মেইন ম্যেনু

ডিসি ইব্রাহিম খান যে কারণে বরখাস্ত

শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইব্রাহিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে ডিসি ইব্রাহিমের বরখাস্তের বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা মুখ খুলছেন না।

তবে পুলিশ সদরদফতর সূত্রে জানা যায়, আজাহারুল ইসলাম খান নামের এক ব্যক্তি পুলিশ সদরদফতরে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে পুলিশ সদরদফতর। আর ঐ ব্যক্তির অভিযোগের সত্যতা মেলে তদন্ত প্রতিবেদনে।

সূত্র বলছে, এক শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের বাড়ি ভাঙা ও জমি দখলের সময় বাধা দেননি ডিসি ইব্রাহিম। তাই দায়িত্বে অবহেলা ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, পুরান ঢাকার নবাবপুরে স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত শহীদ একেএম সামসুল হক খানের পরিবারের নামে বরাদ্দ দেওয়া সরকারি জমিতে তিন তলা একটি ভবন জবরদখল ও ভবন ভেঙে ফেলে ৩০ থেকে ৩৫ জন সন্ত্রাসী।

এ বিষয়ে বংশাল থানা ও জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে পরিবারটি। তাদের সম্পত্তির দাম ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা।

সূত্র আরও জানায়, শহীদ সামসুল হক খানকে ২০১০ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেয় সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে সামসুল হক খানের মা মাসুদা খানকে ঢাকার নবাবপুর রোডের ২২১ নম্বর হোল্ডিংয়ে চার কাঠার প্লটটি ইজারা দেন।

পরে তার উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলে আজহারুল হক খানকে ঐ জমি হস্তান্তর করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ঐ জমিতে মাসুদা করপোরেশন ও এসএইচকে করপোরেশন নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।

সর্বশেষ ২৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় জাবেদ উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী ঐ জমি দখল করে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে ৩০ থেকে ৩৫ জন সন্ত্রাসী ছিল।

ঐ ঘটনার পরদিনই শহীদ পরিবারের লোকজন বংশাল থানায় এক মামলা করেন। কিন্তু থানা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পুলিশের লালবাগ জোনের তৎকালীন ডিসি ইব্রাহিম খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা। এতেও কোনো কাজ হয়নি।

এ ঘটনায় পুলিশ সদরদফতরে ডিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে পরিবারটি। অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি করে পুলিশ সদরদফতর। তদন্ত কমিটি ডিসি ইব্রাহিম খানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, তদন্তে অসহযোগিতা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পায়।

ডিসি ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের ২৩ মে পুলিশ সদরদফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি আমিনুল ইসলাম তাকে একটি চিঠি দিয়ে এসব অপরাধের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চান।

ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডিসি ইব্রাহিমকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করে পুলিশ সদরদফতরে।



মন্তব্য চালু নেই