শিরোনাম:

জালিয়াতি করে রাতারাতি বিলিয়নিয়ারের ১১ বছরের কারাদন্ড

স্বাস্থ্য প্রযুক্তি কোম্পানি থেরানোসের প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ হোমসকে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মার্কিন আদালত জালিয়াতির জন্য ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সিলিকন ভ্যালির এই তারকা দাবি করেছিলেন, তার প্রতিষ্ঠানে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র কয়েক ফোঁটা রক্তের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। ১৮ নভেম্বর (শুক্রবার) সাজা ঘোষণার সময়, ৩৮ বছর বয়সী গর্ভবতী হোমস অশ্রুসিক্তভাবে আদালতকে জানান, তিনি প্রতারিতদের জন্য গভীর সহানুভূতি বোধ করেন।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, তিন মাস ধরে চলা বিচারকার্যের পর জানুয়ারিতেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। হোমস শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এলিজাবেথ হোমসকে ‘পরবর্তী স্টিভ জবস’ বলে ডাকা হতো। তিনি একসময় বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বিলিয়নেয়ার ছিলেন। হোমস ১৯ বছর বয়সে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে থেরানোস চালু করেন।

কোম্পানির শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়েছে যখন কোম্পানিটি দাবি করেছিল যে এটি রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারে। কিন্তু হোমস যে প্রযুক্তির কথা বলেছিলেন তা ছিল ভুয়া। পরে মামলায় জর্জরিত কোম্পানিটি ২০১৮ সালের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়।

ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে আদালতের প্রসিকিউটরেরা জানান, এলিজাবেথ হোমস জেনে বুঝে চিকিৎসক ও রোগীদের থেরানোসের প্রযুক্তি ও যন্ত্র সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছেন। হোমস দাবি করেছিলেন, তার ইন্সটিটিউট কয়েক ফোঁটা রক্ত পরীক্ষা করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগ সনাক্ত করতে পারে।

বিচারকেরা আরও বলেছেন, হোমস তার বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানি সম্পর্কে বিশাল বাড়াবাড়ি করেছে। বিচারকেরা শেষ পর্যন্ত এলিজাবেথ হোমসকে চারটি প্রতারণার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এজন্য তারা সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। যাইহোক, তারা তাকে অন্য চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেনি এবং আরও তিনটি অভিযোগের রায় এখনও হয়নি।

বিচারক এডওয়ার্ড ডেভিলা শুক্রবার কারাদণ্ডের রায় পড়ার আগে হোমস আদালতে একটি বক্তৃতা দেন। এ সময় তিনি বিনিয়োগকারী ও রোগীদের কাছে অশ্রুসিক্তভাবে ক্ষমা চান।
হোমস বলেন, ‘আমি আমার ব্যর্থতার জন্য মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত। আমি তাদের জন্য গভীর বেদনা অনুভব করছি, কারণ তাদের বিপর্যয়ের জন্য আমার ব্যর্থতাই দায়ী।’

বিচারক হোমসকে একজন সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘ব্যর্থতা স্বাভাবিক। তবে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যর্থ হওয়া ঠিক নয়।’