শিরোনাম:

কৃষকের ঋণেও হস্তক্ষেপ করে মধ্যস্বত্বভোগীরা! বিআইডিএস

গ্রামের কৃষকদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন সমাজের প্রভাবশালীরা। একজন কৃষক এখন ব্যাংকঋণ পেতে গেলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা হস্তক্ষেপ করে। এসব বাধা উত্তরণের ধারণা আমাদের পুনরায় চিন্তা করতে হবে। ৪৭ দেশভাগের পর সাত দশকে সামাজিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন পরিবর্তনের ধারা আছে। কিন্তু কৃষিখাতে প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে কৃষি জমিগুলো দখল হচ্ছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংস্থাটির সম্মেলন কক্ষে ‘এগ্রেইন ট্রানজিশন অর রুরাল ট্রান্সফরমেশন: ফ্যাক্টর অ্যান্ড ট্রেন্ড অব চেঞ্জ ইন ভিলেজ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিআ্ইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লন্ডনের সোয়াস ইউনির্ভাসিটির প্রফেশনাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েটস স্বপন আদনান। বক্তব্য দেন প্রফেসর আব্দুস সাত্তার মন্ডল, প্রফেসর মাহাবুব উল্লাহ প্রমুখ।

গবেষণায় বলা হয়, গ্রামের পরিবর্তন হয়েছে চারটি ধারার মধ্যে। এগুলো হলো- শিল্পায়ন, নগরায়ন, অভিবাসন এবং উন্নয়ন। সামাজিক, অর্থনৈতিক, ডেমোগ্রাফিক এবং সাংস্কৃতিক বিভিন্ন প্রভাব পড়েছে এসব ক্ষেত্রে। ৪৭-এর দেশভাগের পর কৃষি জমি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে শালিশ বিচার এক ধরনের মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এক্ষেত্রে সমাজ প্রধানরাই নিয়ম ভেঙেছেন।

মূল প্রবন্ধে স্বপন আদনান বলেন, গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবস্থার বিকাশ ঘটানোর সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। রেমিট্যান্স এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু এই অর্থ উৎপাদনশীল কাজে কতটা ব্যয় হয়ে থাকে সেটি প্রশ্ন সাপেক্ষ।

তিনি বলেন, গ্রামীণ জমি চলে যাচ্ছে বিত্তশালী বা শিল্প মালিকদের হাতে। তারা চিংড়ি ঘের, রাবার বাগান কিংবা অন্য কোনো অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহার করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করছে।

তার গবেষণায় দেখা যায়, গ্রামে মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেট রয়েছে। যারা ব্যাংকঋণ থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহনেও হস্তক্ষেপ করে। যেমন একটি ট্রাক চট্টগ্রাম বা দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসতে অনেক স্থানে চাঁদাবাজির শিকার হয়।

ড. বিনায়ক সেন বলেন, গ্রামীণ রূপান্তরের মাধ্যমেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে শুধু কৃষিই নয়, সেবা খাতেরও ব্যাপক ভূমিকা আছে। ভূমিহীনরা অনেক ক্ষেত্রে জমি বর্গা নিয়ে উৎপাদনশীল কাজ করছে। এখন গ্রামীণ জমি ৩-৪ ফসলী হয়েছে। ফলে খাদ্য ঘাটতি পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।