শিরোনাম:

চুয়াডাঙ্গার প্রিয়া ও টুম্পাসহ ৫ ব্ল্যাকমেইলার চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার

বিভিন্ন নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থসহ বিভিন্ন স্বার্থ হাসিল করার ঘটনা পুরুষদের দ্বারায় ঘটে আসছে সমাজে।

তবে এবার তার উল্টোটা ঘটিয়ে প্রমাণ করেছে নারী সদস্যের একটি দল। তারা প্রথমে বিভিন্ন বিত্তশালীদের সাথে প্রেম, পরে শারীরিক সম্পর্ক তৈরীতে আবদ্ধ করে। সেই কুর্কীতি গোপনে ভিডিও করে রাখতো। এভাবে বেছে বেছে বিভিন্ন পুরুষদেরকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পেশা তৈরী করেছিল তারা।

এমন ঘটনা তাদের হয়ে পড়েছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। বিভিন্ন পুরুষের সাথে ঘটিয়েই চলছিল তাদের এ অপরাধমূলক কার্যক্রম। কিন্তু বিধিবাম! এবার তার অবসান ঘটেছে। ব্ল্যাকমেইলিংকারীদের মূল হোতা নাজনীন খান প্রিয়াসহ আরও দুই নারী ও দুই পুরুষসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করে সেসব অপকর্ম থামিয়ে দিয়েছে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা সদর থানা পুলিশ।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে মেহেরপুর শহরের ভাড়াবাসা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

আটকৃতরা হলো-চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহ গ্রামের নাজমুল হোসেন খান এর মেয়ে নাজনীন খান প্রিয়া, একই উপজেলার চারুলিয়া গ্রামের রাসেল আহমেদের মেয়ে বিলকিস রাবেয়া টুম্পা, মেহেরপুর শহরের ঘোষপাড়ার শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুমানা ইয়াসমিন রুমা, দুলাল আলির ছেলে শাহাজাহান আলী ও আখের আলীর ছেলে হাসান আলীকে।

পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গার মেয়ে নাজনিন খান প্রিয়া মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের মনোয়ার হোসেনের আপত্তিকর ছবি ধারণ করে তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

অপরদিকে, বিলকিস রাবেয়া টুম্পাসহ ৪ জন চুয়াডাঙ্গার আলি হোসেনকে টুম্পার বাড়িতে আটকে রেখে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় টুম্পার বাড়ি থেকে আলি হোসেনকে উদ্ধার করে টুম্পাসহ ৫ জনকে আটক করা করে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা ডিবি পুলিশ। সেসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় নগদ ১৭ হাজার টাকা ও ৫টি মোবাইলসেট।
আটককৃতদের বিকাল ৫টায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মামলার বাদী মেহেরপুর জেলার আমঝুপি বাজারপাড়ার মনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, সে এবং আসামী নাজনীন খান প্রিয়া স্থানীয় মানব উন্নয়ন কেন্দ্র, মউক এনজিওতে চাকুরী করতো। সহকর্মী হিসেবে প্রিয়া একদিন তাকে অফিসের ছাদে ডাকলে সে সরল বিশ্বাসে অফিসের ছাদে যায়। সেখানে একত্রে ছবি তুলতে প্রিয়া তাকে জড়িয়ে ধরে কয়েকটি ছবি তোলে। পরবর্তীতে প্রিয়া চাকুরিচ্যুত হলে তার কাছে ২লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। অন্যথায় ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকী দেয়। পারিবারিক মান সম্মানের চিন্তা করে একপর্যায়ে মেহেরপুর শহরের কলেজমোড় ইয়ারুলের হোটেলের কাছে স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে প্রিয়াকে ২০ হাজার টাকা দেই। পরে এভাবে আরও টাকা চাইলে অন্যথায় ছবি ভাইরাল করার হুমকি অব্যাহত রাখলে গত ২২ নভেম্বর প্রিয়ার বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির মামলা করি। যার মামলা নং-৩২। ওই মামলায় প্রিয়াকে মেহেরপুর শহরের খোকন স্টুডিওর নীচতলায় ভাড়াবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অপর মামলার অভিযোগকারী চুয়াডাঙ্গার উম্মে রুমানা সিদ্দীকা বলেন, মেহেরপুর শহরের ঘোষপাড়ার রুমানা ইয়াসমীন রুমা ও তার দুই সহযোগীরা আমার স্বামী স্বপন আলী চুয়াডাঙ্গার একজন সবজি আড়ৎদার ব্যবসায়ী। সে ব্যবসায়ীক কাজে মেহেরপুর গেলে তাকে ফাঁদে ফেলে রুমার বাড়িতে আটকে রাখে। পরে রুমা ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবী করে তা মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতে বলে। অন্যথায় স্বামীকে হত্যা করার হুমকীও প্রদান করা হয়। সেসময় স্ত্রী রোমানা সিদ্দীকা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে রুমার বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠায়।

পরে বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশকে জানালে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর ডিবি পুলিশ রুমার বাড়িতে অভিযান চালায়। চুয়াডাঙ্গা শহরের মাঝেরপাড়ার স্বপন আলীকে উদ্ধার করে রুমা, টুম্পাসহ সহযোগী ৪ জনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। যার মামলা নং-৩৩।

পুলিশ পৃথক দুই মামলায় নারী ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের তিন নারী সদস্যসহ ৫জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছেন, নাজনীন খান প্রিয়ার দলে ৯জন সুন্দরী নারী রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে পুরুষদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে আসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়।