শিরোনাম:

গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোই সমাধানের একমাত্র উপায়

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছিল টানা ৭ বছর লাভে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। এ অবস্থায় জ্বালানি সাশ্রয়ে নিয়মিত শিডিউল করে লোডশেডিং শুরু করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপর শুক্রবার (৫ আগস্ট) মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ায় সরকার। জ্বালানির দাম বাড়ায় বাসভাড়া সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ, কষ্ট স্বীকার ও সহ্য করে যাওয়া ছাড়া জনগণের কিছুই করার নেই। কিন্তু সরকারের হাতে এখনও সময় আছে এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার। বর্তমানের এই পরিস্থিতির পেছনে একমাত্র দায়ী আমদানি নির্ভরতা। যদি সেখান থেকে সরে এসে উৎপাদনের দিকে যাওয়া যায়, তবেই সমাধান সম্ভব। তা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

বিষয়টি নিয়ে সোমবার (৮ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, জনগণের এখন আর ধৈর্য ধরা ছাড়া কোনো উপায় নেই। সহ্য করতে হবে এবং কষ্ট স্বীকার করতে হবে। কিন্তু সরকারের যে কাজ করা উচিত ছিল, সেটি হলো জনগণকে রক্ষা করা। করোনার কারণে দেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ধাক্কা খেয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সেই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের উচিত ছিল জনগণকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা। কিন্তু সরকার করলো তার উল্টোটা। যখন একে একে সব ধরনের দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। সেই মুহূর্তে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত একটি ভুল সিদ্ধান্ত। এখন সব কিছুরই দাম বাড়বে। নিম্নবিত্তরা তাদের সন্তানকে লেখাপড়া করাতে পারবে না। কারণ, দ্রব্যমূল্য বাড়লে খাবারের পেছনে অর্থ ব্যয় করবে নাকি বাকিসব চাহিদা পূরণ করবে।

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে করণীয় কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতে করণীয় একটাই। বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের অস্থিরতার যে প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে, যদি এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, তবে আমাদের নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। যে উদ্যোগ নেওয়ার কথাটা আমরা বছরের পর বছর বলে আসছি। কিন্তু যারা সিদ্ধান্ত নেন, আমাদের কথায় তারা কান দেননি কখনো। বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত গ্যাসের অপার সম্ভাবনা আছে। আমরা যদি আমদানির পেছনে বাজেট না করে উৎপাদনের পেছনে করি, তবে আমাদের নিজেদের গ্যাস দিয়েই জ্বালানির সম্পূর্ণ চাহিদা মেটাতে পারবো।

অধ্যাপক বদরুল ইমাম আক্ষেপ করে বলেন, আমরা তো কোনো দলের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে বলি না। আমরা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব না। দেশ ও জনগণের জন্য যেটা কল্যাণকর, সরকারের জন্য যেটা সহায়ক হবে, সেটাই বলে যাচ্ছি।

একই পরামর্শ দেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম। বলেন, আমাদের যে পরিমাণ গ্যাস আছে, যদি এখন উত্তোলনের উদ্যোগ নেই, তবে আমরা জ্বালানি সংকট থেকে বের হয়ে আসতে পারবো। কিন্তু যদি এখনই কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে আগামী কয়েক বছর পর জ্বালানি সংকট আরও প্রবল হবে। তখন পুরোটাই আমদানি করতে হবে। টাকা থাকলে আমদানি হবে, আর না থাকলে হবে না। চরম সংকটে পড়তে হবে আমাদের।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাত ১২টা থেকেই কার্যকর হয়েছে সরকার ঘোষিত ডিজেল, পেট্রল, কেরোসিন, ও অকটেনের নতুন দাম। প্রতি লিটার ডিজেলে দাম বেড়েছে ৩৪ টাকা। এছাড়া কেরোসিনে ৩৪, অকটেনে ৪৬ ও পেট্রলে বেড়েছে ৪৪ টাকা। দাম বাড়ার পর প্রতি লিটার ডিজেল ১১৪, কেরোসিন ১১৪, অকটেন ১৩৫ ও পেট্রল ১৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আগে ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য ছিল প্রতি লিটার ডিজেল ৮০ টাকা, কেরোসিন ৮০ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা ও পেট্রল ৮৬ টাকা।

হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চরম প্রভাব পড়বে এমনাটাই বলছেন বিশিষ্ট মহল ও বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষও দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।