শিরোনাম:

মাদ্রাসা ছুটির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে সাংবাদিক উপর হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে আমবালা দাখিল মাদ্রাসায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার সাংবাদিক আব্দুল আলিম। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শুধু হামলা করেও ক্ষান্ত হয়নি উল্টো সাংবাদিকদের বিরূদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় অভিযোগও দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার আমবালা দাখিল মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটেছে। আহত সাংবাদিক আলিম পীরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসার ৪’জন স্টাফের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় এজাহার দাখিল করেছেন সাংবাদিক আব্দুল আলীম।

সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে পুরো পীরগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিক সমাজ।

সাংবাদিক আলিম জানান, আমবালা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিদিন দুপুর ১টার দিকে ছুটি দিয়ে থাকেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা কয়েকজন স্থানীয় সংবাদকর্মী তথ্য সংগ্রহে গিয়ে দেখি যে, দুপুর ১টা ২০ মিনিটে মাদ্রাসার সহকারী সুপার মসলিমউদ্দীন, নাইট গার্ড আবির, অফিস সহকারী জমিরুল মাদ্রাসা বন্ধ করে বাড়ি যাচ্ছিলেন।

এ সময় সাংবাদিকরা মাদ্রাসা বন্ধ থাকার ছবি তুলতে থাকেন। এই ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার নাইট গার্ড আবির, সহকারী সুপার মসলিম উদ্দিন ও অফিস সহায়ক জামিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। সেই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। এসময় সাংবাদিক আব্দুল আলিম গুরুতর আহত হয়।

আহত অবস্থায় আলিমকে সাংবাদিক মুনসুর আলী, ফাইদুল ইসলাম,আবু তারেক বাঁধনসহ স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে পীরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে মাদ্রাসার সুপার ওয়ারসুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযাগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদিন বাবুল বলেন, তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিটমাট না হলে বড় ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে আন্দোলন শুরু হবে।

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু তারেক বাঁধন বলেন, সাংবাদিকের উপর হামলার বিষয়ে আমরাও পীরগঞ্জ থানায় মামলার জন্য এজাহার দিয়েছি। সন্ধ্যায় আমাদের মিটিং আছে থানা মামলা না নিয়ে গ্রেফতার করলে লাগাতার মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন, এ রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছেন। তিনি দুই পক্ষেই নিয়ে বসার
কথা বলছেন।

পীরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুই পক্ষেই এজাহার দিয়েছেন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।