মেইন ম্যেনু

এখনও মানুষের মুখে মুখে রাজশাহীর পুঠিয়া

এইচ. এম নুর আলম : পুঠিয়া রাজবাড়ীর অনেক পুরাকীর্তি এখন ধ্বংসের মুখে এবং ধ্বংস হয়ে গেছে চারআনী রাজবাড়ীও। তবে স্থাপত্যশৈলী অবাক করার মতো। এখনও টিকে আছে অনেক নিদর্শন।তবুও এখনও রয়ে গেছে মানুষের মুখে মুখে পুঠিয়া রাজবাড়ীর ইতিহহাস। এগুলোই বহন করে রাজাদের কীর্তি-কাহিনী।

রাজবাড়ীগুলো ছোট বেলা থেকেই দেখার অদম্য সখ ছিলো। ফুরসত পেলেই সময়টুকু কাজে লাগাই। কিন্তু গত কয়েক বছর আগে রাজশাহীর বাঘা মসজিদ ঘুরে আসার পর আর যেনো সময় মিলছিল না।তাই হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নিলাম নানার বাড়ী নাটোর এবং রাজশাহী ভ্রমণ পথে এবার পুঠিয়া দেখেই আসবো। সেই অদম্য ইচ্ছা থেকেই পুঠিয়া যাওয়া। পুঠিয়া রাজশাহী জেলার একটি পুরোনো নাম আর ইতিহাস যার সাক্ষী এখনো বহন করে সেই ধ্বংসাবশেষ স্থাপনাগুলো।তবে পুঠিয়াকে জানার আগে জেনে নেই রাজশাহী জেলার বেশ কিছু তথ্য।

অবস্থান ও আয়তন
রাজশাহী জেলার উত্তরে নওগাঁ জেলা, দক্ষিণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, কুষ্টিয়া জেলা ও পদ্মা নদী, পূর্বে নাটোর জেলা, পশ্চিমে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা। দেশের প্রধানতম নদী পদ্মা এই জেলার সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

নামকরণ ইতিহাস
এই জেলার নামকরণ নিয়ে প্রচুর মতপার্থক্য রয়েছে। তবে ঐতিহাসিক অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়র মতে রাজশাহী রাণী ভবানীর দেয়া নাম। অবশ্য মিঃ গ্রান্ট লিখেছেন যে, রাণী ভবানীর জমিদারীকেই রাজশাহী বলা হতো এবং এই চাকলার বন্দোবস্তের কালে রাজশাহী নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। পদ্মার উত্তরাঞ্চল বিস্তীর্ন এলাকা নিয়ে পাবনা পেরিয়ে ঢাকা পর্যন্ত এমনকি নদীয়া, যশোর, বর্ধমান, বীরভূম নিয়ে এই এলাকা রাজশাহী চাকলা নামে অভিহিত হয়। অনুমান করা হয় ‘রামপুর’ এবং ‘বোয়ালিয়া’ নামক দু’টি গ্রামের সমন্বয়ে রাজশাহী শহর গ’ড়ে উঠেছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে ‘রামপুর-বোয়ালিয়া’ নামে অভিহিত হলেও পরবর্তীকালে রাজশাহী নামটিই সর্ব সাধারণের নিকট সমধিক পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে আমরা যে রাজশাহী শহরের সঙ্গে পরিচিত, তার আরম্ভ ১৮২৫ সাল থেকে। রামপুর-বোয়ালিয়া শহরের নামকরণ রাজশাহী কী করে হলো তা নিয়ে বহু মতামত রয়েছে।

