মেইন ম্যেনু

খালেদা জিয়া ভীষণ অসুস্থ, জামিন চাইলেন ৪ এমপি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভীষন অসুস্থ। এমতবস্থায় দ্রুত তার জামিন দেয়ার আবেদন করেছেন দলটির চার এমপি। বুধবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করে এই মানবিক আবেদনের কথা জানান চার এমপি।

বিএসএমএমইউর ৬২২ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন বিএনপির এ চার এমপি। তারা বলেন, বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কেবিনে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার অবস্থা নাজুক। তিনি ভীষণ অসুস্থ। মানবিক বিবেচনায় তাকে জামিন দেয়ার আবেদন জানান তারা।

তারা হলেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি জাহিদুর রহমান জাহিদ, বগুড়া-৬ আসনের এমপি জিএম সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেছেন, আমি সংসদ নেতার কাছে আহবান জানাবো আপনি একবার এসে দেখে যান, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী কি অবস্থায় আছেন। আমি নিশ্চিত যে আপনার ভেতরে মানবতাবোধ জাগ্রত হবে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমলাতান্ত্রিকভাবে না দেখে আপনি জামিনের ব্যবস্থা করেন।

সিরাজ বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) কারো সাহায্য ছাড়া খেতে পারছেন না, হাটতে পারছেন না। এখানে তার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া ম্যাডামের মুক্তি হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আবার বলছি সংসদের নেতা হিসেবে আপনার কাছে আমার সবিনয় অনুরোধ আপনি ম্যাডামের জামিনের ব্যবস্থা করুন।

জামিনের বিষয়টা আদালতের তো আপনারা মানবিক বিষয় হিসেবে কেন দেখছেন? উপস্থিত সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিরাজ বলেন, এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া কি হবে? আজকে হাইকোর্ট-সুপ্রীমকোর্ট বিব্রত বোধ করেন।

মুক্তির বিষয়ে খালেদা জিয়া কি বলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ম্যাডাম অবশ্যই মুক্তি চান। তিনি অপরাধ করেননি। তবুও বন্দি আছেন। অবশ্যই মুক্তি চান। চিকিৎসার ব্যাপারে তার বক্তব্য তিনি বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা পাচ্ছেন না। সেখানে বিদেশে চিকিৎসার কথা আসছে কেন। তিনি মুক্তির পরে সিদ্ধান্ত নেবেন দেশে নাকি বিদেশে চিকিৎসা নেবেন। আগেতো মুক্তি দরকার। তিনিতো সহসা বিদেশে চিকিৎসা নিতে চান না। এর আগেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নাম বলা হয়েছে। সেই নিজস্ব ডাক্তারের চিকিৎসা নিতেও দেয়া হয়নি। বিদেশে যদি যাওয়া লাগে যাবেন। সেটা ওনার নিজের সিদ্ধান্ত-পরিবারের সিদ্ধান্ত। সেটাতো আমরা বলতে পারি না।

রুমিন ফারহানা এমপি বলেন, ম্যাডাম বলেছেন জামিন আমার হক। দেশের আইন অনুযায়ী আমি জামিন লাভের যোগ্য। আমিতো কোনো অপরাধ করিনি। সুতরাং এখানে প্যারোলের প্রশ্ন কেন আসবে? তিনি বলেন, প্যারোলের কোনা কথাই হয়নি। উনি কোনো অপরাধ করেননি। যে টাকার কথা বলা হয়েছে সে টাকা বেড়ে ৬কোটি হয়েছে।

রুমিন বলেন, আমি দীর্ঘ সময় আদালতে কাজ করছি। এ ধরণের মামলায় একটি আবেদনে জামিন হয়ে যায়। সেখানে আজকে ১৮ মাসের ওপরে এরকম শারিরীক অবস্থায় উনি কারাগারে আছেন। ওনাকে পরিকল্পিতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। আজকে তার এই শারিরীক অবস্থার জন্যে সরকার দায়ী। তাকে কোনো রকমের সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তার অবস্থা যেটা হয়েছে তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। সেজন্য সম্পূর্ণরূপে সরকারই দায়ী। এসময় তাদের সঙ্গে ছিলেন মোশাররফ হোসেন এমপি ও জাহিদুর রহমান এমপি।

এর আগে বেলা তিনটার দিকে বিএনপি দলীয় চার এমপি খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করতে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। তারা চারটার কিছু আগে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসেন। হাসপাতালের বাইরে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি ফজলুল রহমান খোকন।



মন্তব্য চালু নেই