করোনায় ছয়ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন যুবকরা

করোনাভাইরাস মহামারির ফলে দেশের যুবকরা ছয়ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে এক গবেষণায় তুলে ধরেছে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম)। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সঙ্গে একটি যৌথ আয়োজন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সানেমের গবেষণায় বলা হয়েছে, চীনের উহান থেকে সৃষ্ট করোনাভাইরাস মহামারির ফলে দেশের যুবকরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আয়, দারিদ্র্য ও পারিবারিক সহিংসতার মতো কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

আজ শনিবার একশনএইড ও সানেম আয়োজিত ‘ইয়োথ পার্সপেকটিভ অন কোভিড-১৯ ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ: রেসপন্স থ্রো ন্যাশনাল বাজেট প্লানিং’ শীর্ষক ওয়েবিনারে সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান তার গবেষণায় এসব বিষয়গুলো তুলে ধরেন। কোভিড-১৯ মহামারিকে মাথায় রেখে জাতীয় বাজেট এবং এ সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে এতে আলোচনা করা হয়।

গবেষণায় কিছু সুপারিশও উল্লেখ করেন ড. সেলিম রায়হান। এতে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত যুবকদের স্বাস্থ্যগত সুবিধা প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য প্যাকেজের আওতায় তাদের নিয়ে আসা; যাতে তাদের মৌলিক চাহিদা মেটানো যায়। বিস্তৃত শিক্ষা, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে বিনামূল্যে দূরবর্তী শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং তাদের কারিগরি-প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া।

বেকার যুবকদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সোস্যাল সেফটি নেট কার্যক্রম আরও প্রসারিত করা, কর্মসংস্থান ধরে রাখার পরিকল্পনা তৈরি করা এবং যুবকদের পরিচালিত এসএমইগুলোর জন্য কর-ছাড় বা সুদমুক্ত ঋণের দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে সানেম।

সব স্তরের সহযোগিতায় বাংলাদেশ এ সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. সেলিম রায়হান।

এ ওয়েবিনারে বাংলাদেশের তরুণদের ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব নিয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। তিনি বলেন, ‘যুবকদের ওপর কেমন প্রভাব পড়ে তা যেকোনো সংকটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

ফারাহ কবির আরও বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, যুবকদের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া খুবই জরুরি। এ বিষয়গুলো সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কেমন প্রভাব ফেলছে তাও বিবেচনায় নিতে হবে।’ এ সময় যুবকদের সমস্যা সমাধানের জন্য জাতীয় পরিকল্পনা ও লক্ষ্যভিত্তিক নীতিগত বিষয়ের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী ও ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেন। সানেমের গবেষণা পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ও সানেমের রিসার্চ ফেলো মাহতাব উদ্দিন, সানেমের রিসার্চ ইকোনমিস্ট জুবায়ের হোসেন এবং একশনএইড বাংলাদেশের ইয়াং পিপল প্রকল্পের ম্যানেজার নাজমুল আহসান অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেন।



মন্তব্য চালু নেই