রাজাশাহী শব্দটি বিশ্লেষণ করলে দুটি ভিন্ন ভাষার একই অর্থবোধক দুটি শব্দের সংযোজন পরিলতি হয়। সংস্কৃত ‘রাজ’ ও ফারসি ‘শাহ’ এর বিশেষণ ‘শাহী’ শব্দযোগে ‘রাজশাহী’ শব্দের উদ্ভব, যার অর্থ একই অর্থাৎ রাজা বা রাজা-রাজকীয় বা বা বাদশাহ বা বাদশাহী। তবে বাংলা ভাষায় আমরা একই অর্থের অনেক শব্দ দু-বার উচ্চারণ করে থাকি। যেমন শাক-সবজি, চালাক-চতুর, ভুল-ভ্রান্তি, ভুল-ত্র“টি, চাষ-আবাদ, জমি-জিরাত, ধার-দেনা, শিক্ষা-দীক্ষা, দীন-দুঃখী, ঘষা-মাজা, মান-সম্মান, দান-খয়রাত, পাহাড়-পর্বত, পাকা-পোক্ত, বিপদ-আপদ ইত্যাদি। ঠিক তেমনি করে অদ্ভুত ধরনের এই রাজশাহী শব্দের উদ্ভবও যে এভাবে ঘটে থাকতে পারে তা মোটেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। এই নামকরণ নিয়ে অনেক কল্পকাহিনীও রয়েছে। সাধারণভাবে বলা হয় এই জেলায় বহু রাজা-জমিদারের বসবাস, এজন্য এ জেলার নাম হয়েছে রাজশাহী। কেউ বলেন রাজা গণেশের সময় (১৪১৪-১৪১৮) রাজশাহী নামের উদ্ভব। ১৯৮৪ সালে রাজশাহীর ৪ টি মহকুমাকে নিয়ে রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর এবং নবাবগঞ্জ- এই চারটি স্বতন্ত্র জেলায় উন্নীত করা হয়।

শিক্ষাব্যবস্থা
রাজশাহী জেলাকে শিক্ষা নগরী বলা হয়। এখানে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, একটি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়, একাধিক ঐতিহ্যবাহী কলেজ (রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী নিউ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী সিটি কলেজ, রাজশাহী মহিলা কলেজ), কারিগরী মহাবিদ্যালয়, একটি ক্যাডেট কলেজ সহ আরও অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

পুঠিয়া রাজবাড়ী
পুঠিয়া রাজবংশ মুঘল সম্রাট আকবরের সময়(১৫৫৬-১৬০৫) প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় পুঠিয়া লস্করপুর পরগণার অন্তর্গত ছিলো।পুঠিয়া রাজবংশের প্রথম পুরুষ বৎসাচার্য। বৎসাচার্য এর পরামর্শে মানসিংহ ও লস্করখানের মধ্যে যুদ্ধ হলে জিতে যাওয়ায় মানসিংহ বৎসাচার্যকে পুঠিয়া এলাকার জমিদারী দান করেন। তাঁর পুত্র পিতম্বর মারা গেলে সহোদর নীলাম্বর জমদিারী প্রাপ্ত হন। নীলাম্বরের মৃত্যুর পর আনন্দরাম এবং এর পুত্র রতিকান্তের জ্যেষ্ঠ্য রামচন্দ্র সকল সম্পদের উত্তরাধিকারী হন।এর রামচন্দ্রের একমাত্র পুত্র প্রেমনারায়ণ এর উত্তরাধিকারী হন। প্রেমনারায়ণের চারপুত্রের মধ্যে বড় পুত্র নরেন্দ্র নারয়ণ পায় পাঁচআনী এবং ছোট ভাই প্রাণ নারায়ণ পায় সাড়ে তিন আনি।তবে রুপ নারায়ণের অংশে পরে চারআনী যা চারআনী এস্টেট নামে পরিচিত।

সপ্তদশ শতকে মোগল আমলে তৎকালীন বাংলার বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে পুঠিয়া জমিদারি ছিল প্রাচীনতম। কথিত যে জনৈক নীলাম্বর মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের (১৬০৫—২৭ খ্রি.) কাছ থেকে ‘রাজা’ উপাধি লাভ করার পর সেটি পুঠিয়া রাজবাড়ীরূপে পরিচিতি লাভ করে। ১৭৪৪ সালে জমিদারি ভাগ হয়। সেই ভাগাভাগিতে জমিদারের বড় ছেলে পান সম্পত্তির সাড়ে পাঁচ আনা এবং অন্য তিন ছেলে পান সাড়ে তিন আনা।১৯৫০ সাল পর্যন্ত জমিদারি প্রথা ছিল। প্রথা বিলুপ্ত হলে পুঠিয়া রাজবাড়ীর জমিদারিও বিলুপ্ত হয়। কিন্তু জমিদারি বিলুপ্ত হলেও সে আমলে নির্মিত তাঁদের প্রাসাদ, মন্দির ও অন্যান্য স্থাপনা ঠিকই এখনো টিকে রয়েছে। অপরূপ এ প্রাসাদটি ১৮৯৫ সালে মহারানী হেমন্ত কুমারী দেবী তাঁর শাশুড়ি মহারানী শরৎ সুন্দরী দেবীর সম্মানে নির্মাণ করান।

