প্রধান ম্যেনু

চিঠি || এসকে ফাতিমা হোসাইন সুমি

চিঠি
এসকে ফাতিমা হোসাইন সুমি

(উৎসর্গিত আমার আদর্শ, আমার অনুপ্রেরণা, আমার পথপ্রদর্শক প্রাণপ্রিয় শ্রদ্ধেয় বাবার জন্য)

প্রিয় বাবা,
পত্রের শুরুতে কিভাবে তোমাকে সম্বোধন করতে হবে কিংবা কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে আমার ঠিক জানা নেই। তাই বলে ভেবো না যেন আমি অকৃতজ্ঞ। আমি জন্ম থেকেই দেখে এসেছি তুমি শক্ত হাতে সংসারের হাল ধরে এসেছো। আজ অবদি তুমি জীবনের কঠিন সংগ্রামটা একাই করে আসছ। সারাদিন হার ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যখন ঘরে ফেরো তখনো তোমার মুখে জ্বলজ্বল করে এক ফালি চন্দ্র। এত কষ্ট করার পরেও যেন তোমার মুখে ক্লান্তির লেশ মাত্র নেই। তোমার উপস্থিতি টের পেয়ে আমি দৌড়ে যখন তোমার সামনে যাই, দেখি তোমার দু’হাত ভর্তি ব্যাগে দায়িত্ব। তার কিছুটা যখন ভাগ করে নেই তখন তোমার খুশির সিমা থাকেনা। আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠো। আমি তখন অনুভব করি আমার কাছে তোমার প্রত্যাশা ঠিক কতখানি। যখন ঘরে ফিরে কোন একজনকে দেখতে না পাও তখন ব্যস্ত হয়ে পড়ো তার খবর নিতে। কিংবা যদি দেখ আমার মুখে হাসি নেই সঙ্গে সঙ্গে তোমার মুখটাও মলিন হয়ে যায়। আমি তখন বুঝতে পারি আমার গুরুত্বটা তোমার কাছে ঠিক কতখানি। আমি রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে মা খুব একটা ডাকাডাকি না করলেও তুমি এসে ঘুম থাকে জাগিয়ে মুখে ভাত তুলে দেও, সে যতই রাত হোক না কেন। বাবা আমি তখন বুঝি তুমি আমার প্রতি কতটা যত্নশীল।
বাবা সংসারে তো আমরা এতজন রয়েছি। কিন্তু উপার্জনকারী শুধু তুমি একা। কিন্তু তাও তোমার কারো প্রতি কোন অভিযোগ নেই। কোনকিছু মনে মনে চাইলে সেটাও কেমন করে যেন বুঝে যাও তুমি। সেটা চাওয়ার আগেই দেখি সামনে হাজির। বাবা তুমি আমাদের কখনো অভাব কি জিনিস বুঝতে দেওনি। কোন আশা, চাহিদা অপূর্ণ রাখো নি। বাবা আমি বুঝতে পারি তোমার ক্ষমতা থাকলে পৃথিবীর সব সুখ আমাদের পায়ে এনে রাখতে। তবে বাবা তুমি হয়তো জানোনা তুমি আমাদের কাছে এক পৃথিবী সমান সুখ। বাবা নিঃস্বার্থ কি করে হতে হয় সেটা আমি তোমার কাছে শিখেছি। যখন দেখি তুমি নিজের কথা কখ‌নোই না ভেবে আমাদের নিয়েই ভাবো সর্বদা। বাবা আত্মত্যাগ কিভাবে করতে হয় সেটাও তোমার কাছ থেকে শেখা। যখন দেখি রোদ, বৃষ্টি, অসুস্থতা সমস্ত বিপদ উপেক্ষা করে আমাদের সযত্নে আগলে রাখো। তুমি বটবৃক্ষের ন্যায় আমাদের সকলকে ছায়া দিয়ে যাও। আমাদের সুখেই যেন তোমার সুখ। বাবা ঈদ, কোরবানি কিংবা কোন নতুন উৎসবে সবাইকে নতুন পোশাক দেও। কার কি প্রয়োজন তার তালিকা হয় শুধু তালিকাতে তোমার নামটি থাকেনা কখনো। আমি তখন বুঝি দায়িত্ব কাকে বলে।
বাবা আমি জানি তুমি তোমার ভালোটা কখনোই বুঝবে না। হয়তো তোমার সুখ এসবেই। বাবা আমি তোমাকে দেখে শিখেছি প্রিয়জনদের আগলে রাখা। শত বিপদ এলেও পালিয়ে না গিয়ে তার মোকাবেলা করা। বাবা আমি তোমাকে দেখে শিখেছি দায়িত্ব, কর্তব্য, ভালোবাসা কি? বাবা তোমার ঋণ শোধ করার দুঃসাহস আমি কোনদিনও দেখাব না। কারণ আমি জানি সেটা পৃথিবীর কোনকিছুর মূল্যে সম্ভব না। বাবা তোমার প্রতি কিভাবে কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে তাও জানিনা। সে ভাষা আমার জানা নেই। কারণ তোমার বিষয়ে যতই বলব সবই যেন কম মনে হয়। বাবা তোমার চোখে মুখে আমাদের নিয়ে হাজারো স্বপ্ন। জানিনা তা কখনো পূরণ করতে পারব কিনা। তবে বাবা আমি নিজেকে তোমার আদর্শে গড়তে চেয়েছি। আমি স্বভাবগত অনেকটাই তোমার মত এটা অনেকেই বলে; জানো বাবা তখন গর্বে আমার বুকটা ভরে যায়। পৃথিবীর সব বাবারাই হয়তো এমনি হয়। তবে তুমি আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা। তুমি আমার আদর্শ। বাবা তোমার জন্য যাই করি কম হয়ে যায়। তবুও বলবো বাবা তুমি একটু সময় দিও আমাকে। আমি যেন ঠিক তোমারি মত হতে পারি। আজ যেমন তুমি আমাকে সহ সবাইকে আগলে রাখছো। তেমনি আমিও যেন তোমারি মত তোমাকে সহ সবাইকে আগলে রাখতে পারি।
সর্বোপরি একটা কথা বলতে চাই বাবা, তুমি দেখ একদিন এই আমি তোমার সকল কষ্টের অবসান ঘটাবো। এই আমার জন্য একদিন তোমার অনেক গর্ব হবে। তোমার পরিশ্রম বৃথা যেতে দিব না ইনশাআল্লাহ। তুমি শুধু দোয়া করো আমার জন্য। আল্লাহ যেন তোমাকে হাজার বছর বাচিয়ে রাখে। তুমি আমার আদর্শ। তুমি আমার শক্তি। তুমি আমার অনুপ্রেরণা। তুমি আমার গর্ব তুমি আমার অহংকার। তোমাকে সামনে থেকে কখনো বলা হয়নি ভালোবাসার কথা। কিন্তু আজ বলছি তোমাকে বড্ড ভালোবাসি বাবা।

 

ইতি
তোমার পাগলী মেয়েটা


 



মন্তব্য চালু নেই