মেইন ম্যেনু

ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী হলেন মোশাররফ হোসেন কাজল

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর মামলায় সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন দুদকের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ওসি মোয়াজ্জেমের পক্ষে একজন সাক্ষীকে জেরার জন্য প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল সাইবার ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন। তবে মামলার নথিতে দাখিল করা ওকালতনামায় তার নাম ও সই না থাকায় বিচারক তাকে জেরা করার অনুমতি দেননি।

উল্লেখ্য, এ মামলার আসামি ওসি মোয়াজ্জেমের পক্ষে লড়ছেন আইনজীবী ফারুক হোসেন।

বুধবার হাজির ছিলেন মামলার বাদী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন ও একমাত্র আসামি মোয়াজ্জেম হোসেন। এ সময় মামলার সাক্ষী টেলিভিশনের সাংবাদিক আতিয়ার হাওলাদারকে জেরা করছিলেন মোয়াজ্জেমের পক্ষে আইনজীবী ফারুক হোসেন।

জেরা চলমান অবস্থায় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

এ সময় ফারুক হোসেন বিজ্ঞ আদালতকে জানান, সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে মোশাররফ হোসেন কাজল অবশিষ্ট জেরা করবেন।

কাজল জেরা করতে এলে তাকে থামিয়ে দেন বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন। বিজ্ঞ আদালত তার কাছে জানতে চান, ওকালতনামায় নাম ও সই আছে কিনা।

জবাবে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আমি সিনিয়র হিসেবে এসেছি। দাখিলকৃত ওকালতনামায় সই নেই আমার। তবে আদালত অনুমতি দিলে জেরা করবেন বলে জানান কাজল।

বিচারক বলেন, ওকালতনামায় আপনি (কাজল) স্বাক্ষর না করলে জেরা করার সুযোগ নেই।

কাজল বলেন, সিনিয়র আইনজীবীরা ওকালতনামায় নাম না থাকলেও আদালতের অনুমতি নিয়ে মামলা পরিচালনা করতে পারেন। নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে হাইকোর্টেও এ চর্চা রয়েছে।

কাজলের এমন জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন বলেন, আপনার মতো সিনিয়র এ মামলা পরিচালনায় এলে আদালতও উপকৃত হবে।

তবে জেরা করতে হলে আইন অনুযায়ী ওকালতনামায় আপনাকে সই করতে হবে। আপনি চাইলে এখনই আদালতের নথিতে যে ওকালতনামা দেয়া আছে, সেখানে সই করে জেরা শুরু করতে পারেন।

কাজল বিচারককে ধন্যবাদ দেন।

তবে এভাবে ওকালতনামায় সই না দিয়ে আগামী কোনো এক তারিখে সইসহ ওকালতনামা দাখিল করবেন বলে জানান।

তখন বিচারক তাদের লিখিত সময় আবেদন নামঞ্জুর করে জেরা করতে বলেন।

এর পর আইনজীবী ফারুক বলেন, আবেদন নামঞ্জুর করেছেন, আমাদের আর কিছু বলার নেই। তখন বিচারক সাক্ষী আতিয়ার হাওলাদারের সাক্ষ্য শেষ ঘোষণা করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২ অক্টোবর পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন।

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বহীন আচরণের জন্য দোষী সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ১৬ জুন বিকালে হাইকোর্ট এলাকা থেকে আটক হন তিনি। পর দিন জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে তাকে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারিক আদালত। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

এই আবেদন গ্রহণ করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ রুমে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে থেকেই নুসরাতের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিতে থাকেন সিরাজ।

তবে মামলা তুলে না নিলে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন অধ্যক্ষের সহযোগীরা। গত ১০ এপ্রিলের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন মৃত্যু হয় নুসরাতের।

গত ২৬ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা তার অফিসকক্ষে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি করেন।

রাফি এর প্রতিবাদ করেন এবং এ বিষয়ে রাফির মা শিরীন আক্তার মামলা করলে পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠান। ওই মামলা প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল নুসরাত ও তার পরিবারকে।

কিন্তু মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে রাফির গায়ে আগুন দেয় বোরকা পরা কয়েকজন। আগুনে শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া রাফি ১০ এপ্রিল রাতে হাসপাতালে মারা যান।

রাফির গায়ে আগুন দেয়ার পর ৮ এপ্রিল তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান অধ্যক্ষ সিরাজকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। রাফির মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

হত্যাকাণ্ডের দিন দশেক আগে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত।

থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সেই সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত ৮ মে মোয়াজ্জেমকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি রংপুর রেঞ্জ অফিসে যোগ দেন। গত কদিন থেকে তার গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের ঠেলাঠেলি চলছিল। ঈদের আগে সেখান থেকে নিরুদ্দেশ হন ওসি মোয়াজ্জেম।

পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরোয়ানা জারির দুদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাটি জারি করেন। ১৭ জুন পরোয়ানা তামিল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়।



মন্তব্য চালু নেই