শিরোনাম:

জিয়ার আমলে সামরিক আদালতে সাজা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বিমান বাহিনীতে বিদ্রোহের ঘটনায় সামরিক আদালতের সাজা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও দণ্ডিতদের চাকরির অবসরের সময় পর্যন্ত বেতন ভাতা ও পেনশনের সুবিধা কেন দেয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত।

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন জিয়াউর রহমান। হন সেনাপ্রধান। ৭৬ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দখল করেন ক্ষমতা।

পরের বছরই নেন রাষ্ট্রপতির পদও। ৭৭ সালের ২ অক্টোবর ভোররাতে বিমান বাহিনীতে বিদ্রোহ হয়। কঠোরভাবে সেই বিদ্রোহ দমন করেন এই সাবেক সেনা শাসক।

সামরিক আদালতের সংক্ষিপ্ত ও গোপন বিচারে ১১ জন অফিসারসহ ১,৪৫০ বিমান সেনাকে ফাঁসিতে হত্যা করা হয়। বরখাস্ত ও চাকরিচ্যুত হন চার হাজার সেনা। নিখোঁজ হন অসংখ্য।

এই ঘটনা ছাড়াও, সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর সামরিক বাহিনীতে অনেকগুলো বিদ্রোহ-অভ্যুত্থানের চেষ্টা চলেছিলো। যাতে জড়িতদের একই রকম বিচারে মৃত্যুদণ্ডসহ নানা সাজা দেয়া হয়েছিল।

১৯৭৬ সালে এ রকম এক বিচারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কর্নেল আবু তাহেরের বিচার ইতোমধ্যে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

যাতে জড়িতদের সামরিক আদালতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ডসহ নানা সাজা দেয়া হয়। ১৯৭৬ সালে এ রকম এক বিচারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কর্নেল আবু তাহেরের বিচার ইতোমধ্যে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

সেই সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৮৮টি পরিবারের পক্ষে ২০১৯ সালে এই রিট আবেদনটি করা হয়। সেটির শুনানির পর মঙ্গলবার ওই রুল দিলো আদালত।

রুলে সামরিক আইনে গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচার অবৈধ ঘোষণা করে কেন আবেদনকারীদের দেশপ্রেমিক হিসেবে বিবেচনার নির্দেশনা দেয়া হবে না সেটিও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে সরকারি চাকরিতে আবেদনকারীদের পরিবারের সদস্যদের সার্ভিস অব ওয়ার্ড প্রদানে কেন বিবাদীদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতিরক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মতিউর রহমান।

রিটের পরে মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মার্শাল ল’ রেগুলেশন অ্যাক্ট ১৯৭৭ দ্বারা সামরিক আদালতে জিয়াউর রহমান অন্যায়ভাবে বিচার করেছিল।

সেই বিচারে যাদের ফাঁসি হয়েছিল, যাদের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল এবং যারা চাকরিচ্যুত হয়েছিল সেসব ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার জন্য রিট আবেদনটি করা হয়েছে।

এছাড়া যারা মারা গেছেন তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পোষ্যদের যাতে সরকারি চাকরিতে অ্যাকোমোডেট করার আর্জি জানানো হয়েছিলো।

৮৮ জনের মধ্যে ১৩ জন মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত, ৩৩ জন যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত। আর বাকি ৪২ জন চাকরিচ্যুত।

উল্লেখ্য, এক রায়ে হাই কোর্ট বলেছিলো, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ ছিলো সংবিধান-বহির্ভূত ও বেআইনি।