মেইন ম্যেনু

কলারোয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত স্ত্রীর মৃত্যু || স্বামী সংকটাপন্ন

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় অন্যান্য রোগের পাশাপাশি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক মহিলার মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
সে উপজেলার দক্ষিণ সোনাবাড়ীয়া গ্রামের ইয়াছিন আলীর স্ত্রী রহিমা বেগম (৬০)।

খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি মারা যান।

মঙ্গলবার (৩সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এদিকে, নিহতের স্বামী ইয়াছিন আলীও (৬৫) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। তার অবস্থাও সংকটাপন্ন।

গত কয়েক দিন সাতক্ষীরা সিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকালে তাকে খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মরহুমার বড় ছেলে বাকী বিল্লাহ মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে মুঠোফোনে জানান- ‘গত বুধবার (২৮ আগস্ট) মা এবং শুক্রবার (৩০ আগস্ট) বাবা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। সোমবার সন্ধ্যার একটু আগে খুলনায় মা মারা যান। রাতেই তার লাশ বাড়িতে আনা হয়।’

তিনি আরো জানান- ‘অবস্থার একটু উন্নতি হওয়ায় খুলনা থেকে বাবাকেও সোমবার বাড়িতে এনেছিলাম। কিন্তু শারীরিক অবস্থার আবারো অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার বাবাকে যশোর কুইন্স হাসপাতালে আনা হয়েছে।’

স্থানীয় সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম মনিরুল ইসলাম জানান- ‘উনি (রহিমা বেগম) ডেঙ্গু জ্বরের পাশাপাশি হার্টের ও কিডনীসহ একাধিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে শুনেছি। সোমবার খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।’

সোনাবাড়িয়া হাইস্কুলের শিক্ষক আব্দুল আজিজ বাবু ও স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আব্দুস সাত্তার জানান- ‘গত কয়েক দিন আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে স্বামী-স্ত্রী সাতক্ষীরা হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের অবস্থার অবনতি হলে খুলনায় গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার স্ত্রী রহিমা বেগম মারা যান। পরে তার লাশ বাড়িতে আনা হয়।’

কলারোয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম জানান- ‘মৃত রহিমা বেগম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের পাশপাশি কিডনি বিকল, ডায়বেটিকস, থাইরোয়েডসহ অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন। তার ডায়গনস্টিক ও বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষার কাগজপত্র ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেখানে মেডিকেল বোর্ড করে সুনির্দিষ্ট কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে সেটা পরে জানাবে।’

কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. কামরুল ইসলাম জানান- ‘তারা গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে খুলনা গাজী মেডিকেলের প্রেসক্রিপশনসহ অন্যান্য কাগজপত্র দেখেছেন। ডেঙ্গু, হাইপোথাইরোডিজম, ডায়াবেটিকসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সনাক্ত করেছেন।’

এদিকে, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সোনাবাড়িয়ায় মরহুমার নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। মৃত্যুকালে রহিমা বেগম স্বামী, ৬পুত্র, ২ কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

উল্লেখ্য, এনিয়ে সাতক্ষীরা জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলায় ৪৮২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ভর্তি রয়েছেন ৪০জন। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন আরো ৩৪৫ জন। অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে আরো ৯৭জনকে।
হাসপাতালে যারা ভর্তি রয়েছেন তারা এখন আশংকামুক্ত বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা.শেখ আবু শাহিন।



মন্তব্য চালু নেই