করোনাভাইরাস নিয়ে যে ৯ প্রশ্ন এখনো অজানা

বিশ্বব্যাপী মহামারিতে রূপ নিয়েছে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগ কোভিড–১৯। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ভাইরাসটি এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রায় সবখানে। নতুন এই ভাইরাসটি সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞানীরা সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। এরপরও এটি সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায়নি। নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে আর অনেক উত্তর এখনও অজানা। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন নয়টি প্রশ্নের জবাব।
আওয়ার নিউজ বিডি’র পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

১. কত মানুষ আক্রান্ত
করোনাভাইরাস নিয়ে যে ক’টি প্রশ্ন সবচেয়ে শোনা যায়, তার মধ্যে এটি একটি। ভাইরাস আক্রান্ত হয়েও উপসর্গ প্রকাশ পাচ্ছে না, এমন ব্যক্তিদের কারণে মোট আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভাইরাসটি বহন করেও অনেকের মধ্যে উপসর্গ সেভাবে প্রকাশ হচ্ছে না। এমন কি অনেকে উপসর্গগুলো সেভাবে অনুভবও করতে পারছেন না।

২. কতটা ভয়াবহ
যতক্ষণ আক্রান্তের সংখ্যা সঠিকভাবে জানা না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুর হার নির্ণয় করা অসম্ভব। অনুমান করা হচ্ছে, ভাইসারটিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এক শতাংশ মারা যাচ্ছেন। তবে উপসর্গ প্রকাশ পায়নি এমন আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলে মৃত্যুর হার কম দেখাবে।

৩. উপসর্গের পূর্ণ পরিসর
করোনাভাইরাস আক্রান্তের মূল উপসর্গ হচ্ছে জ্বর ও শুকনা কাশি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের কারও কারও মধ্যে গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতেও দেখা গেছে। এর মধ্যে একটি ধারণা বেশ পোক্ত হতে যাচ্ছে যে, কারও কারও ঘ্রান শক্তি লোপ পাচ্ছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আক্রান্ত কারও কারও ঠান্ডার মৃদু উপসর্গ যেমন- নাক দিয়ে পানি পড়া বা হাঁচি আছে কিনা। আক্রান্ত কিনা তা বোঝার জন্য এই উপসর্গগুলোর দিকে নজর রাখতে হবে। গবেষণা বলছে, এ ধরনের উপসর্গ থাকা ব্যক্তিরা সম্ভাব্য আক্রান্ত। তারা জানেনই না তারা ভাইরাসটি বহন করছেন।

৪. শিশুদের ভূমিকা কী
ভাইরাসটিতে শিশুরা আক্রান্ত হতে পারে। তাদের বেশির ভাগের মধ্যে মৃদু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সাধারণত শিশুরা যে কোনো রোগ দ্রুত ছড়াতে ভূমিকা রাখে। কারণ তারা বেশি সংখ্যক লোকজনের সঙ্গে মেশে এবং মাঠে খেলতে যায়। এ কারণে শিশুদের সুপার–স্প্রেডারও বলা হয়ে থাকে। তবে অন্য বয়সীদের তুলনায় শিশুদের মৃত্যুর হার অনেক কম। করোনার ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয় যে, তারা ঠিক কোন পর্যায় পর্যন্ত এটি ছড়াতে সহায়ক হচ্ছে।

৫. কোথা থেকে এসেছে
২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহান শহরের প্রাণীর বাজার থেকে করোনাভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। এটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সার্স–কভ–২ বলা হয়। যেটি মূলত, বাদুরদের সংক্রমিত করে। ধারণা করা হচ্ছে, ভাইরাসটি প্রথমে বাদুরের মাধ্যমে অজ্ঞাত কোনো প্রজাতির প্রাণীতে ছড়িয়েছে এবং পরে তা মানুষের মধ্যে ছড়ায়। ওই অজ্ঞাত প্রাণী সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। যেটি আরও বেশি সংক্রমণের উৎস হতে পারে।

৬. গ্রীষ্মে কি করোনার আক্রান্তের সংখ্যা কমবে
ঠান্ডা, জ্বর, কাশি সাধারণত গ্রীষ্মের চেয়ে শীত মৌসুমেই বেশি দেখা দেয়। তবে এটি এখনও জানা যায়নি যে, গ্রীষ্মে ভাইরাসটি ছড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসবে কিনা। যুক্তরাজ্য সরকারের বিজ্ঞান বিষয়ক পরামর্শকেরা সতর্ক করেছেন এই বলে, করোনার কোনো মৌসুমি প্রভাব রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নয়। যদি এটিতে মৌসুমি প্রভাব থাকে, তবে সেটি ঠান্ড, জ্বরের চেয়েও ছোট কিছু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। আর গ্রীষ্ম জুড়ে ভাইরাসটি যদি সুপ্ত থাকে, তবে শীতে তা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৭. কাদের উপসর্গ গুরুতর হয়
বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই করোনার সংক্রমণ মৃদু। তবে ২০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এটি গুরুতর আকার ধারণ করে। এর কারণ হচ্ছে, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও জিনগত বিষয়। ভাইরাসটির সঙ্গে প্রত্যেকটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আর জিনগত বিষয় জড়িত রয়েছে।

৮. দ্বিতীয়বার সংক্রমণ হয়
গুজব রয়েছে, করোনায় দ্বিতীয়বার আক্রান্ত ব্যক্তির পরীক্ষার পর ভুল তথ্য জানিয়ে বলা হচ্ছে, তিনি ভাইরাসমুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘ মেয়াদে কি ঘটবে, তা বোঝার জন্য রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কিত প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কতক্ষণ টিকে থাকতে পারে, সে ব্যাপারে প্রমাণের চেয়ে অনুমান নির্ভর তথ্যই বেশি। রোগী যদি ভাইরাসটির সঙ্গে লড়াইয়ে সফল হন, তাহলে তার দেহে অবশ্যই প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে। তবে রোগটি যদি মাত্র কয়েক মাস থাকে তাহলে দীর্ঘ মেয়াদি তথ্যের অভাব রয়ে যায়।

৯.ভাইরাসটিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কিনা
ভাইরাসে পরিবর্তন সব সময়ই ঘটতে থাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলোর জিনগত আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে না। সাধারণ নিয়ম অনুসারে, আপনি আশা করেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে ভাইরাসের ভয়াবহতা এক সময় কমে আসবে। তবে এটা নিশ্চিতভাবে এখনই বলা যায় না। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, যদি ভাইরাসটিতে পরিবর্তন ঘটে, তখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সেটিকে আর শনাক্ত করতে পারবে না। তাছাড়া তখন নির্দিষ্ট ভ্যাকসিনও কাজে আসবে না। যেভাবে জ্বরের বেলায় কাজ করে না।



মন্তব্য চালু নেই