মেইন ম্যেনু

শিক্ষকদের অবহেলার বলি সাচার ডিগ্রি কলেজের ৮৪ শিক্ষার্থী

সুজন দাস, চাঁদপুর প্রতিনিধি : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলায় ৮৪জন শিক্ষার্থীর স্নাতক (পাস) ১ম বর্ষের অনলাইন নিশ্চয়ন হয়নি। যে কারনে ১ম বর্ষে ভর্তি ও নিবন্ধন (রেজিষ্ট্রেশন) করতে পারেননি তাঁরা। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়লো এক বছর।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জানুয়ারি থেকে ০৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে সাচার ডিগ্রি কলেজের স্নাতক শ্রেণিতে বিএ ও বিএসএস দুটি শাখায় ১ম বর্ষে ভর্তির জন্য ১৩৪জন শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদন করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্নাতক শ্রেণির ভর্তির ২য় ও সর্বশেষ রিলিজ ¯িøপের মেধাতালিকায় ২৬ শে এপ্রিল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় সাচার কলেজের ১৩৪ জনের মধ্যে ৬০ জনের মেধাতালিকা প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ৮৪ জনের তালিকা প্রকাশ হয়নি।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল আমিন ৮৪জন শিক্ষার্থীদের নাম নিশ্চায়ন করেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, কম্পিউটার সার্ভারের ক্রটি ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া ভর্তিকালীন সময়ে কলেজের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা চলায় যথাযথভাবে কাজ করা যায়নি। এসব কারণে মূলত সমস্যাটি সৃষ্টি হয়েছে। অধ্যক্ষ আরো জানান, শনিবার সকালে কলেজ গভণিং বডির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন খাঁন আলমগীর সাচার সফর করেছেন। সেখানে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে গিয়ে দেখা গেছে, মেধাতালিকায় স্থানপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ২৬ এপ্রিল থেকে ৮ মে তারিখের মধ্যে ভর্তি হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ৯ মে এদের নিবন্ধনের সর্বশেষ তারিখ অতিবাহিত হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেধাতালিকায় নাম না আসায় ৮৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেননি এবং তাঁদের নিবন্ধন হয়নি।

ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী জানান, অনলাইনে ভর্তির জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের কাছ থেকে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা করে নিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় তাঁদের অনলাইনে ভর্তির নিশ্চায়ন হয়নি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁদের শিক্ষা জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এতে করে উৎকন্ঠায় রয়েছেন।

স্নাতক শ্রেণিতে ওই কলেজের পাঁচজন শিক্ষককে ভর্তির জন্য আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তারা হলেন, আহবায়ক হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সমিরন চন্দ্র ঘোষ, সদস্য সমাজ কর্ম বিভাগের প্রভাষক চন্দনা সাহা, বাংলা বিষয়ের প্রভাষক জহিরুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক জেসমিন সুলতানা, আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক বিপুল কান্তি মালা। তবে এদের মধ্যে আইসিটি বিভাগের শিক্ষক বিপুল কান্তি মালা শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ অনলাইন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।



মন্তব্য চালু নেই