‘আওয়ামী লীগের বড় অর্জন হলো দেশের স্বাধীনতা’

‘আওয়ামী লীগের ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে যে অর্জন সেটি হচ্ছে- দেশের স্বাধীনতা। আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি- এটিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।’

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষির্কী উপলক্ষে দলটির দীর্ঘ সংগ্রামের বর্ণনা দিয়ে আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সংসদের সভাপতিত্বে ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য জাতির পিতা যখন রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটিকে যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক সেসময় সেই আরেক মীরজাফর মুস্তাক এবং জিয়ার চক্রান্তে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়ে গেল।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সব ধরনের আন্দোলনে কাজ করে গেছে। ১৭৫৭ সালে ২৩ শে জুন পলাশীর আম্রকাননে সিরাজউদ্দৌলা ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির কাছে যুদ্ধে হেরে যান। সেখানে মীর জাফর আলী খান বেঈমানি করেছিল, তার ফলে কিন্তু ওই পতন ঘটে। অর্থাৎ তখন সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা উড়িষ্যাসহ এই অঞ্চলের শাসক। স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল পলাশীর যুদ্ধে আম্রকাননে। আর ২৩শে জুন প্রতিষ্ঠা লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগ। সেই আওয়ামী লীগ আবার সেই সূর্য উদয় করে। আওয়ামী লীগের সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে।

আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, আমি জাতির পিতার প্রতি সম্মান জানিয়ে এটুকু বলব, তিনি আজীবন মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। জনগণের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি তাঁর সংগ্রামের পথে অনেক বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করেছেন। কিন্তু তিনি ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা হলো- ‘জীবনের বিনিময়ে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের স্বাধীন, মুক্ত মানুষ হিসেবে আত্মমর্যাদার সঙ্গে বাস করার নিশ্চয়তা দিয়ে যেতে চাই। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা স্বাধীনতা পাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠার জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ মানবতার সেবা করে যাচ্ছে। এদেশের জনগণের সেবা করে যাচ্ছে। এদেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষ, এদেশের কৃষক, শ্রমিক, তাতি, কামার-কুমারসহ অগণিত মানুষের কথাই বলেছে এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে। এই সংগ্রামের পথ বেয়ে আওয়ামী লীগের কত নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, কত মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, সেইসব মানুষের ত্যাগ-তিতিক্ষার জন্যই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পাকিস্তানি শাসকরা আমাদের ভাষা অধিকার কাড়তে চেয়েছিল। রক্ত দিয়ে আমাদের অধিকার অর্জন করতে হয়েছে। এরপর একের পর এক আঘাত এসেছে। যখনই বাংলাদেশীরা ক্ষমতায় গিয়েছি তখনই আঘাত এসেছে্। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করার জন্য দীর্ঘ পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমরা সেটা করতে পারেনি। আজকে আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সীমিতভাবে আমরা এটা উদযাপন করছি। লোক সমাগম হয় এ ধরনের সব কর্মসূচি আমরা বাতিল করেছি জনগণের কথা চিন্তা করে, জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে। কারণ আমাদের কাছে জনগণের কল্যাণই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



মন্তব্য চালু নেই