শিরোনাম:

জিন্স-অন্তর্বাস খুলে পরীক্ষা : বহিষ্কার ৪ শিক্ষিকা

ভারতের কেরালার কান্নুর শহরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রে ঢোকার আগে ছাত্রীদের জিন্স ও অন্তর্বাস খোলার ঘটনায় চার শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। রোববার (৭ মে) অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি অ্যান্ড এন্ট্রান্স টেস্টে এমন ঘটনা ঘটে। এই টেস্টের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির যোগ্যতা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্র কোনো ধাতব পদার্থ নিয়ে ঢোকা যাবে না— এমন নির্দেশের কারণেই ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা।

কর্তৃপক্ষের ওই নির্দেশের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার আগে নারী পরীক্ষার্থীদের কাউকে খুলতে হয়েছে অন্তর্বাস, কাউকে জিনসের প্যান্ট বদল করতে হয়েছে। আবার কাউকে বা প্যান্টের ধাতব বোতাম ও কানের দুল খুলতে হয়েছে। শুধু নারীরাই নন, হয়রানির শিকার হয়েছেন পুরুষ পরীক্ষার্থীরাও।

মঙ্গলবার (৯ মে) ভারতের গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসে ওই ঘটনায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রতিবাদে কেরালার কন্নুর জেলার পায়ানুরের কুনহিমঙ্গলাম এলাকার টিস্ক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সামনে বিক্ষোভ করে বেশ কয়েকটি সংগঠন। এর পরেই স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনায় জড়িত ওই চার শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় রাজ্য মানবাধিকার কমিশন ওই দিনই জেলা পুলিশ প্রধানের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। রাজ্য বিধানসভার সদস্যরাও এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী পরীক্ষার্থী বলেন, মেটাল ডিটেক্টর মেশিন সংকেত দিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে অন্তর্বাস খুলতে বলেন। প্রথমে খুলতে রাজি হননি তিনি। তখন কর্তৃপক্ষ জানান, অন্তর্বাস না খুললে পরীক্ষা দেয়া যাবে না।

ওই ছাত্রীর মা বলেন, ‘আমার মেয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে এসে তার অন্তর্বাস দিয়ে যায়, কারণ তাতে ধাতব হুক ছিল।’ এ ছাড়া তাকে আড়াই কিলোমিটার দূর থেকে হালকা রঙের প্যান্ট কিনে আনতে হয়। কারণ, পরীক্ষাকেন্দ্রে গাঢ় রঙের পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।