মেইন ম্যেনু

চার্জশিটে মিন্নির নাম দেখে যা বললেন রিফাতের বাবা

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে ৭ নম্বর আসামি করে ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিট দাখিলের ঘটনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।

এদিকে মিন্নিকে ৭ নম্বর আসামি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

অভিযোগপত্রে মিন্নির নাম রাখার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে যেভাবে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে মিন্নির জামিন পেয়েছি, ইনশাআল্লাহ সেভাবেই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আমার মেয়ে মুক্তি পাবে।’

চার্জশিটে মিন্নির নাম দেখে রিফাতের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন তার বাবা ও মামলার বাদী আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, পুলিশ সঠিক তদন্তের মাধ্যমেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। আশা করি, আদালতের মাধ্যমে আমি আমার ছেলে হত্যার ন্যায় বিচার পাবো। আমি আমার ছেলের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করি। সেই সঙ্গে এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন এজাহার দাখিল করেছিলাম, তার মধ্য থেকে চার আসামিকে এখন পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। আশা করছি চার্জশিট দাখিলের পর ওই চার আসামিসহ সব আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হবে।’

উল্লেখ্য, ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। তারা চেহারা লুকানোরও কোনও চেষ্টা করেনি। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

৩০ জুলাই মিন্নি তার জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। এর আগে গত ১৬ জুলাই দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টার দিকে মিন্নিকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে ১৭ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেয়। পরে এ মামলায় মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এখন তিনি বরগুনা কারাগারে রয়েছেন। তার জামিন চেয়ে আনা আবেদন নাকচ করে দেয় জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্র্যাট আদালত। পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতও মিন্নির জামিন আবেদন নাকচ করে আদেশ দেয়।

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে দশটার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের পাশে রিফাতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীর সামনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে কয়েকজন যুবক। সেসময় নানাভাবে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেনি রিফাত। ওই ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে তা ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হয়।



মন্তব্য চালু নেই