অবস্থান
রাজশাহী জেলা সদর হতে ৩২ কিঃমিঃ উত্তর- পূর্বে নাটোর মহাসড়ক অভিমুখে পুঠিয়া অবস্থিত। এখানে রয়েছে চারআনী এবং পাঁচআনি জমিদারবাড়ী। রয়েছে বিভিন্ন মন্দির, রানীর গোসলের জন্য নির্মিত পুকুর,বিশ্রাম স্থানসহ রাজ দরবার।রয়েছে শিব মন্দির এবং গোবিন্দ মন্দির।পুঠিয়াতে নামলেই রাজবাড়ী যাওয়ার পথে ‘পুঠিয়া মন্দির’ নামে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে।

যেভাবে তৈরী রাজবাড়িটি:
ভবনের সম্মুখ ভাগের স্তম্ভ, অলংকরন, কাঠের কাজ, কক্ষের দেয়ালে ও দরজার উপর ফুল ও লতাপাতার চিত্রকর্ম চমৎকার নির্মাণ শৈলীর পরিচয় বহন করে। রাজবাড়ীর ছাদ সমতল, ছাদে লোহার বীম, কাঠের বর্গা এবং টালি ব্যবহৃত হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য রাজবাড়ির চারপাশে পরিখা খনন করা হয়েছিল।

পুঠিয়া রাজবাড়ীর আশে পাশে ছয়টি রাজদিঘী আছে। প্রত্যেকটা দিঘীর আয়তন ছয় একর করে। মন্দিরও আছে ছয়টি। সবচেয়ে বড় শিব মন্দির। এ ছাড়া আছে রাধাগোবিন্দ মন্দির, গোপাল মন্দির, গোবিন্দ মন্দির, দোলমঞ্চ ইত্যাদি। প্রতিটি মন্দিরের দেয়ালেই অপূর্ব সব পোড়ামাটির ফলকের কারুকাজ। জোড়বাংলা মন্দির, বাংলো মন্দির, পঞ্চরত্ন অর্থাৎ চূড়াবিশিষ্ট মন্দির অর্থাৎ বাংলার বিভিন্ন গড়নরীতির মন্দিরগুলোর প্রতিটিই আকর্ষণীয়। এ ছাড়া রানির স্নানের ঘাট, অন্দর মহল মিলিয়ে বিশাল রাজবাড়ী প্রাঙ্গণ। এখন দীঘিটি পরিত্যক্ত।ভাঙাবশেষ এখনও সেই কীর্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

শিব মন্দির:
রাজশাহী জেলার পুঠিয়া বাজারে অবস্থিত এ মন্দিরটি বিরাট আকারের দীঘির দক্ষিণ পাড়ে একটি উঁচু মঞ্চের উপর নির্মিত। বর্গাকারে নির্মিত মন্দিরের প্রতিটি বাহু ১৯.৮১ মিটার দীর্ঘ এবং সমতল থেকে সর্বোচ্চ চূড়ার উচ্চতা ৩৫.০৫ মিটার।পঞ্চরত্ন এ মন্দিরের এ মন্দিরের একটি গর্ভগৃহ এবং চারপাশে টানা বারান্দা আছে। মন্দিরে উঠার জন্য উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে উঁচু সিঁড়ি। মন্দিরের চার কর্নারের ৪টি এবং কেন্দ্রস্থলে একটি মোট ৫টি চূড়া বা রত্ন আছে। চূড়াগুলোর চারপাশে সন্নিবেশিত রয়েছে বিভিন্ন স্তরে মৌচার আকারে নির্মিত অসংখ্য ছোটো ছোটো চূড়া, পূর্ব,পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে একটি করে প্রবেশ পথ আছে। এছাড়া প্রত্যেক বারান্দায় রয়েছে ৫টি করে খিলান প্রবেশ পথ। চুন সুরকীর মসলার সাহায্যে ইট দ্বারা নির্মিত এ ইমারতের দেয়ালে চুন সুরকীর আস্তর বিদ্যমান। মন্দির দেয়ালের বাইরের গায়ে পলেস্তরারয় বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীর চিত্র দ্বারা সুন্দরভাবে অলংকৃত ছিলো। বর্তমানে এ সব অলংকরণের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। এ মন্দিরের উপর অনেক সূচালো আকৃতি গম্বুজ রয়েছে। ১৮২৩ খ্রিষ্টাব্দে পাঁচআনী জমিদার জমিদার রাণী ভূবনময়ী দেবী এ মন্দির নির্মাণ করেন।

