মেইন ম্যেনু

আবরার হত্যায় জড়িতদের নামসহ পুরো ভিডিও প্রকাশ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শেরেবাংলা হলের সিসিটিভি ক্যামেরার ১৫ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) রাতে ভিডিও ফুটেজটি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে শেয়ার করেন। মুহূর্তেই ভিড়িও ভাইরাল হয়ে যায়।

এর আগে সোমবার (৭ অক্টোবর) রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে এই ভিডিওটি তারা সংগ্রহ করেছিলেন।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের কর্মীরা রাত ৮ টা ১২ মিনিটের দিকে রুম থেকে ডেকে দোতলায় নিয়ে যায়। এরপর রাত ১ টা ১৪ মিনিটে দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে কয়েকজন তাকে বের করে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নিয়ে যায়।

এর এক ঘণ্টা পর রাত ২ টার দিকে তাকে ২০০৫ নম্বর কক্ষ থেকে তোষকের মধ্যে নিয়ে নিচতলায় নামানো হয়। সিঁড়িতে তাকে কিছুক্ষণ ফেলে রেখে পরবর্তীতে একটি স্ট্রেচারে তোলা হয়। এরপর চিকিৎসক আসেন। কিছুক্ষণ পর হলের প্রভোস্ট ও ছাত্র কল্যাণ পরিচালক আসেন। তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেলকে কথা বলতে দেখা যায়।

প্রসঙ্গত, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার জের ধরে আবরার ফাহাদকে রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দুইতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ লাশের ময়নাতদন্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

.আবরার হত্যার শুরু থেকে শেষ এর পূর্ণ ফুটেজ.আমাদের পর্যবেক্ষণঃ১) আবরারকে ধাপে ধাপে নির্যাতন করে মারা হয়েছে। তাকে দফায় দফায় পেটানো হয়েছে। এসময় ছাত্রলীগ নেতা অনিক সরকার মদ্যপ ছিলো। ২) আবরারের অবস্থার অবনতি হয় রাত ১২টার আশে পাশে।৩) আবরারের অবস্থার অবনতির পর তাকে নিয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ২০০৫ নাম্বার রুমের দিকে যায়। এই রুমেই আবরার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।৪) ২০০৫ নাম্বার রুমে নেয়ার পর ভেতরে কি হয়েছে স্পষ্ট না হলেও এসময় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা ফোন করে কারো কাছ থেকে পরামর্শ চাইতে থাকে অথবা অন্য নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে।৫) ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা আবরারের চিকিৎসার থেকে বেশী নিজেদের পথ পরিষ্কার অর্থাৎ পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দিবে তা নিয়ে ব্যস্ত ছিলো।৬) পুরো ফুটেজেই তাদেরকে ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে দেখা গেছে অর্থাৎ আবরার মারা যাওয়ার প্রাথমিক অবস্থায়ও তারা স্বাভাবিক ছিলো।৭) তাদেরকে ১২টার পর থেকেই বার বার ২০১১ নাম্বার রুমে ঢুকতে বের হতে দেখা গেছে। এসময় তাদের কারো কারো হাতে সিগারেট ছিলো।৮) আবরারের প্রায় নিথর দেহ সিড়িতে ফেলে রাখার জন্য চাঁদরের ব্যবস্থাও করে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা।৯) হলের নিরাপত্তা কর্মীরা পুরো সময় নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে১০) রাত ২টায় ছাত্রলীগ নেতারা "শিবির" ধরা পরেছে বলে চকবাজার থানা পুলিশকে আসতে বলেন,কিন্তু পুলিশ আসলেও তাদের ঢুকতে দেয়নি এই ছাত্রলীগ নেতারাই১১) আবাসিক ডক্টর এসে নিশ্চিত করেন আবরার মারা গেছে। এসময় তার লাশ সিড়ি থেকে নামিয়ে নিচ তলায় আনা হয় কিন্তু সিড়ির কাছেই রাখা হয়।১২) হলের প্রভোষ্ট, ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কে ডেকে আনার পর তারা স্বাভাবিক ভাবেই লাশ পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় তাদের সাথে বুয়েট ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক রাসেল দেনদরবার করতে থাকেন। তাদের ঘিরে থাকেন কিছু ছাত্রলীগ কর্মী। ১৩) হলের প্রভোষ্ট ছাত্রলীগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে অনুমেয়।( ফুটেজে অমিত না থাকলেও সবার আগে আবরার কে যারা আঘাত করে তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলো অমিত, যা গ্রেপ্তারকৃত সন্ত্রাসীরা জানিয়েছে। ২০১১ নাম্বার রুমে যারা থাকতেন অমিত তাদেরই একজন)** আবরারকে ৩ দফায় মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। প্রথম দফা রাত ১১ টায় শেষ হয়। ** ২য় দফা মারধরের পর আবরারে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ২০১১ থেকে ২০০৫ এ সন্ত্রাসী মুন্নার রুমে নিয়ে যাওয়া হয়।** তথ্য সূত্র বলছে মুমূর্ষু আবরারকে নাকি এখানেও ছাড় দেয়া হয়নি, বমি করার পরও এই রুমে তাকে পেটানো হয়। ** আবরারকে মেরে স্ট্যাম্প ভেংগে ফেলার পর নতুন স্ট্যাম্প দিয়ে আবার পেটানো হয়।

Posted by Private University Students Alliance of Bangladesh – PUSAB on Tuesday, 8 October 2019



মন্তব্য চালু নেই