মেইন ম্যেনু

জিয়া-এরশাদ কেউ রাষ্ট্রপতি হিসেবে বৈধ নয় : শেখ হাসিনা

আদালতের রায় অনুযায়ী সাবেক সেনাশাসক জিয়াউর রহমান এবং এইচ এম এরশাদের শাসনামল অবৈধ। এ দুজনের কাউকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা বৈধ নয় জাতীয় সংসদে এমন কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

রোববার (৮ সেপ্টম্বর) সন্ধ্যায় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এরশাদের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। পরে জাতীয় সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী চলমান সংসদের সদস্য এরশাদের মৃত্যুতে অধিবেশন মুলতবি করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

শোক প্রস্তাবের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮২ সালে এরশাদকে ক্ষমতা দখল করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সমালোচনার পাশাপাশি এরশাদের ভালো কাজের প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, জাতীয় পার্টি বিরোধীদলে আসার পর গঠনমূলক সমালোচনা করেছে- গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে। গত ১০ বছরে সংসদের ওপর, গণতন্ত্রের ওপর মানুষের আস্থা ফেরাতে এ দলটি সে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জিয়া ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেননি। এরশাদ সেটি করেছিলেন। স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনারের কাজ এরশাদ শেষ করেছিলেন। ১৪ জন ছাত্রনেতার মৃত্যু পরোয়ানা ছিল তাঁদের মুক্তি দিয়েছিলেন। ব্যক্তিজীবনে এরশাদ ছিলেন অমায়িক, মানুষের প্রতি তাঁর দরদ ছিল।

বিএনপিও নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদে যোগ দেয়ায় দলটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ তাঁর স্বামী এরশাদের ভুল–ত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, এরশাদ কতটা জনপ্রিয় ছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পরও সেটা প্রমাণিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। সে সময় সব বিরোধীদল তাকে সমর্থন দিয়েছিল। আদালত এরশাদের প্রথম শাসনামলকে অবৈধ বলেছেন, তবে সে সময়ের কর্মকাণ্ড গ্রহণ করেছেন। আর দ্বিতীয় শাসনামল নিয়ে আদালত নেতিবাচক কিছু বলেননি।

সংসদে আনা শোক প্রস্তাবে বলা হয়, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে দেশ একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং নিবেদিত সমাজসেবককে হারাল।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, এরশাদ ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একনাগাড়ে প্রায় আট বছর ক্ষমতায় থাকাকালে এরশাদ দেশে অসংখ্য উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কাজ করেন।

বৈঠকের শুরুতে স্পিকার এইচ এম এরশাদ, সাবেক সাংসদ সিরাজুল ইসলাম, মুজিব নগর সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, সাবেক সাংসদ খালেদা হাবিব এবং আনোয়ারা বেগমের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

এ ছাড়া ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, ভারতের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আ ন ম শফিকুল হক, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হানিফ, কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর নুরুল ইসলাম, সমাজসেবী ঝর্ণা ধারা চৌধুরী, ভাষা সংগ্রামী খালেকুল আল আজাদ, জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক আনোয়ারুল কবির শামীমের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বন্দুকধারীদের হামলায়, সুদানে বন্যায় এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রকাশ করা হয়।



মন্তব্য চালু নেই