মেইন ম্যেনু

ডিমলায় বাছুরসহ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডাঙ্গারহাটে বাছুরসহ গরু জবাই করে সেই মাংস (গোস্ত) বিক্রয় করায় কসাইদের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরেুদ্ধেও অভিযোগ করে এলাকাবাসী বলেন, নিয়মিত তদারকি কিংবা ভোক্তা অধিকার আইনে মোবাইল কোর্ট না থাকায় ভোক্তারা চরম বিপাকে পরেছে। প্রতারিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের কবলে পরে।

গত ৬ জুলাই’১৮ (বৃস্পতিবার) ডাঙ্গারহাটে কসাই খানায় বাছুরসহ গরু জবাই করেন কসাই শুকুর আলী ও সমছেরসহ ৫/৬ জন। ঐদিন জবাইকৃত গরুর পেট থেকে বাছুর বের হলে এসব অসাধু কসাইরা বাছুররটি একটি ব্যাগে করে ভিতরে বাজারেই মুরগীর মাংস বিক্রেতা জুয়েল এর দোকানে গোপনে লুকিয়ে রাখে বাছুরটি। ঐ গরুর মাংস বিক্রয় করতে থাকে কসাইরা। এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বালাপাড়া ইউপি’র গ্রাম পুলিশ ধওলা ও আতাউর রহমানের সহযোগীতায় বাছুরটি উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা সরজমিনে গিয়ে বাছুরসহ মাংস বিক্রেতা শুকুর আলীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জবাইকৃত গরুর পেটে বাছুরের কথা বলে স্বীকার করে বলেন এটা আমাদের ভূল হয়েছে। এ সময় শতশত হাটের লোকজন কসাইদের বিচারের দাবীতে ক্ষোভে ফেটে পরেন। শাস্তি দাবী করেন তাদের । জবাইকৃত গরুর পেটে থাকা বাছুরটি উদ্ধার করে গ্রাম পুলিশ ধওলা ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে জমা রাখেন।

এ ব্যাপারে তাৎক্ষনিক বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল হক ভুইয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি ঢাকার পথে রওনা হয়েছি। ফিরে এসে কসাইদের নিয়ে বসা হবে।বিষয়টি নিয়ে কথা হয় উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর ওহিদুজ্জামান এর সাথে তিনি বলেন, এমনটা করে থাকলে কসাইদের বিরেুদ্ধে মামলা করা হবে।

এ বিষয়ে ডিমলা থানার অফিসার্স ইনচাজ (ওসি) মফিজ উদ্দিন শেখ মুঠোফোনে জানান, আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পঠিয়েছি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন নাহার বলেন, আমি দেখছি বিষয়টি। প্রয়োজনে প্রশাসন গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ শুধু ডাঙ্গারহাটে নয় উপজেলার সর্বত্রই এখন কসাইদের কাছে সাধারণ ভোক্তারা জিম্মি হয়ে পড়েছে। কসাইরা হর হমেশাই বে-পড়োয়া ভাবে এসব অসুস্থ্য গরু, ছাগল,ভেড়া ও মহিস জবাই করে সেই মাংস বিক্রি করছে। যেন দেখার কেউ নেই। শুধু তাই নয় এসব অসাধু কসাইরা অধিক লাভের আশায় সুযোগ পেলেই গরুর মাংসের সাথে মহিসের ও ছাগলের মাংসের সাথে ভেরার মাংস মিশিয়ে বিক্রি করছে। তাছাড়াও কসাইরা এখন মাংস বিক্রি করতে না পারলে ঐ মাংস ফ্রিজে রেখে পরের কিংবা ২/৩ দিন পরেও সেই মাংসের সাথে মাংস মিশিয়েও বিক্রি করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করে হাট-বাজারগুলোতে আরো বেশী তদারকি বাড়িয়ে অসাধু কসাই মাংস ব্যবসায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে জোর দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা।



মন্তব্য চালু নেই