শিরোনাম:

‘আমি নারী ডিজিটাল (আনাডি)’ গ্র্যান্ড মিট আপ অনুষ্ঠান

‘আমি নারী ডিজিটাল (আনাডি)’ গ্র্যান্ড মিট আপ ২০২১ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও জয়তুন রেস্টুরেন্টে (আইডিবি ভবনের বিপরীত পাশে) বর্ণাঢ্য ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আনাডির প্রতিষ্ঠাতা শাব্বীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) মো. ফসিউল্লাহ বলেন, ‘ছোটবেলায় পানিকে কী বলতাম তা মা প্রথম শিখিয়েছে। নারীই আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক। নারীর নিজের যা কিছু কীর্তি, কৃতিত্ব তার সব কিছুতেই রয়েছে চ্যালেঞ্জ। নারীর সফলতার অনেক গল্প আছে। যদিও শুধু ব্যর্থতার গল্পই প্রচার পায় বেশি। আইটিতে লেখাপড়া করেই যে সফলতা আসবে ব্যাপারটা এমন নয়। অথচ শুধু সাইন দেখে দেখে আজ শিশুরাও প্রযুক্তি শিখে ফেলছে। কোভিড সময়ে পুরো বিশ্ব লণ্ডভণ্ড। কিন্তু কোনো কিছু কি থেমে ছিল? থামেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণার পর ২/৩ বছর অনেক হাসি শুনেছি। বিদ্যুৎ চলে গেলেও কটু কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু এখন! বাংলাদেশ ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। এই সুযোগটা উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের নিতে হবে। ইংরেজরা শাসন করেছে নিজেদের স্বার্থে। এখন সে শাসন নেই। কে উপরে কে নিচের পোস্টে কাজ করছে সেটা বড় নয়, কাজটাই সম্মানের।’

তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন দেখতে হবে বড়। মানুষ কতো বড়? স্বপ্ন যতো বড়। মানুষ আসলে স্বপ্নের সমান বড়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন কোভিডে হারবে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশ হারেনি। এগিয়ে যাচ্ছে। আপনাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। থেমে গেলে চলবে না। বাংলাদেশ যে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান নারীর। নারীই প্রতিটি সফল মানুষের প্রথম শিক্ষক। নারী আজ নিজেও উদ্যোক্তা। বাংলাদেশের নারীর যে ধৈর্য, আরও অনেক দুরে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে আনাডি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জীবন বীমা কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার (উপ-সচিব) আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান বলেন, ‘মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তারা যদি উদ্যোক্তা হয়ে ওঠে, নিজেদের অবস্থান কিছু না কিছু করে, তাহলে দেশ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্ভব কাঙ্ক্ষিত এসডিজি অর্জন করবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি সফল আনাডি। ডোমেস্টিক ও ইন্টারন্যাশনাল চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এজন্য আসলে টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু চেষ্টা ও উদ্যোগ থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে সেরা আনাডি উদ্যোক্তা হিসেবে পাঁচজনকে পুরস্কৃত করা হয়।
তারা হলেন- রোবায়েত ফ্যাশন হাউজের রোবায়েত রজনী, মনীপুরি কুঠুরীর (রাঙামাটি) উদ্যোক্তা সায়মা ফেরদৌস, ক্লাসি ড্রেস গ্যালারির জামিলা মুন্নি, দেবু দা-র ঘি’র দেবব্রত ঘোষ ও জিনাত কেয়ারের এসএফ জিনাত।

অনুষ্ঠান শেষে একই স্থানে উদ্যোক্তা ও স্পন্সরদের প্রোডাক্ট ডিসপ্লে, লাইভ এবং মেহেদী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।