর লন্ডনে।এই প্রতিযোগিতার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ হিসেবে মিস ইউনিভার্স ও মিস আর্থ এবং মিস ইন্টারন্যাশনাল বিউটি বা আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা (জাপান) চালু রয়েছে।প্রতিযোগিতায় বিজয়ীকে কর্তৃপক্ষ হিসেবে মিস ওয়ার্ল্ড ওরগানাইজেশন পরবর্তী এক বছরের জন্য ভ্রমণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয়ভার প্রদান করে থাকে।

মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা শুরু হয় ‘বিকিনি’ প্রতিযোগিতা উৎসবকে প্রতিপক্ষ করে। এতে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সাম্প্রতিককালে প্রস্তুতকৃত সাঁতারের পোষাককে প্রদর্শন করা হয়েছিল যার প্রচার মাধ্যমে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।এর প্রতিপক্ষ ‘মিস ইউনিভার্স’ থেকে এরিক মোর্লে ‘সাঁতারের পোশাক প্রদর্শনীটি সাংবাৎসরিকভাবে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা হিসেবে জনসমক্ষে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন। বিকিনি পরিধানের প্রদর্শনীর বিপরীতে আধুনিক সাঁতার পোশাক পরিধান প্রদর্শনীটি ১ম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় তুলে ধরা হয়।১৯৫৯ সালে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি) প্রতিযোগিতাটি টেলিভিশনের মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করে।১৯৮০ এর দশকে প্রতিযোগিতায় ‘সৌন্দর্যই উদ্দেশ্য’ শিরোনামে বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।এই মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতাটি নিজ দেশ ব্রিটেনেই পুরনো ধাঁচের এবং রাজনৈতিকভাবে অস্বচ্ছতাপূর্ণ ছিলো।নতুন শতাব্দিতে বিশ্ববাসী প্রথম কৃষাঙ্গ আফ্রিকান বিজয়ী হিসেবে ২০০১ সালে আগবানী ডেরগোকে মিস ওয়ার্ল্ড হিসেবে দেখতে পায়। এর পর মিস ওয়ার্ল্ডের বাজারজাতকরণ পরিকল্পনা ও কৌশল হিসেবে একজন মি ওয়ার্ল্ড নির্ধারণের লক্ষ্যে আপনার সিদ্ধান্ত’ শীর্ষক টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। এতে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন, দৃশ্যের আড়ালে এবং সমুদ্র সৈকতে গমন ও দর্শকদের ফেন কিংবা অন-লাইনে তাদের পছন্দের প্রতিযোগিকে ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়।প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে প্রতিভা, সৈকতের সৌন্দর্য এবং খেলাধূলার সামগ্রী টেলিভিশনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করে।২০০২ সালে নাইজেরিয়ায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে সংঘাতময় অবস্থা সৃষ্টি হয় এবং শরীয়া আইনে আমীনা লয়াল নামে মিসকে হত্যা করা হয়।

চীনে ২০০৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ায় অর্থনৈতিক লাভবানও হয় চীন, ব্যবসায়ও জন্মে দারুণভাবে।বাণিজ্যের মোড় ঘুরে যায় তাদের।

মিস ওয়ার্ল্ড, ইউনিভার্স, ইন্টারন্যাশনাল বা আর্থ যেটাই হোক এটা একজন নারীর সম্ভ্রমকে সংরক্ষণ করে না বরং বাণিজ্যের উদ্দেশ্যেই বা সারা বিশ্বে নারীকে পণ্য হিসেবে, বিনোদনের খেরাক হিসেবেই উপস্থাপিত হয়ে থাকে।মিস ওয়ার্ল্ড বা উপর্যুক্ত বিষয়ে বানানোর নামে যে প্রতিযোগিতা চলে বা বিজয়ী পুরস্কার প্রদান করা হয় তা নারীর দৈহিক প্রদর্শনী ছাড়া অন্য কিছু নয়।সুতরাং আমাদের দেশে সচেতন জনতাকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।এটা আমাদের সংস্কৃতি নয় এবং ঐতিহ্য নয়। আমাদের সংস্কৃতির সাথে যেটা যায় না সেটা বন্ধের ব্যাপারে দেশের সরকারকে সাঁড়া দিতে হবে।

সারা বিশ্বে নারীকে ‘ভোগ্যপণ্য’ আর ব্যাপক ‘বিনোদনের খোরাক’ হিসেবে যেভাবে উপস্থাপিত হয়ে আসছে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ বানানোর নামে বাংলাদেশের নারীদের সে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের প্রয়োজন নেই।কারণ, এতে যুব সমাজ আরো ধ্বংসের পথে এগুবে আর তৈরি হবে অবাধে যৌনাচরণ।

লেখক : ছাত্র ও শিক্ষানবিশ সাংবাদিক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।


(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। আওয়ার নিউজ বিডি’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আওয়ার নিউজ বিডি আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না)