প্রধান ম্যেনু

উহান ফেরত ৩১২ বাংলাদেশি বাড়ি ফিরবেন শনিবার

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চীনের উহান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা ৩১২ বাংলাদেশিকে দুই সপ্তাহের পর্যবেক্ষণ শেষে আগামী শনিবার বাড়ি ফিরতে পারবেন তারা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে এক কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, চীন থেকে ফেরা এই বাংলাদেশিরা ‘কোয়ারেন্টিনের শেষ পর্যায়ে’ আছেন।

তিনি আরো বলেন, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের পর্যবেক্ষণের ১৪ দিন পূর্ণ হবে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৫ তারিখ আমরা তাদের ছেড়ে দেব। এখানে আর কোনো সমস্যা নেই। তাদের সবাই ভালো আছেন।

করোনাভাইরাস নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষানিরীক্ষায় প্রমাণ হওয়ার আগে এ ধরনের কথা ছড়ানো ঠিক নয়।

গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দুয়েকটি ঘটনা শুনছি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। রংপুরে একজন ভর্তি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় নানা অসুখ-বিসুখ নিয়ে লোকজন ভর্তি হয়। আমাদের কখনোই মনে করা উচিত না তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। যে পর্যন্ত প্রমাণ না হয় তার আগ পর্যন্ত তাকে যেন এটা আমরা না বলি। এ ধরনের কথা বললে আতঙ্ক ছড়ায়।

গতবছরের শেষ দিন চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। ওই শহরের একটি সি ফুড মার্কেট থেকেই ভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংক্রমণের সংখ্যা এবং প্রাণহানি বাড়তে থাকায় এক পর্যায়ে উহানসহ হুবেই প্রদেশের একটি বড় অংশে চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চীন সরকার। ফলে উহানের ১ কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া ও গবেষণায় থাকা কয়েকশ বাংলাদেশিও কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে পড়েন।

বিভিন্ন দেশে ভাইরাস ছড়াতে থাকায় এ ভাইরাস নিয়ে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ নিজ দেশের নাগরিকদের উহান থেকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়।

এরপর ১ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ বিমানে করে দেশে ফেরেন ৩১২ জন বাংলাদেশির প্রথম দলটি। আটজনের শরীরে জ্বর থাকায় তাদের ঢাকার দুটি হাসপাতালে রেখে বাকিদের আশকোনা হজক্যাম্পে ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণে পাঠানো হয়।

তাদের মধ্যে ৩০১ জন এখন আশকোনা হজক্যাম্পে আছেন, বাকি ১১ জন আছেন ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। কারও মধ্যেই করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি বলে জানিয়ে আসছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআর।



মন্তব্য চালু নেই