শিরোনাম:

কড়া নাড়ছে জ্যৈষ্ঠ : শেষ বৈশাখের উত্তাপে অতিষ্ঠ প্রাণ

কড়া নাড়ছে তীব্র গরমের জ্যৈষ্ঠ। এবারের বৈশাখ মাঝামাঝি পর্যন্ত ছিল অস্বাভাবিক শীতল। কিন্তু গত তিন-চার দিন ধরে বাংলা বর্ষপুঞ্জির প্রথম মাসের দাবদাহ পুড়িয়ে দিচ্ছে চারপাশ।

প্রচণ্ড গরমে অস্থির জনজীবন। নগরে যানবাহনের ধোঁয়া আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র থেকে বিকিরণ আর গাছপালার অভাব উত্তাপ বাড়াচ্ছে আরও। হাঁসফাঁস করা মানুষরা মুক্তির জন্য চেয়ে আকাশের পানে। কবে নামবে বৃষ্টি?

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস একই সঙ্গে ভাল এবং খারাপ। সংস্থাটি জানাচ্ছে, শিগগির মানবে বৃষ্টি। থাকতে পারে বেশ কয়েকদিন। তবে তাতে গরম কমবে-এমনটা নয়।

মধ্য গগনে যখন চোখ রাঙাচ্ছে সূর্য, তখন রাজধানীর রাজপথ কর্ম দিবসেও থাকছে ফাঁকা। ছুটির দিন বছরের অন্য সময়ের ছুটির দিনগুলোর তুলনায় আরও কম যানবাহন। গরমের কারণেই এমন পরিস্থিতি।

বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত ইমরান হোসেন বলেন, ‘গরমে তো অবস্থা একেবারেরই খারাপ হয়ে গেছে। এত গরমে অফিসে যাওয়া তো দূরের কথা। বাসা থেকে বেরই হওয়া যায় না। তীব্র গরমের পাশাপাশি পানির সংকট সাথে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। কই যে যাবো ভাই।’

রাজধানীর ইস্কাটন এলাকায় রিকশা চালকদেরকে ঘর্মাক্ত অবস্থায় দেখা গেল। একজন বলেন, ‘এই গরমে গাড়ি চালাইতে মন চায় না, কিন্তু কি করুম, পেডের টানে বাইরাইতে হয়।’

বাসে যাতায়াত এক দুঃসহ দুর্যোগের নাম এই নগরে। বেসরকাটি টেলিভিশনের কর্মী আবুল হাসান বলেন, ‘অফিসে যাওয়ার আগে আর অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার আগে ঘেমে একেবারে ভিজে যাই।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পারদ বলছে, আজ শুক্রবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হতে পারে ৩৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে দেশের সর্বোচ্চ তামপাত্রা এর চেয়ে আরও সাড়ে চার ডিগ্রি বেশি। ঢাকায় গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ছিল বৃহস্পতিবার, ৩৫.৬ ডিগ্রি।

রাজশাহী বিভাগ ও খুলনা অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্ত।

বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে যশোরে, ৩৭.২ আট ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্রনিম্ন রয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ২৪ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই পরিস্থিতিতে মানুষকে মুক্তি দিতে পারে বৃষ্টি। শীত শেষে ফাল্গুন, চৈত্র আর বৈশাখের শুরুতে আবহাওয়া স্বস্তিকর ছিল বৃষ্টির কারণেই।

আবহাওয়ার আগামী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শেষ দিকে বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে শিলাবৃষ্টি। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আবহাওয়া আংশিক মেঘলাসহ শুকনো থাকতে পারে।

তবে এই বৃষ্টি খুব একটা স্বস্তি দেবে এমন নয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘রোদের তীব্রতা খুব একটা কমার সম্ভাবনা নেই। এরই মাঝে হালকা বৃষ্টি হবে। তবে তা হবে বিক্ষিপ্ত ভাবে।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামীকাল (শুক্রবার) থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টি ছয় থেকে সাত দিন স্থায়ী হতে পারে। কারণ বৈশাখ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন শুরু হবে বছরের আসল বৃষ্টির মৌসুম। তখন কমে আসবে গরম।’

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মধ্য বঙ্গোপসাগরে এখন একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এটি যতই সামনে এগোবে ততই বৃষ্টিপাত বাড়বে। তবে দেশের বিভিন্ন জেলার উপর আরও বেশ কয়েকদিন হালকা ও মাঝারী ধরণের তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে।