শিরোনাম:

ডিআরইউ পুরস্কার জিতলেন একাত্তরের জৈষ্ঠ প্রতিবেদক নয়ন আদিত্য

ডিআরইউ পুরস্কার জিতলেন একাত্তরের নয়ন আদিত্য
একাত্তর টেলিভিশনের জেষ্ঠ প্রতিবেদক আদনান খান (নয়ন আদিত্য) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন ‘ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২২’ বিজয়ী হয়েছেন। এবারের আয়োজনে চারটি ক্যাটাগরিতে ১০টি পুরস্কারের জন্য ১১জন সদস্য বিজয়ী হয়েছেন।

শনিবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ডিআরইউ কার্যালয়ে জুরি বোর্ডের সদস্যদের কাছ থেকে প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি শাহজাহান সরদার ফলাফল ঘোষণা করেন।

নয়ন আদিত্য তার ‘স্বাস্থ্য সেবায় সংক্রমণ’ বিষয়ক প্রতিবেদেনের জন্য ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বিভাগে ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জেতেন। পুরস্কার পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নয়ন আদিত্য বলেন, ভালো কাজে স্বীকৃতি আগামীতে আরও ভালো করতে উৎসাৎ দেবে।

তিনি জানান, প্রতিবেদন তৈরির পেছনে ক্যামেরাপার্সন, ভিডিও এডিটর থেকে শুরু একাত্তরের সব স্তরের সহকর্মীদের কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি। এজন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসাও জানিয়েছেন নয়দ আদিত্য।

ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২২ বিজয়ীরা হলেন-

মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে: রাজীব নূর (সমকাল) ‘ইতিহাসের ছেড়া পাতা’ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য।

প্রিন্ট মিডিয়া

প্রথম: আবু যর আনছার উদ্দীন আহাম্মদ (রাজীব আহাম্মদ) (সমকাল) ‘কেমন আছেন প্রবাসী মা ও তাদের সন্তান’ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য।

দ্বিতীয়: মো: ইসমাইল আলী (দৈনিক শেয়ার বিজ) বিদ্যুৎ খাত নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য।

তৃতীয় (যুগ্মভাবে): মোহাম্মদ জামিল খান (ডেইলি স্টার) ‘ইভ্যুলেশন অব সাইবার ক্রাইম’ এবং ওবায়দুল্লাহ রনি (সমকাল) ‘তরল গ্যাসে গরল হিসাব’ প্রতিবেদেনের জন্য।

অনলাইন মিডিয়া

প্রথম: শাহ্ আলম খান (নিউজবাংলা২৪ডটকম) চিকন চালের জৌলুসেও কমেনি মোটা চালের ভোক্তা প্রতিবেদনের জন্য।

দ্বিতীয়: আবু মো. ফায়েজুল আরেফিন তানজীব (চ্যানেল আই-অনলাইন) যানজটে নাকাল রাজধানীর মানুষ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য।

তৃতীয়: আবু সালেহ সায়াদাত (ঢাকা পোস্ট ডটকম) পুলিশ-কাউন্সিলরের ‘সৃজনশীল’ চাঁদাবাজি! প্রতিবেদনের জন্য।

ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া

প্রথম: মুকিমুল আহসান হিমেল (চ্যানেল ২৪) এনআইডির জিন্দা লাশ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য।

দ্বিতীয়: মো: আদনান খান (নয়ন আদিত্য) (একাত্তর টিভি) ‘স্বাস্থ্য সেবায় সংক্রমণ’ বিষয়ক প্রতিবেদেনর জন্য।

তৃতীয়: মো. নূর হোসেন বিশ্বাস (নূর সিদ্দিকী) (মাছরাঙা টিভি) খেলা স্থগিতের পর পোশাক ক্রয় বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য।

ডিআরইউ সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব এক বিবৃতিতে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান। তারা বলেন, দৈনিক বাংলার সহযোগিতায় ১ নভেম্বর, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় ডিআরইউ নসরুল হামিদ মিলনায়তনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক বাংলার প্রকাশক চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

এবার সাংবাদিক, সাংবাদিকতার শিক্ষক ও প্রশিক্ষকসহ মোট ১২জন জুরি বোর্ডের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে জুরি বোর্ডের সদস্যরা হলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক জুনায়েদ আহমেদ হালিম, বার্তা২৪ডটকম এর সম্পাদক আলমগীর হোসেন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলফিকার আলি মাণিক।

প্রিন্ট মিডিয়ার জুরি বোর্ডে ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহম্মেদ, দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্লানিং এডিটর আসজাদুল কিবরিয়া।

অনলাইন ক্যাটাগরিতে ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সময় টিভির সম্পাদক (ওয়েব) মাহফুজুর রহমান ও মাছরাঙা টিভির বার্তা প্রধান রেজোয়ানুল হক রাজা।

ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে জুরি বোর্ডে ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া, গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের বাংলা এডিটর মিরাজ আহমেদ চৌধুরী ও নিউজ২৪-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী।

জুরি বোর্ডের সদস্যরা রিপোর্টের প্রেক্ষিত, বিষয়ের নতুনত্ব ও গুরুত্ব, তথ্য ও সূত্রের ব্যবহার, ভাষা ও পরিবেশন ভঙ্গি, যুক্তি ও লেখার কাঠামো এবং নিজস্ব অনুসন্ধান এসব বিষয়গুলো মাথায় রেখে নম্বর প্রদান করেন। টেলিভিশনের জন্য ভিডিওর ব্যবহারও গুরুত্বে নেন তারা।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধ, প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ক্যাটগরিতে ১০টি পুরস্কারের জন্য ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ থেকে ৩১ আগস্ট ২০২২ এর মধ্যে প্রকাশিত/প্রচারিত প্রতিবেদন জমা নেয়া হয়।

প্রতিটি ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কারের মূল্যমান এক লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কারের মূল্যমান ৭৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কারের মূল্যমান ৫০ হাজার টাকা। রাষ্ট্রপতির সৌজন্যে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বিষয়ক অ্যাওয়ার্ডের মূল্যমানও এক লাখ টাকা। অর্থের সাথে প্রতিটি পুরস্কারে সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট দেয়া হবে।