মেইন ম্যেনু

ক্যাসিনো অবৈধ হলে উপকরণ বৈধ ছিলো কেন?

প্রায় এক বছর আগে ঢাকার গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এয়ার কন্ডিশনার বিক্রি করে এমন একটি দোকানে গিয়েছিলেন কয়েকজন নেপালি নাগরিক।

সেখানে কথা প্রসঙ্গে নেপালি নাগরিকরা জানতে চান, এসি আমদানীর মতো করে কিছু ‘রুলেট মেশিন’ আমদানী সম্ভব কি-না। দোকানী বিষয়টি নিয়ে তার আমদানীকারকের সাথে যোগাযোগ করেন।

আমদানী নীতিমালায় রুলেট মেশিনের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। ফলে তা আমদানী করতে রাজী হন আমদানীকারক, এবং একটি মেশিন তিনি বৈধভাবে আমদানী করেন।

সেই নেপালি নাগরিকদের একজনের নাম উঠে এসেছে সাম্প্রতিক ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময়।

“যে পণ্যটা আমদানি করা হয়েছে তা আমদানিযোগ্য ছিলো বলেই আমদানী হয়েছে। কমলাপুরে আসার পর কাস্টমস কর্মকর্তারা পরীক্ষা করেছেন। শুল্কও যথাযথ দেয়া হয়েছে। এরপর পণ্য খালাস করা হয়। এখানে একটি ক্যাসিনো উপকরণ ছিলো। পণ্যটা অবৈধ ছিল না” বলছিলেন একজন আমদানীকারক।

যেই একটি পণ্যের কথা এই আমদানীকারক বলছেন তার নাম রুলেট, যা মূলত ক্যাসিনোতে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত হয়।

তার মতে আমদানী বৈধ ছিলো বলেই তিনি একটি রুলেট ব্যাংকে এলসি খুলে নিয়ম মেনে আমদানী করেছেন।

তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানী নীতিমালার সুযোগ নিয়েই রুলেট মেশিন, টেবিল, ক্যাসিনো ওয়ার গেইম টেবিল বা স্লট মেশিন আমদানী হয়েছে।

কিন্তু তারপরেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে ঢাকার বেশ কিছু ক্যাসিনোতে এ যন্ত্রটি দেখা যাওয়ার পর বৈধভাবে আমদানী করা আমদানীকারকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে শুল্ক গোয়েন্দা ও রাজস্ব কর্মকর্তারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া অবশ্য বলছেন, ক্যাসিনো সামগ্রী আমদানীর পরিমাণ খুব বেশি নয়।

“আমদানীর ভলিউম খুব বেশি না। কালেভদ্রে আমদানী হয়েছে। কয়েক জায়গায় দেখেছি খেলার সামগ্রী হিসেবে এসেছে। অন্য দ্রব্যের ফাঁকে নিয়ে এসেছে এমন কিছু ঘটনাও দেখেছি”।

অর্থাৎ আমদানী নীতিমালা মেনে আমদানীর সুযোগ থাকলেও ক্যাসিনো সামগ্রী আনা হয়েছে কার্যত খেলার সামগ্রীর আড়ালে।

ঢাকার ক্যাসিনোগুলোতে এবারের অভিযানে অংশ নেয়া কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন প্রচলিত জুয়ার বাইরে ক্লাবগুলোতে সর্বোচ্চ ৫টি করে বাকারা মেশিন, সব ক্যাসিনো মিলিয়ে ৩০-৪০টির মতো রুলেট ও আর প্রতি ক্লাবে স্লট মেশিন পাওয়া গেছে ৪/৫ টি করে।

এর মধ্যে বাংলাদেশে আনা প্রতিটি রুলেটের দাম প্রায় সাত হাজার ডলার, আর আর স্লট মেশিনের দাম গড়ে দশ হাজার ডলারের মতো বলে বলছেন আমদানীকারকরা।

কিন্তু ক্যাসিনো বাংলাদেশে অবৈধ হলে আমদানী নীতিমালায় কি করে ক্যাসিনো সামগ্রী বৈধ করা হলো?

জবাবে রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, এটা আগে নীতিনির্ধারকদের ধারণাতেই আসেনি যে এখানে এতো ক্যাসিনো গড়ে উঠবে।

“আমরা তো ভাবিনি। অনেকের ধারণাতেই আসেনি। আর একটা বিষয় হলো ট্রেড ফেসিলিটেশন। এর আওতায় যত কম আইটেমে নিষেধাজ্ঞা দেয়া যায় ততই সেই দেশের ট্রেড লিবারেল। সেজন্য যত কম পণ্য নিষিদ্ধ করা যায় সেভাবে পলিসি তৈরি করে।”

তবে এবার ক্যাসিনো সামগ্রী আমদানীর ও ছাড় করানোর ওপর ইতোমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাজস্ব বোর্ড।

মিস্টার ভুঁইয়া বলছেন, তিনি খুব শিগগিরই আমদানী নীতিমালা সংশোধনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেবেন।

তবে ভবিষ্যতে বিশেষ পর্যটন জোনগুলোতে ক্যাসিনোর অনুমোদন দেয়া হলে সেটি তখন সরকার বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



মন্তব্য চালু নেই