মেইন ম্যেনু

একাধিক নারীর সঙ্গে সখ্যতা ছিল ধর্ষক বাবুলের

শায়েস্তাগঞ্জে কিশোরী বিউটি আক্তারকে হত্যার ঘটনায় আরও দুই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- অভিযুক্ত বাবুল মিয়ার খালা জহুর চান বিবি (৬০) ও খালাত বোন ঝুমা আক্তার (২০)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধান আসামি বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তার খালা ও খালাত বোনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।

জানা গেছে, বিউটিকে এক মাস ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার মূল অভিযুক্ত বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। রাস্তাঘাটে নারীদের উত্ত্যাক্ত করা, সখ্যতা গড়ে প্রতারণা ও অনৈতিক কাজের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা জানান, ভয়ে অনেক নারীই কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। আর এই সুযোগে সে একের পর এক অপরাধ ঘটিয়ে গেছে। আর ছেলের এসব অনৈতিক কার্যকলাপে তার মা ইউপি সদস্য কলমচান বিবিরও সায় রয়েছে। ছেলের বিরুদ্ধে তার কাছে কোনো অভিযোগ নিয়ে গেলে তিনি দায়সারা কথা বলতেন বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামে মৃত মলাই মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (৩০) বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। ২০১০ সালে গ্রামের তৌহিদ মিয়ার মেয়ে সিলেটের এক প্রবাসীর স্ত্রী তাসলিমা আক্তারকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পরও সে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছে এবং তাদের ব্ল্যাকমেইল করে অত্যাচার চালিয়েছে। রাস্তাঘাটে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও উত্ত্যাক্ত ও হয়রানি করেছে।

সর্বশেষ গত ২১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের দিনমজুর সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা। এক মাস তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এক মাস নির্যাতনের পর বিউটিকে কৌশলে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় বাবুল। এ ঘটনায় গত ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন।

পরে মেয়েকে সায়েদ আলী তার নানার বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। এরপর বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে ১৬ মার্চ বিউটি আক্তারকে উপজেলার গুনিপুর গ্রামের তার নানার বাড়ি থেকে রাতের আঁধারে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ফের ধর্ষণের পর তাকে খুন করে মরদেহ হাওরে ফেলে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

এদিকে বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে ১৭ মার্চ তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা কলমচান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ইসমাইলকে আটক করে। কিন্তু মূল হোতা বাবুলকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

বিউটির বাবা সায়েদ আলী বলেন, বখাটে বাবুলের কারণে শুধু আমার মেয়েই নয়, এলাকার অনেক মেয়েই লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমার মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে সে।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, বিউটি হত্যাকাণ্ডের দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মূল হোতা বাবুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।



মন্তব্য চালু নেই