মেইন ম্যেনু

নারী সেজে মিন্নির ছবি তোলা পুরুষটিকে খুঁজছে পুলিশ!

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র শুনানির দিন ছিল বুধবার। ওই দিন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে বাড়তি নিরাপত্তা ছিল। এত নিরাপত্তার মধ্যেও বোরখা পরিহিত এক ব্যক্তিকে ছবি তুলতে দেখা গেছে। কে এই ব্যক্তি তা নিয়েই আলোচনা এখন।

মিন্নির বাবা তার মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। পুলিশের নিরাপত্তা বাহিনীও জানেন না কে এই ব্যক্তি। তবে বোরখা পরিহিত ওই ব্যক্তিটি নারী নয় সে বিষয়ে মত দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। যুক্তিস্বরূপ তারা বলেন, কোনো নারী পেছন থেকে ঠেলেফেলে এভাবে সামনে এসে ছবি তুলবে না। যদিও সে বোরখা ও হাম পায়ে মোজা পরে ছিল। তবে তার অবয়বেই বোঝা যায় সে একজন পুরুষ।

বুধবার সকালে অভিযোগপত্রের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মামলার মূল নথি বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে থাকায় শুনানি শুরু হতে বিলম্ব হয়। এ অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী অভিযোগপত্র শুনানির জন্য দুপুর ২টায় নির্ধারণ করেন।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সঙ্গে মোটরসাইকেলে আসেন মিন্নি। এরপর আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বাবার সঙ্গেই আদালতের একটি কক্ষে অবস্থান করেন তিনি।

আদালত থেকে বের হয়ে আদালত প্রাঙ্গণে বাবার মোটরসাইকেলে ওঠার আগ পর্যন্ত মিন্নির ছবি সংগ্রহ করেন সংবাদকর্মীরা। তখন মিন্নিকে দেখতে জড়ো হন সাধারণ মানুষও। তবে লোকে লোকারণ্য আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকরা যখন ছবি তুলছিলেন তখন ব্যতিক্রমী পোশাকে মোবাইল হাতে মিন্নির ছবি তুলতে হাজির হন এক ব্যক্তি।

সংবাদকর্মী ও উৎসুক মানুষকে ভেদ করে একের পর এক মিন্নির ছবি তুলছেন ওই বোরকা পরিহিত ব্যক্তি। মিন্নি আদালত প্রাঙ্গণে থাকা পর্যন্ত সাংবাদিকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে মিন্নির ছবি তোলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয় স্থানীয় সাংবাদিকদের।

সর্বাঙ্গ ঢেকে মিন্নির ছবি তোলা ওই ব্যক্তি নারী নাকি পুরুষ এমনটিও বলেছেন কেউ কেউ। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। এমনকি স্থানীয় সাংবাদিক ও মিন্নির পরিবারের সদস্যরাও ওই ব্যক্তিকে চিনতে পারেননি। চিনতে পারেননি পুলিশের নিরাপত্তা কর্মীরা।

আদালতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে থাকা কয়েকজন সাংবাদিক বলেন, অভিযোগপত্রের শুনানি থাকায় বুধবার সকাল ৯টার দিকে আদালতে উপস্থিত হন মিন্নি। আদালতের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এজলাসের পাশের একটি কক্ষে বাবার সঙ্গে বসে থাকেন তিনি। এ সময় হাত-পায়ে মোজা ও বোরখা পরিহিত এক নারী মিন্নির কক্ষের বাইরে ঘোরাফেরা করেন।

মিন্নির বাবা বলেন, এ সময় বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দেয়নি। এরপর আদালত প্রাঙ্গণে ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে মিন্নির ছবি তোলেছেন ওই নারী। তাকে দেখে মনে হয়েছে, ‘তিনি নারী নয়, পুরুষ।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা সদর থানার ওসি আবীর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। সাংবাদিকদের কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেছি। ওই ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ-খবর নেব।



মন্তব্য চালু নেই