শিরোনাম:

আজ পবিত্র শবেবরাত

মুসলমানদের সৌভাগ্যের রজনী পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে আজ বৃহস্পতিবার (১১ মে) দিবাগত রাতে। ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ শব্দের অর্থ সৌভাগ্য। আরবিতে বলে ‘লাইলাতুল বরাত’ অর্থাৎ সৌভাগ্যের রজনী। হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ পালন করে সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে।

এই মর্যাদাপূর্ণ রাতে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য তার অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। মহিমান্বিত এই রাতে সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময়ের অনুগ্রহ লাভের আশায় বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন থাকবে। দিনে রোজা রাখবে অনেকে। দান-খয়রাত করবে। বিগত জীবনের পাপ মার্জনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করবে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে, এই রাতেই পরবর্তী বছরের জন্য ভাগ্য নির্ধারিত হয়।

ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি হরেক রকমের হালুয়া, ফিরনি, রুটিসহ উপাদেয় খাবার তৈরি করা হবে। এসব খাবার বিতরণ করা হবে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে। সন্ধ্যার পর অনেকে যাবে কবরস্থানে। চিরনিদ্রায় শায়িত আপনজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করবেন।

আরবি দিনপঞ্জিকা অনুসারে শাবান মাসের পরে আসে পবিত্র রমজান মাস। শবেবরাত মুসলিমদের কাছে রমজানের আগমনী বার্তা বয়ে আনে। তাই শবেবরাতের রাত থেকে আসন্ন রমজানের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায়।

পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য, দেশ-জাতির কল্যাণ ও বিশ্বশান্তি কামনা করেন।

সরকারি নিয়মানুযায়ী, শবেবরাতের পরদিন ছুটি থাকে অর্থাৎ কাল শুক্রবার সাধারণ ছুটি। তবে আজ বৃহস্পতিবার সংবাদপত্রের ছুটি। এ কারণে শুক্রবার সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না।

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র শবেবরাত পালনের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কর্মসূচি নিয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আজ রাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, হামদ্, নাত, নফল ও তাহাজ্জুদের নামাজ এবং আখেরি মোনাজাত। বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদ আজ সারা রাত খোলা থাকবে।

পবিত্র শবেবরাত সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় আতশবাজি, পটকা ফাটানো ও যেকোনো ধরনের বিস্ফোরকদ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।