মেইন ম্যেনু

উখিয়ায় প্রস্তাবিত উন্মুক্ত কারাগার নির্মাণে ১৬০ একর জমি বরাদ্দ

কক্সবাজারের উখিয়ায় বাস্তব রুপ পাচ্ছে প্রস্তাবিত উম্মুক্ত কারাগার। দেশের প্রথম উন্মুক্ত এ কারাগার নির্মাণ করতে ১৬০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দিয়েছে সরকার। মালয়েশিয়ার উন্নত কারাগারের আদলে উখিয়ার বড়বিল গ্রামে তৈরি হবে এটি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের দেয়া এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগে পাঠানো হয়েছে।সম্প্রতি প্রকল্পস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি টিম।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ আখন্দ উন্মুক্ত কারাগার প্রকল্পের জন্য ১৬০ একর খাসজমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কারা অধিদফতরের আবেদন ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব এবং সুপারিশের প্রেক্ষিতে উখিয়া উপজেলাধীন পাগলির বিল মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত বিএস ৮০৩ নম্বর দাগের ১৬০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মালয়েশিয়ার সিআরপির আদলে লঘু অপরাধে দন্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ১৬০ একর জমি জুড়ে এ কারাগার গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেল সুপারের মতে, এ কারাগার হবে মূলত সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। উন্মুক্ত কারাগারে বন্দিরা কারাগারের সীমানার মধ্যেই থাকবেন। তবে কাজের জন্য তারা বাইরে যাওয়া-আসার সুযোগও পাবেন। বিশ্বের অনেক দেশেই এমন কারাগার রয়েছে। এসব কারাগার মূলত সংশোধনাগারের আদলে গড়ে তোলা হয়। আমাদের এখানেও একইভাবে কারাগারটি নির্মাণ করা হবে।

কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন)একেএম মোস্তফা কামাল পাশা জানান, এটি একটি চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প। দুর্গম এলাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ চিত্র পাল্টে যাবে। গ্রামে শহরের ছোঁয়া লাগবে। উম্মুক্ত কারাগারে বন্দিরা যেমন সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ পাবেন, তেমনি গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হবে। কারাগারের বাউন্ডারির মধ্যেই থাকবে শিল্প-কারখানা। কারাবন্দিরা সেসব কারখানায় কাজ করতে পারবেন। আবার কিছু কারাবন্দিদের জন্য কারাগারের বাইরেও কাজ করার সুযোগ থাকবে। তারা সকালে কাজের জন্য বাইরে যাবেন, কাজ শেষে সন্ধ্যায় ফিরে আসবেন।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেলার রীতেশ চাকমা উন্মুক্ত কারাগার বিষয়ে বলেন, নির্ধারিত সাজার অর্ধেকের বেশি সময় যেসব বন্দি পার করেছেন এবং যারা কারাগারে ভালো আচরণ করেছেন কেবল তাদেরই উন্মুক্ত কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এই প্রশিক্ষণে যারা ভালো করবেন, তাদের উন্মুক্ত কারাগারের বাইরেও কাজ করার সুযোগ দেয়া হবে। এসব বন্দি সকালে কাজের জন্য কারাগার থেকে বেরিয়ে যাবেন, সন্ধ্যায় কাজ শেষে আবার ফিরে আসবেন। কেউ ফিরে না এলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



মন্তব্য চালু নেই