মেইন ম্যেনু

ঘুষের টাকা ফেরত দিতে অনুষ্ঠান!

বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দিতে ফুলবাড়িয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মচারী ঘুষ নিয়েছিলেন ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অভিযোগ তদন্ত করতে পেরিয়ে গেছে তিন বছর। তারপর প্রমাণ মেলায় চাকরিচ্যুত করা হয়েছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আবুল বাশার মোল্লাকে। অবশেষে বুধবার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সেবা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৮৭ জন গ্রাহককে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে সমূদয় টাকা। ঘুষ ফেরতের এ অনুষ্ঠান নিয়ে এলাকায় দারুন চাঞ্চল্য।

সূত্র জানায়, প্রায় চার বছর আগে আবুল বাশার মোল্লা ফুলবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হলেও তিনি বিভিন্ন বিষয়ে খবরদারি করতেন। এক পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দেয়ার নামে উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর পশ্চিম পাড়া,উত্তর পাড়া, পূর্ব পাড়া ও মধ্যপাড়া থেকে টাকা সংগ্রহ করতে থাকেন। একেক জনের কাছে থেকে ১৫শ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন তিনি। মোট ৮৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে আবুল বাশার ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। মোটা অংকের ঘুষ দিয়েও গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়ে এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হলেও আইনী পদক্ষেপ নিতে পারেননি।

প্রায় তিন বছর আগে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ময়মনসিংহ-১ এর ডিজিএম (কারিগরি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান রঘুনাথপুর গ্রামে বিদ্যুৎতের খুটি স্থাপনে অনিয়মের ঘটনা তদন্তে আসেন। তখন গ্রামের লোকজন ঘুষ প্রদানের তথ্য তাকে জানান। এরপর লিখিত অভিযোগ নিয়ে শুরু হয় তদন্ত। অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে এক পর্যায়ে আবুল বাশার মোল্লাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর বিভাগীয় উদ্যোগে ঘুষের ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

অবশেষে বুধবার বিকেলে রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সেবা অনুষ্ঠান। সেখানেই গ্রাহকদের মাঝে টাকা ফেরত দেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. মকবুল হোসেন। অনুষ্ঠানে ডিজিএম (কারিগরি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ডিজিএম অনিতা বর্ধণ উপস্থিত ছিলেন।

জিএম মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘ঘুষের টাকা উদ্ধার করে গ্রাহকদের মাঝে ফেরত দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এখন রঘুনাথপুর গ্রামের ১৯০ জন নতুন গ্রাহক শুধুমাত্র ৫৬৫ টাকা করে মিটারের জন্য জমা দিবেন।’

রঘুনাথপুর পশ্চিম পাড়ার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিদ্যুৎতের জন্য ঘুষ দেয়ার ৪ বছর পর টাকা ফেরত পেয়েছি। গ্রামের ৮৭ জন টাকা দিয়েছিলাম। কল্পনাও করতে পারিনি ঘুষের টাকা ফেরৎ পাবো।’



মন্তব্য চালু নেই