প্রধান ম্যেনু

টাকা পরিশোধ না করায় আ.লীগ নেতার লাশ দাফনে বাধা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মেয়ের ধারের টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলে আলহাজ নূর মোহম্মদ তালুকদার (৮২) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতার লাশ দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পাওনাদারদের বাধার মুখে শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত নূর মোহম্মদ তালুকদারের লাশ দাফন করতে পারেনি স্বজনরা। ঘটনাটি ঘটেছে আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া গ্রামে।

প্রয়াত আলহাজ নূর মোহম্মদ তালুকদার চেঙ্গুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও রাজিহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

নূর মোহম্মদ তালুকদারের ছেলে বাবুল তালুকদার অভিযোগ করেন, সাত বছর আগে তার বোন দোলন বিদেশে যায়। এসময় টাকার প্রয়োজন হলে তার বোন দোলন উপজেলার নন্দনপট্টি গ্রামের জব্বার বেপারীর ছেলে আলী হোসেন বেপারী, ওই গ্রামের হান্নান ঘরামীর ছেলে শাহীন ঘরামী ও বাঙ্গিলা গ্রামের জব্বার বেপারীর ছেলে খোকন বেপারীর কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লেখালেখি করে মোট ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা সুদে ধার নেন। বোনের ধার করা টাকা তার বাবা নূর মোহম্মদ পাঁচ বছর ধরে পরিশোধ করে আসছেন। এরই মধ্যে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। তারপরও বাবা নূর মোহম্মদ তালুকদারকে আসামি করে ৩৩ লাখ টাকা দাবি করে মামলা করেন ওই তিন পাওনাদার। ওই মামলায় তার বাবা নূর মোহম্মদ তালুকদার তার পক্ষে আদালতের রায় পান। এরপর তার বাবা নূর মোহম্মদ পাওনাদারদের কাছে থাকা স্ট্যাম্প উদ্ধারের মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।

বাবুল তালুকদার জানান, শুক্রবার ভোর রাতে বরিশাল নগরীতে তার এক আত্মীয়ের বাসায় বাবা মারা যান। শনিবার সকালে তার লাশ দাফনের জন্য নিজ গ্রাম চেঙ্গুটিয়ায় নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে দাফনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। এসময় বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে পাওনাদার আলী হোসেন বেপারী তার সহযোগী সিরাজ বেপারী তাদের বাড়ি এসে লাশ দাফনে বাধা দেয় এবং তার বাবার কাছে পাওনা টাকা পরিশোধ করে লাশ দাফন করতে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। বাবুল তার বাবার লাশ দাফনের পরে রাতে অন্য ভাই-বোনদের নিয়ে বিষয়টি সমাধান করবেন বলে জানান। পাওনাদারদের লাশ দাফনে বাধা না দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তবে পাওনাদার আলী হোসেন তাকে আগে ১৩ লাখ টাকা না দিলে লাশ দাফন করতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

উপজেলার রাজিহার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রয়াত নূর মোহম্মদ তালুকদারের ভাতিজা ইলিয়াস তালুকদার জানান, পাওনাদাররা সকাল থেকেই বাড়ি ও বাজারে ঘুরে বেড়াতে থাকেন। কয়েকবার বাড়িতে এসে লাশ দাফনে বাধা দেন তারা। এ ঘটনায় থানা পুলিশ ও স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে পুলিশ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বাদ আসর মরহুমের রাইসমিলের চাতালে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাজায় তিনিসহ উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন, ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি সাইদুল সরদার, শ্রমিক লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম সরদারসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের ওসি মো. আফজাল হোসেন জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। টাকা-পয়সার লেনদেন থাকতেই পারে। তা পরিশোধ বা আদায়েরও অনেক ব্যবস্থাও আছে। এজন্য লাশ দাফনে বাধা দেয়া এটা অমানবিক। বিষয়টি জেনেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বিকেলে জানাজা শেষে নূর মোহম্মদ তালুকদারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দাফন শেষে মরহুমের উত্তরাধিকার হিসেবে ছেলেদের দেনা-পাওনা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। ছেলে-মেয়েরা তা পরিশোধ করবে বলে জানিয়েছেন।



মন্তব্য চালু নেই