প্রধান ম্যেনু

‘আমি এখন আ.লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত’

২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী।

সম্প্রতি আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী খলনায়ক ড্যানি রাজ এফডিসিতে তার সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এ নিয়ে কথা বলেন মৌসুমী। মৌসুমী বলেন, আমি এখন আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত। সেই সূত্রে গত সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেত্রী ও কর্মীরা ফোন দিয়ে জানতে চায় আমি কোথায় আছি? আমি তখন প্রচারণার জন্য এফডিসিতে ছিলাম। তারা জানান, আমাকে শুভ কামনা জানাতে এফডিসিতে আসবেন। সে হিসেবে তারা আসেন। তারা শিল্পী সমিতির সামনে আমার সঙ্গে সেলফি তুলে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ঠিক ওই সময়ে ড্যানি রাজ এসে বলেন, এরা করা? আপনার এখানে এসেছেন কেন? তিনি ধমকের সুরে বলেন, বের হয়ে যান। তখন আমি তাকে বাধা দিয়ে বলি, তারা আমার অতিথি, আপনি উত্তেজিতভাবে কথা বলছেন কেন? তখন ড্যানি চিৎকার করে আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কে? তার এ কথা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। শত শত সিনেমায় কাজ করা একজন অভিনেত্রীকে শিল্পী সমিতির একজন সদস্য জিজ্ঞেস করছেন আপনি কে? আমি পাশে তাকিয়ে দেখি মিশা। তাকে বলি, মিশা তুমি কথা বলছো না কেন? তুমি তো সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। ড্যানি রাজ আমাকে আপনি কে বলার সাহস কোথায় পেলেন? তখন সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাঞ্চন ভাই (ইলিয়াস কাঞ্চন) আসেন। বিষয়টি নিয়ে মিটিংয়ে বসেন। ঘটনা শোনার পর বেশ ক্ষুব্ধ হন তিনি। এরপর ড্যানিকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি নির্বাচনের প্রার্থী? আপনি ভোটার হয়ে অসদাচরণ কেন করেছেন? আপনি কি জানেন এমন আচরণের জন্য এই মুহূর্তে আপনার সদস্যপদ বাতিল করতে পারি? এরপর ড্যানি রাজ বলেন, আমি দুঃখিত, আমার ভুল হয়ে গেছে। সরি।

মৌসুমী বলেন, ক্ষমা চাওয়াই তো সব নয়। একজন সিনিয়র শিল্পীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবেন, আর ক্ষমা চাইবেন, তাতে কি সব শেষ হয়ে যাবে? মৌসুমী বলেন, আমি প্যানেল করতে চেয়েছি। কিন্তু নানা মহলের চাপে অনেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বেনামে বহু হুমকি আসতে থাকে। আমার ফোনেও এগুলো আসছে। তবে আমি এগুলোর ভয় করি না। তিনি বলেন, যারা এটা করছেন তাদের পরিকল্পনা ছিল ইলেকশন নয়, সিলেকশন। সবাই সরে যাবে, তারা বিজয়ী হবেন। তবে আমি নির্বাচন করাতে সেটা আর হচ্ছে না। নির্বাচন হচ্ছে। আর আমার ভরসার জায়গাটা হচ্ছেন সাধারণ ভোটার। ২৬-২৭ বছর ধরে তাদের সঙ্গে আমার ওঠাবসা। তারা আমাকে যেমন ভালো করে জানেন-চেনেন, আমিও তেমনিভাবে তাদের চিনি ও জানি। অভিযোগ রয়েছে আপনাকে পাওয়া যায় না? সাংবাদিকরা যোগাযোগ করতে পারেন না। এমন মন্তব্যের জবাবে মৌসুমী বলেন, আমি তো সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলি। এটা নতুন নয়। অনেক পুরনো শিল্পীরা আমার নম্বর জানেন। আমার গোড়াপত্তন এফডিসিতেই। সেখানে সরাসরি যে কেউই আমার সঙ্গে কথা ও দেখা করেন। সাধারণ সদস্যরা তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের কার্যালয়ও (শিল্পী সমিতি) আসতে পারেন। চলচ্চিত্রের নির্মাণ সংখ্যা বৃদ্ধিতে কি করা যায় এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, আগে তো পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আমরা সেই পরিবেশটাই তৈরি করতে চাই। এগুলো নিয়ে আগে আমাদের কাজ করতে হবে। অনুকূল পরিবেশ পেলে প্রযোজকরা ধীরে ধীরে সিনেমায় ফিরবেন।



মন্তব্য চালু নেই