জগন্নাথ বা রথ মন্দির
শিব মন্দিরের পূর্ব পাশে একটু ফাঁকা জায়গায় এ মন্দির অবস্থিত।অনেক উঁচু কয়েকটি ইট সুরকীর খুঁটি দিয়ে এটি দাঁড়িয়ে রয়েছে।১৮৩০ সালে রানী ভূবনময়ী এটি নির্মাণ করেন। মন্দিরটি অষ্টকোণাকারে ৮ টি পিলার দিয়ে নির্মিত।

দোল মন্দির:
এটি পুঠিয়া বাজরের মধ্যে চারতলাবিশিষ্ট একটি সুরম্য অট্টালিকা। মন্দিরের প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ ২১.৫৪ মিটার। এটি দোলমঞ্চের মতো একমশ সরু হয়ে উপরের দিকে উঠেছে।পাঁচআনী জমিদার ভূবেন্দ্র নারায়ণ রায় ১৭৭৮ সালে এ মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরটিতে প্রবেশের জন্য ৬৪ টি দরজা রয়েছে চারতলা মিলিয়ে।

পাঁচআনী রাজবাড়ী
বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের মধ্যে রাজশাহীরপুঠিয়া রাজবাড়ী অন্যতম।১৮৯৫ সালে মহারানী হেমন্তকুমারী দেবী আকর্ষনীয় ইন্দো ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতিতে আয়তাকার দ্বিতল বর্তমান রাজবাড়ীটি নির্মাণ করেন। শিব মন্দির পেড়িয়ে গেলে আড়ানী বাজার পার হয়ে বিশাল বড় মাঠ চোখে পড়ে।মাঠ পেরুলেই বিশাল রাজবাড়ী চোখে পড়ে।বর্তমানে এটি মিউজিয়াম হিসেবে সংস্কারের জন্য কাজ চলছে।

গোবিন্দ মন্দির:
রাজবাড়ীর ভেতরে অবস্থিত ইট নির্মিত উঁচু বেদীর উপর বর্গাকারে নির্মিত এ মন্দির।এ মন্দিরের প্রতিটি বাহু ১৪.৪৭ মিটার দীর্ঘ এবং উচ্চতা প্রায় ১৮.২৮ মিটার। পঞ্চরত্ন স্থাপত্য পরিকল্পনায় নির্মিত এ মন্দিরের চারকোণে ৪ টি এবং কেন্দ্রস্থলে একটি করে মোট ৫ টি শিখর বা রত্ন আছে। শিখরগুলো ক্ষুদ্রাকারে চৌচালা আকারে নির্মিত। প্রথম তলার প্রত্যেক পাশে ৩ টি করে প্রবেশ পথ আছে। প্রত্যেক প্রবেশ পথের উপরাংশে বহুমুখী খিলান দেখা যায়। ছাদের প্রান্ত আংশিক বাঁকানো সম্পূর্ণ ইট নির্মিত এ মন্দিরের দেয়াল পোড়ামাটির চিত্রফলক দ্বারা সজ্জিত। চিত্রফলকগুলোতে রামায়ণ ও মহাভারতে বর্ণিত যুদ্ধের চিত্র এবং হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।এ মন্দির পুঠিয়া এস্টেটের মহারাণী হেমন্তকুমারী দেবীর মাধ্যমে খ্রিষ্টাব্দ ১৮২৩ থেকে ১৮৯৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে নির্মিত।

মন্দিরটি পেড়িয়ে ভেতরে যেতেই পাশে একটি পুকুর রয়েছে। জানা গেছে, পাঁচআনী রানীরা এখানে গোসল করতেন।বাড়িটি এখন পরিত্যক্ত।রাজবাড়ির একটি অংশ সংস্কার করে উপজেলা ভূমি অফিস তৈরি করা হয়েছে। রাজবাড়ির একপাশে বসার বেশ জায়গা রয়েছে। তরুন-তরুণীরা এখানে বসে অবসর সময় কাটায়।

