শিরোনাম:

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বঙ্গবন্ধু বালু ভাস্কর্য

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রাধান্য দিয়ে বালু ভাস্কর্য নির্মান করা হয়েছে।
সৈকতের বালিয়ারীতে শিল্পীর কর্মনিপুনতায় ভাষ্কর্যে স্থান পেয়েছে ৫২ ভাষা আন্দোলোন, ৬৬ ছয় দফা ও ৬৯ এর গনআন্দলোন এবং ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশের মানচিত্র’র ঠিক মাঝখানে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। আর বালু দিয়েই লেখা হয়েছে রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি, আমার সোনার বাংলা, জয় বাংলা, আমার মায়ের ভাষা, রাষ্ট ভাষ বাংলা চাই।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও জাতীয় শিশু দিবস উৎযাপন উপলক্ষ্যে কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট থেকে ১০০ গজ অদুরেই সৈকতে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের উদ্দ্যোগে নির্মিত হয়েছে এ ‘বালু ভাস্কর্য’।

খুলনা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ চারুকলা বিভাগের ৬ শিক্ষার্থী গত মঙ্গলবার ৯ মার্চ থেকে এই ভাস্কর্যের নির্মাণ কাজ শুরু করলেও দিন রাত কর্মদক্ষতায় ঘাম ঝড়িয়ে এর সিংহভাগ কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছেন শিল্পীরা। সৈকতে ভাস্কর্য’র সুন্দর্য্য দেখতে ভীড় করছেন ভ্রমণে আসা পর্যটকসহ দেশপ্রেমী মানুষ।

ভাস্কর্য নির্মাতারা জানান, প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ ও ৮ ফুট প্রশ্বস্থ থাকছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সহ ৫২ ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রেক্ষাপট। ১৭ মার্চ এই বালু ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হবে। এজন্য দিন রাত বিরামহীন ভাবে সমান তালে পুড়োদমে কাজ করছেন তারা।

ঢাকার বনশ্রী থেকে কুয়াকাটায় আসা পর্যটক সিমা আক্তার বলেন, প্রতি বছরই এখানে আসা হয়। আগে যা দেখেছি তা নষ্ট হয়ে গেছে। এবার এসে দেখলাম সৈকতে বালু দিয়ে মুক্তি যুদ্ধের ভাস্কর্য নির্মান করা হচ্ছে। এটা উপলব্ধি করার মত একটা বিষয়। নতুন প্রজন্মের কাছে জানার অনেক কিছুই রয়েছে এখানে।

স্থানীয় সাংবাদিক আনোয়ার হোসে আনু বলেন, যে ভাস্কর্য তৈরি করা হচ্ছে এর মধ্যে ৫২ ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষপট ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কুয়াকাটার সৈকতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরি করায় পর্যটকসহ স্থানীয় শিক্ষার্থীরা দেখে স্মৃতিচারন করবে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।

ভাস্কর্য নির্মাতা দলের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী সানি কুমার দাস নিলয় বলেন, এ ভাস্কর্যে বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্রে রেখে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬ দফা, বিজয় পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।

ভাস্কর্য নির্মাতা দলের প্রধান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী অনুপম কর জানান, পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের উদ্যোগে এ কাজটি শুরু করেছি। আশা করি ঠিক সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

কথা হলে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ (পিপিএম) বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ১৭ মার্চ এ ভাস্কর্যটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হবে। ২৬ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকসহ স্থানীয়দের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।



মন্তব্য চালু নেই