শিরোনাম:

আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত বাবা-মা, তিন ছেলেমেয়ে : পুলিশ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে বাবা-মা ও তাদের তিন সন্তান নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের সবাইকে জঙ্গি হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন ফায়ার সার্ভিস কর্মী আবদুল মতিন।

পুলিশের তথ্যমতে, নিহত ব্যক্তিরা হলেন সাজ্জাদ আলী মিষ্ঠু (৪৮), তাঁর স্ত্রী বেলি খাতুন, ছেলে আল আমিন, আশরাফুল ইসলাম ও মেয়ে কারিমা।

এ ঘটনায় পাঁচ বছর একটি ছেলে জোবায়ের ও তিন মাস বয়সী শিশুমেয়ে আফিয়াকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা নিহত আল আমিনের সন্তান বলে জানা গেছে।

বিস্ফোরণে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরীসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সুমিত বলেন, ঘটনাস্থলের পাশে নিহত সাজ্জাদের আরেক মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বসে রয়েছে। তাকে আত্মসমর্পণের জন্য বলা হয়েছে।

মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজম তৌহিদ বলেন, ‘আমরা কল্পনাও করতে পারিনি, এ রকম কিছু হবে। বাড়ির মালিক সাজ্জাদ আলী দেড় মাসে আগে এখানে বাড়ি করেছেন। এর আগে তারা মাছমারা গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থাকতেন।’

পুলিশ কর্মকর্তা সুমিত চৌধুরী বলেন, সকালে হ্যান্ডমাইক দিয়ে পরিবারের সবাইকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি। এরপর বাড়ির মাটির দেয়াল পানি দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বেরিয়ে এসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। এতে ফায়ার সার্ভিস কর্মী মতিন গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ধারাল অস্ত্র দিয়ে হামলার কিছুক্ষণ পর জঙ্গিরা আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এতেই তাঁদের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে মৃতদেহগুলো পড়ে রয়েছে।

সকাল ৯টা ২০ মিনিটে আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বাড়িটির পাশে বসে থাকা সুমাইয়ার স্বামী জহুরুল নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য। সম্প্রতি গোদাগাড়ীর পদ্মা নদীর চর থেকে জহুরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এখন কারাগারে।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সী জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাত থেকেই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। আজ সকালে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে এক নারীসহ পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। সময় জঙ্গিদের হামলায় পুলিশের দুই সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।