চার আনী রাজ বাড়ী:
পাঁচআনী রাজবাড়ী পড়িয়ে রাস্তার পশ্চিম পাশে শ্যামসাগর দীঘির পাশে অবস্থিত চারআনী রাজবাড়ী। পাশে পুঠিয়া কলেজ অবস্থিত। ১৮৯৫ সালের দিকে এ রাজবাড়ী নির্মিত হয় বলে জানা যায়।তবে কোনো নামফলক বা ইতিহাস ফলক চোখে পড়ে না এ রাজবাড়ীর। প্রবেশ পথে একটি অর্ধভগ্ন গেইট রয়েছে ভেতরে দক্ষিণ পাশে এবং পশ্চিম পাশে বড় আকারের প্রাসাদ নির্মিত।এটি ১৯৭১ সালে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।বর্তমান এটি একেবারেই পরিত্যক্ত।প্রবেশপথের পাশেই বর্তমান একটি মাদরাসা নির্মিত হয়েছে। ভেতরে কাছারি বাড়ী, খাঞ্জাচিখানা এবং অন্যান্য কক্ষ রয়েছে। তবে ভেতরে পৃথক জায়গায় ২০১৭ সালে পুঠিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস গড়ে উঠেছে। দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে প্রাসাদের অসংখ্য দরজা রয়েছে এবং ছোট ছোট কক্ষ রয়েছে যেটাতে লোহার খাঁচা রয়েছে। জানা গেছে, যারা খাজনা পরিশোধ করতে পারতো না তাদের ধরে নিয়ে রাজা সে খাঁচাতে পুরতো। ভেতরে এখন পরিত্যক্ত এবং জঙ্গলময়।

চারআনী মন্দির:
রাজবাড়ী থেকে বের হয়ে শ্যামসাগর পুকুরের সামনে পশ্চিম পাশে বড় আহ্নিক, ছোট গোবিন্দ গোপাল মন্দির চারআনী মন্দির নমে পরিচিত। জমিদার কত্রিক এ মন্দিরগুলো নির্মাণ করেন বলে জানা গেছে। সুদীর্ঘ এবং বিশাল গম্বুজ বিশিষ্ট মন্দিরগুলোতে এখন প্রবেশ নিষিদ্ধ। গেইটে তালাবদ্ধ থাকে সব সময়।গিয়ে মন্দিরের কোনো লোককেই খুঁজে পাওয়া গেলো না। তবে এগুলো এখনো অক্ষত রয়েছে। ভেতরে প্রবেশ পথে বেশ কিছু শোভা বর্ধনকারী গাছ রয়েছে।সামনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি সাইনবোর্ড ঝুলানো রয়েছে।

হাওয়া খানা:
পুঠিয়া-রাজশাহী মহাসড়কের তারাপুর বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দক্ষিণে এবং পুঠিয়া বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে একটি পুকুরের মধ্যবর্তী স্থানে হাওয়াখানা অবস্থিত। দ্বিতল এ ইমারতের নীচতলার আর্চযুক্ত। এ ইমারতের দক্ষিণ পাশে দোতালায় উঠার জন্য সিড়ি আছে। পুঠিয়া রাজবাড়ীর সদস্যরা রাজবাড়ী থেকে রথ বা হাতীযোগে, পুকুরে নৌকায় চড়ে এসে অবকাশ যাপন এবং পুকুরের খোলা হাওয়া উপভোগ করতেন বলে জানা যায়। পুঠিয়ার রাজা এবং মহারানীগণ এখানে এসে হাওয়া খেতেন, বেড়াতে আসতেন।
এছাড়াও পুঠিয়া বাজারের পাশে রয়েছে কৃষ্ঞপুর মন্দির (সালামের মঠ), শিব মন্দির (খিতিশ চন্দ্রে মঠ) এবং খেষ্ট খেপার মঠ।

যেভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে ট্রেনে আসতে চাইলে লালমনি এক্সপ্রেস, নীলসাগর, রংপুর এক্সপ্রেস আসতে পারেন অথবা বাসেও বিলাসবহুল বা কোচ গাড়ীতেও আসতে পারেন। একইভাবে রংপুর থেকেও যেতে পারেন ট্রেনে বা বাসে। ঢাকা বা রংপুর থেকে বাস সরাসরি রাজশাহী আসে।এসে পুঠিয়ায় নামতে হবে আপনাকে। এরপর ভ্যানে বা অটোরিকসাযোগে এক কিমি পথ গেলেই আড়ানী বাজার পাবেন।সেখানেই মূলত রাজবাড়ী অবস্থিত। পুরো জায়গাটা ঘুরতে আপনাকে অর্ধেক দিন চলে যাবে।


লেখক : এইচ. এম নুর আলম, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।


 



মন্তব্য চালু নেই