প্রধান ম্যেনু

এবার ভারত সফর বাতিল করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুমোদন নিয়ে সংঘর্ষ ছড়িয়েছে গোটা দেশে। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লিতে পূর্ব নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

ফরাসী সংবাদ মাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিক সংখ্যক অভিবাসীদের নাগরিত্ব দেয়ার নতুন আইন বাস্তবায়নে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কারণে শুক্রবার ভারত ও জাপান তাদের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছে। এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর বাতিল করেন।

গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। এতে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা গুয়াহাটিতে বেশ কিছু গাড়িতে আগুন দিয়েছে।

নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বাতিলের দাবিতে রাজধানী দিল্লি ছাড়াও মোদির নিজ রাজ্য গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কেরালা, কর্ণাটক, দক্ষিণ ও উত্তর পাঞ্জাবে বিক্ষোভ হয়েছে।

রোববার আসামের গুহাহাটিতে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

এ নিয়ে ভারত বলছে, উভয় দেশের আলোচনায় সফরের বিষয়টি বাতিল করা হয়েছে। এদিকে টোকিও বলছে, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ভারতের প্রতিবেদনের পরে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কলকাতার প্রভাবশালী গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, ২০১৭ সালে ভারত ও জাপানের মধ্যে বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল উত্তর-পূর্ব ভারতে অর্থনৈতিক আধুনিকীকরণ। যোগাযোগ, পরিকাঠামো এবং শিল্পক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক আরও নিবিড় করে তোলা।

উত্তর-পূর্বের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গুয়াহাটিকে কেন্দ্র করে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, সেখানে বিক্ষোভের মুখে সবকিছু বিবেচনায় বৈঠক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর পরে বৈঠক কবে হবে বা আসাম থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও নেয়া হবে কিনা, তা নিয়েও দু’পক্ষের কেউই এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

বুধবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে এ বিল পাস হয়। পরে নিম্ন কক্ষে এটি অনুমোদনের পরেই সরকারের পক্ষ থেকে কারফিউ জারি করা হয়। এছাড়া প্রচুর সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়। হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী কারফিউ ভেঙ্গে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। এতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে বৃহস্পতিবার পুলিশের গুলিতে তিন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

এদিকে এ আইন বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ।

বৃহস্পতিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে বিলটি অবৈধ ঘোষণার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন, বিলটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এটি সমর্থন করছে।

এদিকে বিলটি নিয়ে বিজেপি বলছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি (ক্যাব) ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা লোকদের অভয়ারণ্য দেবে।

ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের দায়ের করা সুপ্রিম কোর্টের আবেদনে বলা হয়েছে, বিলে সাম্যতা, মৌলিক অধিকার এবং জীবন রক্ষা অধিকারের অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করা হয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই