করোনার টিকার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রয়েছে : অর্থমন্ত্রী

জরুরি প্রয়োজনে করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ।

বুধবার অর্থনৈতিক এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের টিকা আমরা কীভাবে সংগ্রহ করব এজন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী টিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত পাইনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলেছি, একটি সিঙ্গেল সোর্সের ওপর বসে থাকলে কষ্ট হবে। এজন্য যাতে একাধিক সোর্স থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে পারি সে চেষ্টা করতে হবে, বলেন অর্থমন্ত্রী।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ টিকা উৎপাদনকারীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে এবং অগ্রীম অর্থও দিয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলেছি আমাদেরও এ ধরনের ব্যবস্থায় যেতে হবে। অক্সফোর্ডের সাথে সরসারি সম্পৃক্ত না হলে পারলে ভারতীয় কোম্পানির সাথে সম্পৃক্ত হতে পারি। সকল সোর্স থেকে চেষ্টা করতে হবে যেখান থেকে আমরা পাব সেখান থেকেই ক্রয় করতে হবে।

বিশ্বের দুই কোটির বেশি মানুষকে আক্রান্ত এবং প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া কোভিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে টিকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে অনেক দেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের প্রায় ১৬০টি টিকা উদ্ভাবনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

কয়েক ধাপ পেরিয়ে এখন মানবদেহে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও যুক্তরাজ্যে।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি করা করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল গত মাসের শেষার্ধে প্রকাশ হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এ টিকা নিরাপদ এবং করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে সক্ষম বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এ টিকা তৈরির জন্য অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। সেপ্টেম্বরেই টিকাটি যুক্তরাজ্যের বাজারে ছাড়া শুরু হতে পারে বলে আশাবাদী অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের তৈরি করা টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাশিয়া আগামী অক্টোবরেই গণহারে করোনাভাইরাসের টিকা প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও তাদের টিকা উদ্ভাবনের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

যে টিকা আগে পাওয়া যাবে ও কার্যকর হবে সেটিই আনার চেষ্টা করা হবে বলে এরইমধ্যে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশে যোগাযোগের তাগিদ দিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, ভ্যাকসিন এখনও চূড়ান্ত হয়নি, যদিও রাশিয়া বলছে তারা ফাইনাল স্টেজে আছে। আমার মনে হয় রাশিয়ারটাই মার্কেটে আসতে পারে। রাশিয়ান যে সোর্স তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে আমাদেরকে।

তিনি আরও বলেন, যারাই তৈরি করে তাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ করতে হবে এবং এজন্য আমরা প্রয়োজনীয় অর্থ রেখে দিয়েছি, যখনই প্রয়োজন হবে তখন যেন অর্থায়ন করতে পারি আমাদের কেনার জন্য বা পাওয়ার জন্য।



মন্তব্য চালু নেই