শিরোনাম:

খ্রিস্টান গর্ভনরের পক্ষে মুসলিম নারীরা!

চীনা বংশোদ্ভূত এবং খ্রিস্টান ধর্মানুসারী বাসুকি চাহায়া পুর্ণামা জাকার্তায় গেল ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম অমুসলিম গভর্নর। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থানের কারণে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন জাকার্তায়।

গেল বছর এক নির্বাচনী জনসভায় বাসুকি বলার চেষ্টা করেছিলেন, ইসলামী নেতারা কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে মুসলিম ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। অমুসলিম প্রার্থীকে তাদের ভোট দেয়া উচিত নয়।

বাসুকির এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাপক প্রচার পায়। কট্টরপন্থী ইসলামী দলগুলো তার সাজার দাবিতে মাঠে নামে। এক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে জাকার্তার আদালতে মামলা হয়। বেশ কয়েকমাস ধরেই চলে সে মামলা। অবশেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।

বিচারকরা বলেছেন, ইসলাম সম্পর্কে মন্তব্য করে বাসুকি সহিংসতাকে উসকে দিয়েছেন। এমনকি সরকারি কৌঁসুলিরা যে ধরণের সাজার দাবি করেছিলেন, আদালত তার চেয়েও কঠোর সাজা দিয়েছে।

এদিকে গভর্নর বাসুকির সাজার রায়ের খবর শোনার পরপরই তার সমর্থকরা ভেঙে পড়েন। মুসলিম প্রধান দেশে একজন খ্রিস্টান হয়েও গভর্নর বাসুকি ছিলেন জনপ্রিয়। ফলে আদালতের এই রায় নিয়ে জাকার্তায় আজ (মঙ্গলবার) পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভে গভর্নরের সমর্থকদের মধ্যে এমনকি হিজাব পরিহিত বহু নারীকেও দেখা যায়। বিক্ষোভ ঠেকাতে আদালতের বাইরে পাহারায় ছিল ১৫ হাজার পুলিশ এবং সেনা সদস্য।

কট্টরপন্থী ইসলামী দলগুলো, যারা বাসুকির সাজার দাবিতে বিক্ষোভ করছিল, তারা মনে করছে এই সাজা যথেষ্ট কঠোর নয়। তারা চাইছিল অন্তত পাঁচ বছরের সাজা।

অন্যদিকে বাসুকি পূর্ণামার সমর্থকরা বলছেন, এই মামলা পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আদালত আসলে কট্টরপন্থীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে। এমন অভিযোগও সেখানে জোরেশোরেই উঠছে যে, একজন অমুসলিম হওয়ার কারণেই তাকে এই পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।

তবে ইন্দোনেশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউসুফ কালাহ এরকম বৈষম্যের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটাই আইন। হতে পারে আমাদের আইন হয়তো ভিন্ন। কিন্তু সেটাই আমাদের আইন। যারা ধর্মের অবমাননা করবে, তাদের ঝামেলায় তো পড়তে হবেই।’

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়ার সুনাম আছে বিভিন্ন জাতি ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি এবং সহনশীলতার জন্য। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে কট্টরপন্থী ইসলামী গোষ্ঠীগুলোর উত্থানের কারণে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ছে।

গভর্নর বাসুকি বলেছেন, তিনি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবেন। অন্যদিকে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো বলেছেন, তারা আরও কঠোর সাজার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।