প্রধান ম্যেনু

অচেনা মক্কা নগরী, নির্জীব চারিদিক

যে নগরীতে কখননো মানুষের কমতি হয়নি, লাখ লাখ মানুষের পদচারণায় যে শহর ব্যস্ত থাকতো, আল্লাহর নামে প্রকম্পিত হতো যে ভূমি- সব বদলে গেছে। দিনের ২৪ ঘণ্টা যেখানে মানুষের মুখে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ উচ্চারিত হতো- তা যেন থমকে গেছে। চিরচেনা মক্কা এখন নির্জীব।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মরণঘাতী করোনাভাইরাসের আতঙ্কে পবিত্র মক্কা শহরকে এখন চেনার কোনো উপায় নেই। মহামারী ভাইরাসটির কারণে অবরুদ্ধ করা হয়েছে মক্কা-মদিনা। কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে দেশটির লাখ লাখ মানুষ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মক্কার শপিং মল, বিপণি বিতান, আবাসিক হোটেল আবাসন, রেস্টুরেন্ট, সেলুন, ফাস্ট ফুড ও প্লাজাগুলো। সবচেয়ে বড় কথা হলো মসজিদুল হারামের কাবা ঘরও দেখতে পারছেন না কেউ।

সর্বত্র সুনশান নীরবতা। মক্কার মিসফালায় কাবা ঘরের চারপাশের রাস্তায় কেউ নেই। যতদূর চোখ যায় সবদিকে ফাঁকা, দেখলে অবিশ্বাস্য মনে হয়।

মহামারী যে মানুষের মানবিক ধর্ম ও সহানুভূতিকে হত্যা করে, মনে হলে ভয় হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়াবহ মহামারিগুলো মানব সভ্যতার বুকে অনেক ক্ষত রেখে গেছে।

সৌদি আরবের গণস্বাস্থ্য বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো দিন-রাত নাগরিকদের সেবার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন শহরে হটলাইন চালু করেছে দেশটির সরকার।

আগাম ওমরাহ হজ, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, মসজিদুল হারাম ও মদিনায় মসজিদে নববী ছাড়া সব মসজিদে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা ও সর্বশেষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো ও ১৫ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি সরকার ও মন্ত্রিপরিষদের যথাযথ সিদ্ধান্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্লাইট যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সৌদি আরব সরকারের এসব কর্মসূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নানা রকম কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে দেশটিতে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারেন। যদিও দেশটিতে বসবাসকারী প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছেন। বাসা থেকে অনেকে বের হচ্ছেন না। প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য বের হলে মাস্ক ও হ্যাণ্ড গ্লাভস ব্যবহার করছেন।



মন্তব্য চালু নেই